নিউট্রিনো কনা সর্বোচ্চ কতদূর থেকে পৃথিবীতে আসে?

নিউট্রিনো প্রকৃতির অন্যতম রহস্যময় কণা৷ এই কণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তা যে কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে কোনোরুপ প্রতিক্রিয়া না করেই প্রবেশ করতে পারে৷ পৃথিবী পৃষ্ঠেও প্রতিসেকেন্ডে অসংখ্য নিউট্রিনো এসে আঁচড়ে পরছে। আমাদের আশেপাশেও অনেক নিউট্রিনো সৃষ্টিকারী উৎস রয়েছে। পৃথিবীর বাইরেও রয়েছে নিউট্রিনোর অনেক উৎস। সূর্য থেকেও প্রতিনিয়ত নিউট্রিনো আমাদের শরীর ভেদ করে চলে যাচ্ছে। শুধু সূর্যই নয়। মহাজাগতিক আরো বস্তু আছে যেখান থেকে প্রতিনিয়ত নিউট্রিনো নির্গত হচ্ছে। আমাদের গ্যালাক্সির বাইরে যদি কোনো সুপারনোভা সংঘটিত হয়, তা থেকেও নিউট্রিনো নির্গত হয়৷ তাছাড়া সকল নক্ষত্রই নিউট্রিনোর উৎস।

ডিটেক্টরে যেসব নিউট্রিনো ধরা পরে, তার বেশির ভাগই সূর্য থেকে আগত। কিন্তু,শুধু সূর্য থেকে আগত নিউট্রিনোই নয়, মহাজাগতিক উৎস থেকে নিউট্রিনো এসেও আমাদের পৃথিবীকে আঘাত করছে। এই নিউট্রিনো গুলোকে ডিটেক্ট করার জন্য অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে একটি ল্যাবরেটরি রয়েছে৷ এই ল্যাবরেটরির নাম হলো আইস কিউব ল্যাবরেটরি যেখানে নিউট্রিনো ডিটেক্টর গুলো স্থাপন করা হয়েছে বরফের নিচে৷

(The biggest ice cube in the world)

সূর্য থেকে যেসব নিউট্রিনো আসে আর মহাজতের গভীর থেকে যে নিউট্রিনো আসে তাদের শক্তি ভিন্ন হয়ে থাকে। মহাজগতের গভীর থেকে যেসব নিউট্রিনো এসে ডিটেক্টরে ধরা দেয় তাদের শক্তি সূর্যের নিউট্রিনোর তুলনায় বেশি থাকে৷ গবেষকরা এখনো অজানা উৎস থেকে আগত নিউট্রনের উৎসের খোঁজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু সেসব উৎস কে সঠিক ভাবে খুঁজে পেতে খুবই বেগ পেতে হচ্ছে৷ অর্থাৎ, ঠিক কত দূর থেকে এসব নিউট্রিনো আসছে তা নির্ণয়ে অসুবিধা হচ্ছে।

অ্যান্টার্কটিকার আইসকিউব ল্যাবে ২০১৩ সালে একটি জোরালো সংকেত পায়, এই সংকেতটি ছিলো অন্য গ্যালাক্সি থেকে আসা নিউট্রিনোর একটি সংকেত। কিন্তু, বিজ্ঞানীরা বিফল হলেন, এই নিউট্রিনোর উৎস তাঁরা খুঁজে পেলেন না।

২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে আইসকিউব ডিটেক্টরে আরেকটি সংকেত এসে ধরা দেয়। যে নিউট্রিনোটি এই ডিটেক্টরে ধরা পরেছিলো তার শক্তি ছিলো ৩০০ টেরাইলেকট্রন ভোল্ট, যা লার্জ হ্যাড্রন পার্টিকেল এক্সিলারেটরে ঘূর্ণনরত প্রোটনের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি ছিলো৷ এবার বিজ্ঞানীরা আর ভুল করতে চাইলেন না৷ সংকেত পাওয়ার একমিনিটের মধ্যেই খবর চলে যায় অন্যান্য বিজ্ঞানীদের কাছে। সাথে সাথেই পৃথিবীর এবং মহাশূন্যের মোট ২০ টি টেলিস্কোপ এই উৎস খুঁজতে নেমে পরে। তাঁরা উৎসটি খুঁজে পেলেন৷ যে গ্যালাক্সি থেকে এই নিউট্রিনো এসেছে তা পৃথিবী থেকে ৪ (চার) বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এবং গ্যালাক্সিটির নাম TXS 0506+ 056। এই গ্যালাক্সিটি একটি Blazar. Blazar মানে গ্যালাক্সিটিতে ব্ল্যাকহোল ও রয়েছে। এই Blazar গুলো থেকে একটি আলোকরশ্মি সরাসরি পৃথিবীর দিক বরাবর নির্গত হয়। যার ফলে, তা পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। Blazar এর মাঝে যে ব্ল্যাকহোল থাকে তা প্রোটন, নিউট্রিনো এসব কণা উৎপন্ন করার জন্য দায়ী। Blazar গুলোকে স্বাভাবিকের তুলনায় উজ্জ্বল মনে হয়। তারা গামা রশ্মির অন্যতম উৎস। তাদের হঠাৎ উজ্জ্বলতার পরিবর্তন ঘটে, যা অনেকটা নাটকীয় ভাবেই ঘটে থাকে। Quasar এবং Blaze মিলে Blazar নামটি হয়েছে।

(La fuente del neutrino IceCube)

আইসকিউব ল্যবরেটরি এর পরে আরো ডজনখানেক সংকেত পায় এবং উৎস হলো এই একই গ্যালাক্সি । এখনো আরো দূর থেকে আগত নিউট্রিনোর খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সামনে হয়তো আরো দূর থেকে আগত নিউট্রিনো আমরা পেয়েও যাবো।

সুত্রঃIceCube

ধন্যবাদ ৷

­

Leave a Reply