আইন জানুন আইন মানুন পর্ব ১৬: জামিন কী? কোন কোন গ্রাউন্ডে/কারণে জামিন পাওয়া যেতে পারে?

ফৌজদারি কার্যবিধিতে জামিনের কোনো সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। সাধারণত সংশ্লিষ্ট আদালতে সময়মতো হাজির করার শর্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে আইনগত হেফাজত থেকে মুক্তি প্রদান করে জামিনদারের নিকট সমর্পণ করাকে জামিন বলে। মামলার যেকোনো পর্যায়ে জামিন মঞ্জুর করা যায়। এমনকি বিচার শুরু হবার পরও জামিন মঞ্জুর করা যায়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেই তাকে দোষী বলা যায় না। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ ধরতে হবে-এটাই আইনের নীতি। তাই দোষী প্রমাণিত হবার পূর্বে কাউকে আটকে রাখা হলে তা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি হবে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি আটক থাকলে তার সামাজিক, পারিবারিক, শারীরিক, মানসিকসহ নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। তাই অহেতুক তাকে আটক রাখা আইনে সমর্থনীয় নয়। আবার বিচারের সময় অপরাধীকে আদালতে থাকা প্রয়োজন, তাই বিচারের সময় তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে জামিনের বিধান রাখা হয়েছে। 

ফৌজদারি আইনে অপরাধগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (ক) জামিন যোগ্য (Bailable) এবং (খ) জামিন-অযোগ্য (Non-bailable)। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আসামি যে অবস্থায় মুক্তি পেতে পারে তা হচ্ছে-

জামিন যোগ্য অপরাধ (ধারা ৪৯৬) :জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোনো ব্যক্তি কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার হলে বা আটক থাকলে, বা আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করা হলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে জামানত দিতে প্রস্তুত থাকে তা হলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অফিসার বা আদালত উপযুক্ত মনে করলে তার নিকট হতে জামানত গ্রহণের পরিবর্তে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করলে তাকে মুক্তি দিতে পারবেন। তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোনো বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য হবে না।

জামিন-অযোগ্য অপরাধ (ধারা ৪৯৭) :যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাবে-
১. জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার হলে বা আটক থাকলে অথবা আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করা হলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে; কিন্তু সে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধে দোষী বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে উক্তরূপে দেওয়া যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এরূপ অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ষোলো বছরের কম বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। 
২. ক্ষেত্রমতে তদন্ত, ইনকোয়ারি বা বিচারের কোনো পর্যায়ে উক্ত অফিসার বা আদলতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আসামি জামিনের অযোগ্য কোনো অপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই, কিন্তু তার অপরাধ-সম্পর্কে আরও ইনকোয়ারির পর্যাপ্ত হেতু রয়েছে, তাহলে এরূপ ইনকোয়ারি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে, অথবা উক্ত অফিসার বা আদলত বা আদালতের ইচ্ছানুসারে হাজির হবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করলে তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩. কোনো অফিসার বা আদালত (১) উপধারা বা (২) উপধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি দিলে তার ওইরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
৪. জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার সমাপ্ত হবার পর এবং রায় দানের পূর্বে কোনো সময় আদালত যদি মনে করেন যে, আসামি উক্ত অপরাধে দোষী নয় বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তাহলে আসামি হাজতে থাকলে রায় শোনার উদ্দেশ্যে হাজির হবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদনের পর তাকে মুক্তি দিবেন।
৫. হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত এবং নিজে মুক্তি দিয়ে থাকলে অন্য কোনো আদালত এই ধারা অনুসারে মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে ও তাকে হাজতে প্রেরণ করতে পারবেন।

Leave a Reply