বনী ইসরাইলদের সঠিক ইতিহাস। না দেখলে দেখলে মিস করবেন

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

বনী ইসরাইলদের সঠিক ইতিহাস

বনী ইসরাইলের ইতিহাস নিয়ে থাকছে আজকের বিশদ আলোচনা। বনী ইসরাইলের ইতিহাস পাঠে জানা যাবে ইহুদী কারা এবং এদের হটকারিতার কথা। হযরত ইয়াকুব (আ) এর ডাক নাম ছিল ইসরাইল। এ জন্য ইয়াকুব (আ) এর বংশধরদের বনী ইসরাইল বলে ডাকা হয়। এ নামেই তারা অধিক পরিচিত। পৃথিবীতে মোট ৬০ লাখ বনী ইসরাইল বর্তমান আছে। নাতশি বাহিনীর প্রধান জার্মানের এক সময়কার পৃথিবী কাপানো চ্যানচেলর এডলফ হিটলার প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদি তথা বনী ইসরাইলদের হত্যা করে। তারপরও এরা আবারো গোটা দুনিয়াতে মাথা চারা দিয়ে উঠে এবং ইদানিং সময়ে এখনো সারা বিশ্বকে তারা পরিচালনা করছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে যে কয়টি জাতি অতি পরিচিত তাদের মধ্যে বনী ইসরাইল অন্যতম। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে এদের বিষয়ে অনেক বর্ণনা রয়েছে। পৃথিবীর অসংখ্য জাতিদের মধ্যে বর্তমান বিশ্বে একমাত্র বনী ইসরাইল ক্রমাগত চার হাজার বছর থেকে সমগ্র মানবজাতির সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে বেঁচে আছে। এই জাতির জীবনধারায় সমগ্র মানবজাতির জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে । আল্লাহার হুকুম অমান্য করার পরিণাম কি হয় তা এদের ইতিহাস থেকে অক্ষরে অক্ষরে দেখা যায়। কিভাবে একটি জাতি শ্রেষ্ঠ জাতি থেকে নিকৃষ্ট জাতিতে পরিণত হতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই বনী ইসরাইল জাতি।

বনী ইসরাইল কারা?

বনী শব্দের অর্থ সন্তান বা বংশধর আর ইসরাইল এর শাব্দিক অর্থ আল্লাহর বান্দাহ। এটি হল হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর উপাধী। সুতরাং বনী ইসরাইল অর্থ হল ইয়াকুবের সন্তান বা ইয়াকুবের বংশধর। পরবর্তীতে হযরত ঈসা (আঃ) পর্যন্ত এই বনী ইসরাইলের বংশধর অব্যাহত ছিল। এদের ভাষা হচ্ছে হিব্রু। আল কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর মধ্যে ১৩ জন নবীই বনী ইসরাইলের বংশ হতে এসেছেন। বনী ইসরাইলীদের আদি বাসস্থান ছিল হেবরন, ফিলিস্তিন। পরবর্তীতে তারা মিশর, সিনায় উপত্যকাসহ নানান দেশে বসবাস করেছিল।

ইহুদী জাতি

বনী ইসরাইলগণ ইহুদী নামেও বেশ পরিচিত। ঐতিহাসিকদের মতে ইয়াকুব (আঃ) এর স্ত্রী লাইয়ার সন্তান, চতুর্থ পুত্রের নাম ছিল ‘‘ইয়াহুদা”। এই ইয়াহুদার নাম থেকে ইহুদী এসেছে। এই ইয়াহুদাই ইউসুফ (আঃ) কে কুপে ফেলে দিতে বেশ সক্রিয় ছিল।অন্য বর্ণনায় এসেছে মুসা (আঃ) যখন বনী ইসরাইলীদের ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে কেনানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলেন তখন তারা কাপুরুষতা দেখায়, শাস্তি স্বরূপ তাদেরকে ৪০ বছর পর্যন্ত মরুভূমিতে বাস করতে হয়, এবং তারা কাপুরুষ জাতি হিসেবে পরিচিত লাভ করে। অতঃপর দাঊদ (আঃ) যখন জেরুজালেম জয় করেন, তখন তারা বনী ইসরাইল নাম পরিবর্তন করে ‘ইহুদী’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।
আল কুরআনে বনী ইসরাইল
বনী ইসরাইল শব্দটি কুরআনের ১৭টি সুরায় ৪১ বার এসেছে।সূরা আল বাকারাতে ৬ বার- ৪০, ৪৭, ৮৩, ১২২, ২১১ ,২৪৬, সূরা আলে ইমরানে ২বার। ৪৯, ৯৩, সূরা মায়েদাতে ৬ বার, ১২, ৩২, ৭০, ৭২, ৭৮, ১১০ সূরা আল আরাফে ৪ বার- ১০৫, ১৩৪, ১৩৭, ১৩৮। সূরা ইউনুসে ২ বার- ৯০, ৯৩, সূরা বনী ইসরাইলে ৪ বার- ২, ৪, ১০১, ১০৪। সূরা মরিয়ামে- ১ বার- ১৫৮, সূরা তহা- ৩ বার- ৪৭, ৮০, ৯৪। সূরা আশ শুয়ারাতে ৪ বার- ১৭, ২২, ৫৯, ১৯৭। সূরা নামলে ১ বার- ৭৬। সূরা আস সাজদাহে ১ বার- ২৩, সূরা আল মুমিনে ১ বার- ৫৩, সূরা আয যখরুফে ১ বার- ৫৯, সূরা দুখানে ১ বার-৩০, সূরা আল জাসিয়াতে ১ বার- ১৬, সূরা আহকাফ ১ বার- ১০, সূরা আসসফে ২ বার- ৬, ১৪। কুরআনে ১১৪টি সুরার ৫০টিতে বনী ইসরাইল সম্পর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলোচনা এসেছে। এছাড়া তাদের একটি অংশ ইহুদী বলে পরিচিত। কুরআনে ইহুদী শব্দটি ৯ বার এসেছে।

বনী ইসরাইল এর উপর প্রেরীত আম্বিয়াগণ

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে ১,২৪০০০ পগয়গম্বর পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন নবী-রাসুলের নাম কুরআনে স্পষ্ট এসেছে। এদের মধ্যে ১৩ জন বনী ইসরাইলের উপর প্রেরীত হয়েছেন। য়থা-

১. হযরত ইয়াকুব (আঃ), ২. হযরত ইউসুফ (আঃ), ৩. হযরত আইয়ুব (আঃ), ৪. হযরত ইউনুস (আঃ), ৫. হযরত শোয়ায়েব (আঃ), ৬. হযরত মুসা (আঃ), ৭. হযরত হারুন (আঃ), ৮. হযরত দাঊদ (আঃ), ৯. হযরত সোলায়মান (আঃ), ১০. হযরত ইলিয়াস (আঃ), ১১. হযরত আল ইয়াসা (আঃ), ১২. হযরত যুলকিফল (আঃ), ১৩. হযরত ঈসা (আঃ)।

Leave a Reply