ইন্টারনেটের মালিক কে…? এটি কিভাবে কাজ করে Who owns the internet …? How it works

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

ইন্টারনেটের মালিক কে…? এটি কিভাবে কাজ করে


বর্তমান যুগে আমরা দুই তিন ঘন্টা না খেয়ে থাকতে পারি। অথবা সারারাত না ঘুমিয়েও থাকতে পারি। অথচ ইন্টারনেট ছাড়া আমরা একটা মুহুর্তে ও কল্পনা করতে পারিনা। কিন্তু আপনার মনে কি কখনো এই প্রশ্নটা আসেনি যে এই ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে। কিভাবে এটি আমাদের ডিভাইস পর্যন্ত আসে। অথবা এই ইন্টারনেটর মালিক কে…? কে পরিচালনা করে এই ইন্টারনেট। এরকম আরো রোমাঞ্চকর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি এই আর্টিকেলে অনুরোধ করবো আর্টকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।।

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর প্রতেকটিদেশে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন কিভাবে এই ইন্টারনেট আপনার কাছে পৌঁছে। সাধারণ ভাবে আমার সকলে মনে করি যে ইন্টারনেট সেটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে কিন্তু বাস্তবটা একেবারে ভিন্ন। শতকরা ৯৯ ভাগ ইন্টারনেট কাজ করে অপটিক্যাল ফাইবারের সাহায্যে। এই অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে উপতত্ত্ব সরুকাচের তন্ত্র বিশেষ। যেটা মানুষের চুলের থেকেও সরু।

এখন আপনাদের মনে এই প্রশ্নটা আসতে পারে যে মোবাইল ব্যবহারের সময় তো আমাদের মোবাইলের সাথে কোন কেবল বা তার যুক্ত থাকেনা। তাহলে আমি কেনই বা কেবলের কথা বললাম। আসলে বিষয়টা হচ্ছে যে টাওয়ার থেকে আমাদের মোবাইলের নেটওয়ার্ক আসে সে টাওয়ার থেকে আপনি যে ওয়েব সাইট Browsing করছেন সেখানকার Servers পর্যন্ত কেবল বিছানো থাকে। এবার আমি বিষয়টা বিস্তারিতভাবে বলবো যে ঠিক কিভাবে এবং কোন কোন ধাপে ইন্টারনেট কাজ করে। ইন্টারনেট আমাদের কাছে পৌঁছে মুলত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ধাপে। এই তিনটি স্তরকে বলা হয় Tier 1,Tier 2,Tier 3

Tier 1 এ যেসব কোম্পানি গুলো রয়েছে তারা নিজস্ব অর্থয়ায়নে সমুদ্রের তলদেশ একদেশ থেকে আরেক দেশে জালের মতো অপটিক্যাল ফাইবার বিছিয়ে রেখেছে। এভাবে একটিদেশ বাকী অন্য দেশগুলো ক্যাবলের সাহায্যে যুক্ত হয়ে যায়। তারা পর দেশ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্টানে বা জেলার এই অপটিক্যাল ফাইবার গুলো বিভক্ত হয়ে যায়। তারপর সব শেষে আপনার এলাকায় টাওয়ার পৌঁছে। এবং সেখান থেকেই আপনি ক্যাবল বিহীন ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক সংযোগ পেয়ে থাকেন। এবার বিষয়টা আরেটু প্র্যাকটিক্যাল বুঝার চেষ্টা করবো।

যে ছবি আপনারা দেখছেন ঠিক এভাবে সমুদ্রের তলদেশ অপটিক্যাল ফাইবার গুলো বিছানো হয়।এই অপটিক্যাল ফাইবার গুলো চুলের মতো সরু হলেও এগুলোর ডাটা Transfer ক্ষমতা 6GBps। আগেই বলেছিলাম যারা এই ডাটা ক্যাবল গুলো বিছানোর কাজ করে তারা Tier 1 কোম্পানি। এবং তারা নিজের খরচে কাজ করে। বাংলাদেশ এমনি একটি কোম্পানি হচ্ছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড। এবার আমরা একটি ওয়েব সাইট দেখবো যেখানে সারা পৃথিবীজুরে যত অপটিক্যাল ফাইবার গুলো বিছানোর রয়েছে তা আপনি দেখতে পারবেন।

এই ক্যাবল গুলো দিয়ে পুরো পৃথিবীকে কানেক্ট করেছে তারাই হচ্ছে Tier 1 কোম্পানি। Map এর দিকে যদি আমার খেয়াল করি তাহলে আমরা দেখতে পারবো বাংলাদেশ

এই দুটো Lending পয়েন্ট রয়েছে। একটি হচ্ছে কুয়াকাটা ও অন্যটি হচ্ছে Cox’s Bazar এখন আপনি যদি কোন ওয়েব সাইট ভিজিট করেন সেটির Servers যদি অন্য কোন দেশে হয়ে থাকে তাহলে আপনার Browsing করা সমস্ত ডাটা এবং ট্রাফিক টাওয়ারের মাধ্যমে এসে এই Lending পয়েন্টের মধ্যে দিয়ে নিদিষ্ট Servers এ গিয়ে পৌঁছে যাবে।এবং পুনরায় সেই Servers থেকে আপনার ডিভাইসে ডাটা রিসিভ হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই Lending পয়েন্ট থেকে এই ইন্টারনেট আপনার হাত পর্যন্ত কিভাবে আসে। এর জন্য আসলে কতই বা খরচ হয়। বাংলাদেশ ক্ষেত্রে যদি আমরা ধরি তাহলে দেশের ভিতরে বিভিন্ন অপারেটর যেমন :Gp,Banglalink.Robi.Airtel,এরা পরবর্তী ধাপে Lending পয়েন্ট থেকে তারের মাধ্যমে কানেকশন পুরো বাংলাদেশ ছড়িয়ে দেয়। এরা হচ্ছে Tier 2 কোম্পানি। এই Tier 2 কোম্পানি প্রতি GB তে নিদিষ্ট টাকা হিসাব করে Tier 1 কোম্পানিকে দেয়।

এছাড়া ও বিভিন্ন লোকাল পর্যায়ে বিভিন্ন ইন্টারনেট Service Provider বা ISP রয়েছে যারা মুলত Tier 3 কোম্পানি। মুলত Tier 1, Tier 2,Tier 3 এই তিনটি স্তরে ইন্টারনেট আমাদের হাতে পর্যন্ত আসে। একটু ভাবলেই বুঝা যায় ইন্টারনেটের জন্য আসলে কোন খরচ নেই। যা আমার দেই তা শুধু ক্যাবল বিছানোর জন্য বা মেরামত করার জন্য। আর এতো কিছুর মধ্যে আমরা সহজে বুঝতে পারছি যে এখানে সেটেলাইটের কোন কাজ নেই। ইন্টারনেট বা সম্পুর্নটাই ক্যাবলের মাধ্যমে আমাদের হাতে এসে পৌঁছে।

এবার আমি আপনাদের আরো একটি জিনিস দেখাবো সেটা হচ্ছে আপনি যখন কোন Website Browsing করেন তখন সেটা কোন জায়গা অতিক্রম করে নিদিষ্ট Server এ পৌঁচ্ছাছে। এর জন্য আমরা Windows কমান্ডরোম Open করলাম এবং টাইপ করলাম tracert Facebook টাইপ করে এন্টার দেওয়া পর Ip Resolve হয়ে যাবে। যে যে আইপি এড্রেস হয়ে আপনার ডিভাইসে ডাটা ফেসবুক Server পর্যন্ত পৌঁচ্ছেছে সেটা আপনি দেখতে পারবেন

এবং আইপি এড্রেস দিয়ে সার্চ দিয়ে বের করতে পারবেন কোন কোন জায়গা অতিক্রম করে ডাটা Servers পর্যন্ত পৌঁচ্ছেছে। এখন আমার যদি প্রথম আইপি এড্রেসটা চেক করি তাহলে দেখতে পারবো ফেসবুক Browsing করার সময় ট্রাফিক প্রথমে আমার বর্তমান অবস্থা চট্টগ্রামে গেছে।



আরো একটু সামনে গিয়ে আরো একটা আইপি এড্রেস চেক করি দেখতে পারবো চট্টগ্রাম ঘুরে ট্রাফিক একেবারে সিঙ্গাপুরে চলে গেছে।

তারপর আবার শেষর আইপি এড্রেসটি অর্থ্যাৎ Facebook ডটকম Servers আইপি এড্রেসটি লোকেশন কিন্তু এই সিঙ্গাপুরে।


অর্থ্যাৎ আমি যদি আমার বর্তমান অবস্থান থেকে ফেসবুক ডটকম Browsing করি তাহলে সেটি বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে যেখানে ফেসবুকের Servers সেখানে পৌঁছে। এভাবে আপনি দেখতে পারবেন আপনি যা সার্চ করছেন তার ট্রাফিক কোন কোন জায়গায় অতিক্রম করে মেইন Servers এ যাচ্ছে। সবশেষে আমার এটা বলতে পারি ইন্টারনেট প্রায় পুরোটাই অপটিক্যাল ফাইবার সাহায্যে কাজ করে। আর এখানে সেটেলাইটের কোন হাত নেই আর এই ইন্টারনেটের কেন মালিকও নেই।এটা। সম্পুর্ন Free। যা খরচ হয় এবং যা আমার দেই কোন অপারেটরকে তা শুধু ক্যাবল বিছানো বা মেরামতের জন্য।

যাই হোক আশা করি অজানা অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন এই আর্টিকেলে । ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন এবং লাইক দিবেন। আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply