এবার লিনাক্স চালানো আরো সহজ-বাংলায় শিখুন লিনাক্স কমান্ড-প্রতিটা কমান্ড এর কি কাজ এবং তা নিয়ে বিস্তারিত কথা।

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন আগামী দিনের মত আজকেও আমি একটি নতুন টিউটোরিয়াল নিয়ে হাজির হলাম।  আমি মুলত লিনাক্স নিয়ে লিখতে ভালোবাসি এবং লিনাক্স সম্পর্কিত তথ্য আপনাদের কাছে সেয়ার করতে আমার কাছে ভালো লাগে।

তাহলে আসা যাক মুল টপিকস এ আমি আজকে যে বিষয় গুলু জানাবে তা হচ্ছে লিনাক্স এর কিছু বেসিক কমান্ড এবং কিছু এডভান্স কমান্ড এর কাজ।  কমান্ড নিয়ে বাংলায় তেমন কুনু টিউটোরিয়াল আমি দেখনি তাই আজকে লিখতে বসে গেলাম।  অনেকেই হয়ত জানেন কুন কমান্ড এর কি কাজ তবুও আমার এই পোস্ট নতুন্দের জন্য কাজে লাগবে।

তাহলে সবার আগে জানা জাক লিনাক্স ডিস্ট্র কি?

আমরা সাধারনত জানি উইন্ডোজের কার্নেল বিনাপয়সায় পাওয়া তো যায়ই না এমনকি টাকা খরচ করলেও মাইক্রোসফট থেকে পাওয়া যায়না। তাই কেউ ইচ্ছা করলেই উইন্ডোজের কার্নেলের সাথে বিভিন্ন সফটওয়ার জুড়ে দিয়ে নিজের মত কোন অপারেটিং সিস্টেম বানাতে পারেনা। ফলে মাইক্রোসফট ছাড়া আর কেউ উইন্ডোজ কার্নেলের উপর নির্মিত কোন অপারেটিং সিস্টেম বানাতে পারেনা।

 

অন্য দিকে লিনাক্স কার্নেল বিনা পয়সায় পাওয়া যায়, তাই যে কেউ সেটার সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রাম জুড়ে দিয়ে একটা অপারেটিং সিস্টেম বানাতে পারে। শুধু তাই না ইচ্ছা করলে সেই কার্নেলকে আপনি আপনার মত পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারবেন।

তাই দেখা যায় বিভিন্ন ব্যাক্তি/কম্পানি লিনাক্স কার্নেল দিয়ে নিজেদের মত করে অপারেটিং সিস্টেম বানায়।

লিনাক্স কমান্ড এবং এগুলুর কাজ:::

এগুলা সুধু নতুনদের জন্য এবার আসা যাক কিছু এডভান্স লেভেল এ।।

সিস্টেম সম্পর্কিত  – ৭ টি

 

ps – সিস্টেমে চলমান সব প্রসেস সম্পর্কে সব তথ্য দেখায়।
top – সিস্টেমে চলমান টপ প্রসেসগুলো সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেখায়।
df – কোনো ফাইল সিস্টেমে কতটুকু জায়গা ব্যবহৃত হয়েছে তা স্ক্রীনে দেখায়।
hostname – বর্তমানে কম্পিউটারের যে হোস্ট (সোজা কথায় ইউজার) তার নাম দেখায়।
uptime – কতক্ষণ ধরে মেশিন চলছে তা দেখায়। সার্ভার পরিচালনার জন্য এটি অনেক কাজে আসে।
date – স্ক্রীনে ঠিক সে সময় কি দিন, কি বার, কি সময় তা দেখান। বিশেষ আর্গুমেন্ট ইনপুট দিয়ে স্ক্রীনের আউটপুট পরিবর্তন করা যেতে পারে।
htop – এটি একটি টেক্সট বেজড ইন্টারফেস বিশিষ্ট সিস্টেম প্রসেস মনিটর। অনেকটা টাস্ক ম্যানেজারের কমান্ড লাইন বা টেক্সট বেজড ভার্সন। এটি আমার বেশ পছন্দের একটি প্রোগ্রাম।

উল্লেখযোগ্য আরও কমান্ড – ৮ টি

 

apt-get – মূলত এটি একটি অ্যাডভান্স প্যাকেজিং টুল।  এটি ব্যবহার করে সফটওয়্যার প্যাকেট ইন্সটল করা, মুছা এবং কনফিগার করা যায়।  আর টেক্সট বেসড ইন্টাফেস (টুই) চাইলে ডেবিয়ান ভিত্তিক ডিস্ট্রোর জন্য aptitude কমান্ড আছে।

ftp এবং sftp – এফটিপি সার্ভারের সাথে কানেক্ট এবং অনেকগুলো ফাইল ডাউনলোড করতে ব্যবহৃত হয়।

wget – ইউজার প্রদত্ত ইউআরএল থেকে ফাইল ডাউনলোড করে।

emacs এবং gedit – আমার পছন্দের এবং অন্যতম একটি টেক্সট এডিটর এবং আইডিই।

nano – নবীনদের জন্য একটি ইউজার ফ্রেন্ডলী টেক্সট এডিটর। প্রোগ্রামিংয়ের জন্য আমার সবচেয়ে পছন্দের টেক্সট এডিটর। (আগে ছিল। এখন vim বেশি ব্যবহার করা হয়।)

vim – vi টেক্সট এডিটরে উন্নত ভার্সন, দু’টোই ইউনিক্স-লাইক অপারেটিং সিস্টেমের জন্য কমান্ড লাইন টেক্সট এডিটর। যদিও এটির গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস বা বাটন, আইকন নেই তবুও নবীনদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় ইউজার ফ্রেন্ডলী টেক্সট এডিটর। 

 

 

ফাইল হ্যান্ডেলিং – ১৪ টি

 

cp – ফাইল কপি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।   
rm – ফাইল এবং ডিরেক্টরি মুছে ফেলতে ব্যবহৃত হয়।
find এবং locate – ফাইল অনুসন্ধান করতে ব্যবহৃত হয়।
mv – সাধারণত একটি ফাইল এক  ডিরেক্টরি থেকে অন্য ডিরেক্টরিতে নিয়ে যেতে ব্যবহৃত হয়।
 tar – প্রদত্ত আর্গুমেন্ট ইনপুটের উপর ভিত্তি করে .tar আর্কাইভ তৈরি এবং .tar আর্কাইভ সম্প্রসারণ করে।
zip এবং unzip – প্রদত্ত আর্গুমেন্ট ইনপুটের উপর ভিত্তি করে .zip আর্কাইভ তৈরি এবং .zip আর্কাইভ সম্প্রসারণ করে।
7za – প্রদত্ত আর্গুমেন্ট ইনপুটের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন আর্কাইভ(7z, zip, tar ইত্যাদি)  তৈরি করে এবং এসব আর্কাইভ সম্প্রসারণ করে।
bzip2 – প্রদত্ত আর্গুমেন্ট ইনপুটের উপর ভিত্তি করে .bz2 আর্কাইভ তৈরি এবং .bz2 আর্কাইভ সম্প্রসারণ করে।
chmod এবং chown – chmod দিয়ে এক বা একাধিক ফাইলের অ্যাকসেস পার্মিশন পরিবর্তন করা হয়।  
chown দিয়ে বিশেষ কোনো ফাইলের মালিকানা(ওনাশীপ) পরিবর্তন করা যায়। যে সকল ইউজারদের ফাইলের অ্যাকসেস পার্মিশন বা ওনাশীপ পরিবর্তন করার অ্যাকসেস আছে তারাই শুধু এই কাজ করতে পারবে।
grep – ইউজার প্রদত্ত একটি লাইন(স্ট্রিং) সবগুলো ফাইলের মধ্যে অনুসন্ধান করে এবং যে যে ফাইলের মধ্যে ঐ লাইন পাওয়া যায় তা প্রদর্শন করে।
install – সিস্টেমে একটি ফাইল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কপি করা জন্য makefile-এর সাথে ব্যবহৃত হয়। (দয়া করে, সফটওয়্যার রিপোজিটরি থেকে প্যাকেজ ইন্সটল করার সঙ্গে বিভ্রান্ত হবেন না।)
mkdir এবং rmdir – mkdir দিয়ে ডিরেক্টরি তৈরি করা হয় এবং  rmdir দিয়ে ডিরেক্টরি মুছে ফেলা হয়। ইউজারের অ্যাকসেস পার্মিশন  থাকলেই কেবল সে ডিরেক্টরি তৈরি কিংবা মুছে ফেলতে পারবে।

image

image

md5sum/sha1sum/sha256sum – ফাইলের সাধুতা বা সম্পূর্ণতা পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

আজকের টিউটোরিয়াল টি কেমন হল জানাতে ভুলবেন না। সব কমান্ডের স্ক্রিনশট দিতে পারিনি তাই অত্যন্ত দুক্ষিত। এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।  আজকের জন্য এখানেই সমাপ্ত।  পরবর্তী টিউন এর জন্য অপেক্ষা করুন এবং সাহায্য লাগলে।
ফেইসবুক আমি

Leave a Reply