আইন জানুন আইন মানুন পর্ব ৪০:খতিয়ান, পড়চা, মৌজা, তফসিল, দাগনম্বর, মৌজাম্যাপ ও এওয়াজবদল কী?

জমি-জমার দলিলের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ব্যবহারিক প্রয়োজনে বেশ কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়। আমরা অনেকেই সেগুলোর অর্থ বুঝি। আবার অনেকেই সেগুলোর অর্থ বুঝতে পারি না। ফলে তখন বেশ অসুবিধায় পড়ি। জমি-জমায় ব্যবহৃত কিছু পরিচিত শব্দ ও এগুলোর অর্থ নিম্নে তুলে ধরা হলো-

খতিয়ান : জেলার নাম, মৌজার নাম, জমির মালিকের নাম, ঠিকানা, দাগ নম্বর (Plot Number), জমির শ্রেণি, পরিমাণসহ একই মৌজার খতিয়ান নম্বরসহ বিস্তারিত বিবরণ সহকারে লিপিবদ্ধ রেকর্ড। একটি মৌজার সকল জমির মালিকের বিস্তারিত বিবরণ সহকারে এটি এক বা একাধিক ঠড়ষঁসব-এ লিপিবদ্ধ করা থকে।

পড়চা : পড়চা হলো – একটি পৃথক কাগজে হাতে লেখা বা কম্পোজ করা রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত খতিয়ানের নকল অনুলিপি বা সত্যায়িত খসড়া কপি। এটি মাঠ পড়চা বা হাত পড়চা (জরিপ চলাকালে প্রাথমিকভাবে হাতে লেখা), সিএস পড়চা, এসএ পড়চা এবং আরএস বা মহানগর জরিপ পড়চা নামে বিভিন্ন ধরনের রেকর্ডের খসড়া বা অনুলিপি বা কপি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (DC office) রেকর্ডরুমে নির্ধারিত ফিসহ আবেদন করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ এটির নকল কপি পাওয়া যায়। জমি কেনা-বেচার জন্য রেকর্ড যাচাইয়ের সময় এটি কাজে লাগে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি (Land) অফিস বা রেকর্ডরুমে পড়চা যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করতে হয়।

মৌজা : এটি স্থায়ী জে. এল নম্বরধারী ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি একক। একটি বা একাধিক এলাকার বা গ্রামের একই রকম একক ভূ-প্রকৃতির ভৌগোলিক এলাকাকে বা ভূ-খণ্ডকে স্বতন্ত্রভাবে মাপজোক করে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মূলত এটিকে থানা বা উপজেলার ভিত্তিতে রেকর্ড বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়। একটি বা একাধিক এলাকা বা গ্রামকে একাধিক মৌজায়ও বিভক্ত করা হয়ে থাকে।

তফসিল : জমির অবস্থান, মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির মৌজার নাম, থানা বা জেলার নাম, জমির শ্রেণি ও পরিমাণ এবং দাগ নম্বরসহ বিস্তারিতভাবে জমির পরিচয়কে তফসিল বলে।

দাগ নম্বর : এটি জমির Plot Number। জরিপের সময় জমির প্রতিটি খণ্ড বা অংশকে একটি দাগ নম্বর দ্বারা নির্ধারিত করা থাকে।

মৌজাম্যাপ : এটি হলো জমির পূর্ণাঙ্গরূপ। অর্থাৎ জমির আশেপাশে অবস্থিত সকল স্থাপনাকে চিহ্নিত করে তৈরিকৃত জমির নকশাই হলো মৌজাম্যাপ। এতে দাগ নম্বর ব্যবহার করে জমির আশেপাশে অবস্থিত সকল সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাসহ রাস্তা, পুকুর ও মসজিদ ইত্যাদি চিহ্নিত করা থাকে। একটি জমির পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড তৈরি হয় খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ দুটো মিলে। সংংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি (Land) অফিস বা রের্কডরুমে মৌজাম্যাপ যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করতে হয়।

এওয়াজবদল : ব্যবহার বা চাষাবাদের সুবিধার্থে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে একজনের সম্পত্তির সাথে আরেকজনের জমির দখল বদল বা বিনিময় করাই হলো এওয়াজ বদল। রেজিস্ট্রেশন না করে যখন জমির স্বত্ব বদল করা হয়, ততক্ষণ ওই জমি পূর্ব মালিকের নামেই থেকে যায়, তবে যখন রেজিস্ট্রেশন করে জমির স্বত্ব বদল করা হয়, তখন ওই জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়ে যায়।

Leave a Reply