রহস্য ঘর:- এরিয়া ৫১ এ কি এলিয়েনরা থাকে! এলিয়েন নিয়ে আরো কিছু কথা।।

এরিয়া ৫১!
এরিয়া ৫১ অনেকদিন ধরেই বিখ্যাত। এর কারণ হলো এখানে ঘটা কিছু রহস্যময় ঘটনা। এসব রহস্যময় ঘটনা গুলোর মধ্যে UFO ক্রাশ,এলিয়েন দের উপর এক্সপেরিমেন্ট,মানুষ এবং এলিয়েন এর মিল ঘটিয়ে হাইব্রিড জাত তৈরি করা..মানুষের মাথা নাড়িয়ে দেয়। এরিয়া ৫১ কি তা জানতে চাইলে উইকিপিডিয়াতে দেখতে পারেন। আমি বাইরের কিছু কথা বলছি যা উইকিপিডিয়াতে পাবেন না।
রজওয়েল এর ব্যাপারে হয়তো অনেকেই শুনেছেন। রজওয়েল UFO ক্রাশ এর জন্য বিখ্যাত। ব্যাপার টা একটু খোলাসা করি।
৮ জুলাই ১৯৪৭
দুপুরের দিকে একটি অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু (UFO) মাটিতে আছরে পরে। অনেকের মতে ওই UFO তে ৩ টি এলিয়েন ছিল যাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত পাওয়া যায় এবং একজনকে জীবিত। জীবিত এলিয়েন বা ভিনগ্রহী প্রাণিটিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরিয়ে ফেলে। অনেকের মতে তারা এর উপর বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করছে এখনো। কিন্তু সত্যি টা কি তা প্রমাণ সহ কেউ এখনো বলতে পারেনি,প্রমাণ দেখালেও তা কিছুদিনের মধ্যে চাপা পরে যায়।
ঠিক ওই বছরই এরিয়া ৫১ এর একজন একটা ছবি প্রকাশ করে। যে ছবিটি ছিল একটা এলিয়েনের। এলিয়েন নিয়ে এর আগেও অনেক ছবি বের করা হয়েছে,কিন্তু তার প্রায় প্রত্যেকটি ছিল বানোয়াট,ফটোশপ করা। কিন্তু এই ছবিটি ছিল একেবারে আসল। ছবিটি তোলা হয় ১৯৪৭ সালে এবং এটি কোন ফটোশপ করা নয়। যার প্রমার নিউইয়র্ক এর কোডাক ইতিহাসবিদ এর বক্তব্য। ছবিটিতে দেখা যায় একটি এলিয়েন শুয়ে আছে,এর উচ্চতা প্রায় চার ফিট। এটি যে মিথ্যা তা আজও কেউ প্রমাণ করতে পারেনি আবার সামনাসামনি দেখিয়েও এর সত্যতা প্রকাশ করতে পারেনি
.
অনেকে বলে থাকেন এরিয়া ৫১ এ মানুষ এবং এলিয়েন নিয়ে সিক্রেট গবেষণা করা হয়। এখানে এলিয়েন এবং মানুষের ডিএনএ দ্বারা এক অন্যরকম প্রাণী তৈরি করা হয় যা মানুষের থেকে কয়েক গুণ বেশি বুদ্ধিমান। কিন্তু এর সত্যতা কটটুকু কে জানে! এসব কথার প্রমাণ আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি,মুখে মুখেই চলে আসছে শুধু। এই তথ্যের পেছনে আরেকটা যুক্তি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এক্সপেরিমেন্ট গুলো লুকিয়ে করে। অন্যদের চোখের সামনে তা পরতে দেয় না। তাহলে তারা কেন এইরকম একটা তথ্য নিজেরাই প্রচার করবে যেখানে সরাসরি এলিয়েন সম্পর্কে বলা হচ্ছে? হ্যা এই তথ্যটি তারা নিজেরাই প্রচার করেছিল।
এ থেকেই বোঝা যায় হাইব্রিড মানুষ বা এলিয়েন এবং মানুষ মিলিয়ে কোন প্রাণী তৈরি করার ব্যাপারটা একেবারেই মিথ্যে এবং বানোয়াট। হয়তো তারা অন্য কোন কিছুর উপর পর্দা দেওয়ার জন্য এইরকম একটা খবর ছড়িয়েছিল যাতে সবাই এই দিকেই ঝুকে পরে! কিন্তু এখনো কথাটা একটা “হয়তো” এর উপরই রয়ে গেছে। যুক্তিযুক্ত প্রমাণ নেই।

আমরা তো টম এন্ড জেরি দেখেছি,তাই না? চির শত্রু তারা। কিন্তু একজন আরেজনকে ছাড়া থাকতেই পারেনা। যাকগে যেটা বলতে চাচ্ছিলাম,ওই কার্টুনে আমরা একবার দেখেছিলাম এলিয়েন টম এন্ড জেরি পৃথিবী থেকে গরু,মুরগি এসব জিনিস তুলে নিয়ে যায় 😀 । বলতে গেলে অপহরণ করে। বাস্তবেও এমন ঘটনার কথা শোনা যায়,যেখানে কোন এক এলিয়েন যান বা UFO মানুষকে তুলে নিয়ে যায় কিন্তু পরে আবার ফেরত দিয়ে যায়। অনেকেই বলেছে তাদের এলিয়েন তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের উপর বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু স্পষ্ট ভাবে কিছু বলতে না পারায় তাদের কথা গুলো মিথ্যে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৬১ সালের এক ঘটনার পর এই বিষয় গুলোকে মিথ্যে বলার আগে দুবার ভাবায়।
১৯৬১ সালে নিউ ইংল্যান্ড এর এক দম্পতীকে এলিয়েন তুলে নিয়ে যায় এবং তাদের UFO তেই অনেক পরীক্ষা করা হয়। পরে তাদের আবার ফেরত দিয়ে যায় এলিয়েনরা,এমনটা বলে ওই পরিবারের এক মহিলা। বিষয়টি কতটুক সত্যি তা দেখার জন্য ওই মহিলাকে হিপ্নোটাইজ করা হয়,সত্য জানার জন্য। মানুষ যতই মিথ্যে বলুক,হিপ্নোটাইজ অবস্থায় মিথ্যে বলতে পারেনা। মহিলাটিকে হিপ্নোটাইজ করার পর তিনি বলেন,তিনি ওই UFO এর ভেতর থেকে মহাকাশের কিছু তারা দেখেছিল। মহিলাটি হিপ্নোটাইজ অবস্থায় একটি স্টার ম্যাপের ছবি একে দেয়। কিন্তু এই ছবিটি যখন আঁকা হয় তখন প্রযুক্তি তেমন উন্নত ছিল না। তার কথায় সত্যতা যাচাই করার তেমন কোন উপায় ছিল না।
পরবর্তীতে এক স্কুল শিক্ষক লোহার তার এবং পুতি দিয়ে ওই স্টার মেপের একটি মডেল তৈরি করেন। এবং নিজের মত গবেষণা শুরু করেন। অনেক গবেষণার পর ওই স্টার ম্যাপটি দক্ষিণ মহাকাশের জেটারেটিক্যুলার স্টার সিস্টেমের সাথে মিলে যায়। এ নিয়ে সবাই আবার ভাবনায় পরে যায়। কারণ যখন ছবিটি আঁকা হয় তখন এতো নিখুঁত ভাবে স্টার সিস্টেম সম্পর্কে জানা ওই মহিলার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তহলে কি সত্যি ঐ দম্পতিকে এলিয়েন তুলে নিয়ে গেছিল?
.
এসব তথ্য এক রহস্যের জালেই আটকে আছে। কিছু রহস্যের জট খুলে গেলেও তা লুকিয়ে ফেলা হয়। মানুষের চোখের আড়াল করা হয় এসব তথ্যকে।
সত্য মিথ্যা যাচাই করার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ নিজের উপর। এগুলোকে যেমন পুরোপুরি সত্য প্রমাণ করতে পারেনি কেউ তেমনই কেউ মিথ্যেও প্রমাণ করতে পারেনি।
.
আর না ভাই। আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। দুইদিন পর অন্য কোন রহস্য নিয়ে আসবো।

লেখা: Sumit Sm

ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
পোস্ট’টি ভালো লাগলে কমেন্টে জানাবেন। আমারটিপ্সতে রহস্য নিয়ে এমন আলোচনা হয়না তেমন, আমি মনে করে সব কিছুর পাশাপাশি এই জিনিস গুলো নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত। জ্ঞান সব জায়গাতেই আছে, খুজে নিতে হয় শুধু। 🙂

Leave a Reply