রোজার ফজিলত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস ও শিশুদের রোজার অভ্যাস সম্পর্কে হাদিস

আসসালামুয়ালাইকুম


রোজার ফজিলত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদিস ও শিশুদের রোজার অভ্যাস সম্পর্কে হাদিস

রোজার নিয়ত: রোযার নিয়ত করা ফরয। নিয়ত অর্থ সংকল্প। যেমন মনে মনে এ সংকল্প করবে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামী কালের রোযা রাখছি। মুখে বলা জরুরি নয়। হাদীস শরীফে আছে,
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ সকল আমল নিয়তে উপর নির্ভরশীল। (বুখারি: ১/২)

রোজার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রোজার  মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা। (সূরা বাকারা: ১৮৩) আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সকল প্রকার নাফরমানী কাজ থেকে দূরে থাকার নামই তাকওয়া। হাদীস শরিফে এসেছে, আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন,

الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلا يَرْفُثْ وَلا يَجْهَلْ وَإِنْ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ، إِنِّي صَائِمٌ রোজা ঢাল, ‎সুতরাং তোমাদের কেউ রোজা অবস্থায় হলে সে যেন অশ্লীলতা ও মুর্খতা পরিহার করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয়, সে যেন বলে, আমি রোজাদার, ‎আমি রোজাদার। (বুখারি: ১৭৯৫ মুসলিম: ১১৫১)


সাহরির ফযিলত: আবু সায়িদ খুদরি রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ فَلا تَدَعُوهُ وَلَو أَنْ يَجرَعَ أحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ ومَلائِكتَهُ يُصَلُّونَ عَلى المُتسَحِّرينَ

সাহরি বরকতময় খানা, তোমরা তা ত্যাগ কর না, যদিও তোমাদের কেউ একঢোক পানি গলাধঃকরণ করে, কারণ আল্লাহ সেহির ভক্ষণকারীদের ওপর রহমত প্রেরণ করেন ও ফেরেশতাগণ তাদের জন্য ইস্তেগফার করেন। (আহমদ: ৩/১২, জামে সগির: ৪৮০১)

সূর্যাস্তের পর দ্রুত ইফতার করার ফযিলত: ইব্‌ন মাজার এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطرَ، عَجِّلُوا الفِطرَ فَإِنَّ اليَهودَ يُؤَخِّرُونَ

লোকেরা কল্যাণে অবস্থান করবে, যাবত তারা দ্রুত ইফতার করবে। তোমরা দ্রুত ইফতার কর, কারণ ইহুদিরা বিলম্ব করে। (সুনানে ইব্‌ন মাজাহ: ১৬৯৮)

শিশুদেরকে রোজার অভ্যাস করানো: বড়দের উচিত শিশুদেরকেও রোজার ফযিলত শুনিয়ে উদ্ধুদ্ধ করা। সাহরির সময় একটু কষ্ট করে হলেও তাদেরকে জাগিয়ে দেওয়া। এটা অবশ্যই তাদের প্রতি কল্যাণকামনা।

দেখুন সাহাবায়ে কেরাম কীভাবে শিশুদেরকে রোজা রাখাতেন। এক হাদীসে আছে,

ونصوم صبياننا، ونجعل لهم اللعبة من العهن، فإذا بكى أحدهم على الطعام أعطيناه ذاك حتى يكون عند الإفطار

আমরা আমাদের শিশুদেরকে রোযা রাখাতাম এবং তাদের জন্য উনের খেলনা বানিয়ে দিতাম। যখন তারা খাদ্যের জন্য কাঁদত তাদের সেই খেলনা দিতাম। এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। (বুখারি: ১৯৬০)

আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply