বিয়ের পূর্বে প্রত্যেক মুসলিম মেয়ের ৬টি বিষয় জানা দরকার। না দেখলে মিস করবেন


আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

বিয়ের পূর্বে প্রত্যেক মুসলিম মেয়ের ৬টি বিষয় জানা দরকার

মানব জীবনে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আল্লাহ তায়লা পবিত্র কুরআনে বলেন,

“দরিদ্র ব্যক্তির বিয়ে করা বৈধ। আল্লাহ্‌ তা’আলা ইরশাদ করেন: “যদি তারা দরিদ্র হয়, আল্লাহ্‌ তার মেহেরবানীতে সম্পদশালী করে দেবেন।”

(সূরা নূর ২৪/৩২)

বিয়ে সম্পর্কে এমন অনেক আয়াত এবং হাদিস রয়েছে। বিয়ে একজন নারী ও পুরুষের মাঝে বৈধ ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করে। এই ভালোবাসা পরবর্তী জীবনের সফলতার পাথেয় হিসাবে কাজ করে।

তবে অনেক সময় বিয়ে থেকে আমরা যা আশা করি তা পূরণ নাও হতে পারে। আপনার কাঙিক্ষত সুখের সন্ধান বিয়েতে নাও পেতে পারেন। কিন্তু তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“প্রকৃত ধৈর্য হচ্ছে বিপদের প্রথম ধাক্কাতেই ধৈর্য ধারণ করা।”

(সহীহ, আহকা-মুল জানা-য়িজ :২২ পৃঃ, বুখারী, মুসলিম)

আর এই ধৈর্য বাড়বে এবং হতাশা কমবে যদি আপনি বিয়ের আগে ৬টি বিষয় মাথায় রাখেন।

বিয়ে করার পূর্বে জানা দরকার

১) সুখ:

আপনার মনে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে, বিয়ে করাটাই আপনার সুখের চূড়ান্ত উৎস হবে না! আপনার স্বামী আপনাকে সুখের পথে নিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করে বিয়ে করে থাকেন, তাহলে বরং আপনি নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন বিষন্নতা আর কষ্টের সাগরে।

আপনি যদি বর্তমানে অসুখী এবং হতাশ হয়ে থাকেন তবে আশা করবেন না যে বিবাহিত হয়ে আপনি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মেয়ে হয়ে যাবেন। সবসময় মাথায় রাখবেন আপনার স্বামী আপনার সুখ অর্জনের মাধ্যম হতে পারবে না!

একজন মুসলমান হিসাবে আপনার মনে রাখা উচিত শুধুমাত্র আল্লাহই আপনার সুখের প্রকৃত উৎস হতে পারেন। সুখ অর্জনের মাধ্যম কেবল আল্লাহ। তাই আল্লাহর ইবাদত এবং আল্লাহর সঙ্গে আপনার সংযোগ উন্নত করার পেছনে সময় ব্যয় করুন।

২) অভ্যাস:

বিয়ের আগে আপনার কিছু অভ্যাস বা জীবনধারা থাকতে পারে। সেটা হতে পারে কোন বদ অভ্যাস। উদাহরণস্বরূপ, আপনি অস্বাস্থ্যকর বা বাহিরের খাবার খেতে পছন্দ করেন এবং বলতে পারেন, “যখন আমি বিয়ে করবো, তখন এই বদ অভ্যাস পরিবর্তন করে ফেলব!” অথবা আপনার ঘর সবসময় অগোছালো রাখেন এবং আপনি বলতে পারেন, “যখন আমি বিয়ে করবো তখন আমার ঘর সবসময় পরিষ্কার রাখবো!”।

আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনি বিবাহের পরেই এই অভ্যাসগুলি পরিবর্তন করতে পারবেন না। যেকোন ধরণের অভ্যাস সহজেই পরিত্যাগ করা খুব কঠিন! আর বদ অভ্যাস হলে তো আর কোন কথাই নেই। তাই আপনার মধ্যে যদি কোন বদ অভ্যাস থেকে থাকে তবে বিয়ের আগেই তা পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। বিয়ের আগে নিজের দিকে তাকান এবং আপনি যে অভ্যাসগুলি পরিবর্তন করতে চান সেগুলি নিয়ে কাজ শুরু করুন।

এটি কেবল অভ্যাসগুলিতে সীমাবদ্ধ নয়, আপনার চরিত্রের বৈশিষ্ট্যেও পরিবর্তন করতে পারেন। যেমন খুব ক্ষুদ্র জিনিসের উপর রাগ বা ঈর্ষান্বিত হওয়া ইত্যাদি। অতএব, আপনার অভ্যাস এবং চরিত্র দ্রুত উন্নতি করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনার বৈশিষ্ট্যগুলি আপনার বিবাহিত জীবনে উদ্বেগের কারণ না হয়।

৩) সাংসারিক দক্ষতা:

রান্না করা, পরিষ্কার করা এবং পরিবারের অনান্য বিষয়ে পরিকল্পনা করার ক্ষমতাগুলি যদি বিয়ের পূর্বে অর্জন করে নিতে পারেন তবে বিয়ের পর এসব দক্ষতা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। আমি জানি যারা পশ্চিমা ধাঁচে বা তাদের সংস্কৃতি নিয়ে বড় হয়ে উঠেছেন, তারা এই সাংসারিক দক্ষতা বান লোকদেরকে অর্থহীন বলবেন, কিন্তু এটা চরম সত্য!

আপনার এই সামান্য দক্ষতাগুলো সংসার জীবনে সুখের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখবে। আপনার হাতের সুস্বাদু রান্না আপনার স্বামীর মন কিংবা আপনার মনকে কতটা আনন্দ দিবে একবার ভেবে দেখেছেন।

৪) স্বাধীন নারী:

অনেক অল্পবয়সী মেয়েদের একটি স্বাধীনচেতা মানসিকতা রয়েছে। অনেকের চিন্তাভাবনা থাকে “আমার কারোও প্রয়োজন নেই”। কিন্তু এই মনস্তত্ত্ব বিয়েতে কাজ করে না। আপনি যখন যেখানে খুশি ঘর ছেড়ে বৈরাগী হয়ে চলে যাবেন, আবার আসবেন এ ধরণের মানসিকতা থাকলে চলবে না।

বিয়ে হল আপস ৫০/৫০। আপনার স্বামী যেমন যখন যা ইচ্ছা করার ক্ষমতা রাখেন না, তেমনি আপনিও নন।

৫) ঘনিষ্ঠতা:

আপনার বিবাহের আগে, ইসলামের বিধানগুলোর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কি গ্রহণযোগ্য এবং কি গ্রহণযোগ্য নয় তা বোঝার জন্য কিছু সময় নিন। ইসলামী উৎস থেকে জ্ঞান অর্জন করুন, যাতে আপনার জন্য কোনটি সঠিক এবং কোনটি উপযুক্ত নয় সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারেন।

একজন স্ত্রী হওয়ার জন্য ইসলাম কি কি গুন থাকার কথা বলেছেন সে সম্পর্কে ধারণা নিন। বিয়ের পর এসব গুন আপনার জীবনে শান্তি আনবে।

৬) ক্ষমা:

অবশেষে, মনে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিয়ে হল দুই জন ক্ষমাশীল মানুষের মধ্যে বন্ধন! দুইজন অসম্পূর্ণ মানুষ একসঙ্গে হতে যাচ্ছেন। হতে পারে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া কিংবা মনমালিন্য।

মনে রাখবেন, আপনার বাবা-মা এবং ভাইবোনদের মতো একই ছাদে থাকার দরুন এখনেও আর্গুমেন্ট বা মনমালিন্য থাকতে পারে। কিন্তু দিনের শেষে আপনি এখনেও পরিবারের প্রধান অংশ। মাথায় রাখবেন আপনার আর্গুমেন্ট গুলো জীবনকে দুঃখের মধ্যে না ফেলে।

তাই বিয়ের পূর্বে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন।

শেষ কথা

বিবাহ আল্লাহর দেয়া একটি বিশেষ নিয়ামত। বিয়েতে নারী এবং  পুরুষ অর্ধাঙ্গি হিসাবে কাজ করে। একটি সুন্দর সংসার নারী ব্যতীত কল্পনা করা সম্ভব নয়। নারী হল সংসারের রাণী।

দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।

সূত্র: islamientertainment.com

Leave a Reply