পাইরেটেড সফটওয়্যার থেকে মুক্তির উপায়

একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা পরিচিত হয়েছি বেশ কিছু নতুন শব্দ এবং তাদের ব্যবহার এর সাথে। এমনি একটি শব্দ হল পাইরেসি। বর্তমান আধুনিক সমাজ এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে অত্যাধিক পরিচিত এই অপরাধ এবং এর কুফল বিশেষ ভাবে পরিলিক্ষিত হয়।

অনুতাপের বিষয় এই যে, অনেকেই এটা জানেন না যে পাইরেসি হল গুরুতর একটি অপরাধ। আবার অনেকে জেনে শুনেও এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত, কারণ এর থেকে বাচার উপায় অনেকের অজানা। আজকের লেখাতে আলোচনা হবে এই ঘৃণিত অপরাধ এর একটি বিশেষ অংশ “সফটওয়্যার পাইরেসি” থেকে নিজেদের মুক্ত করার উপায় নিয়ে।

আমরা হয়তো অনেকেই পাইরেটেড সফটওয়্যার যেমন অপারেটিং সিস্টেম, মিডিয়া প্লেয়ার, অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করি। এসব ক্র্যাক ভার্সন যেমন বিপদজনক তেমনই অনৈতিক। কিন্তু, যখনই মনে হয় পাইরেসি থেকে দুরে থাকি তখন প্রথমেই সামনে আসে যে প্রশ্ন তা হল, “এসব সফটওয়ার এর মূল্য অনেক বেশি, আমরা কিভাবে ব্যবহার করব?”।

প্রশ্নটা মোটেও অমূলক নয়। সাধারণত আমরা যেসব সফটওয়্যার আমাদের নিত্যদিনে ব্যবহার করি সেগুলো হল

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম
মাইক্রোসফট অফিস
বিভিন্ন মিডিয়া প্লেয়ার
এডোবি ফটোশপ, ইত্যাদি।

এসকল সফটওয়্যার এর মূল্য আমাদের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক বেশি। তাই, বাধ্য হয়েও অনেকে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এই সমস্যার অনেক সুন্দর একটি সমাধান হল লিনাক্স বেজড সফটওয়্যার।

লিনাক্সের সংক্ষিপ্ত পরিচয় হচ্ছে এটি একটি কার্নেল যার উপরে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অনেক অনেক অসাধারণ অপারেটিং সিস্টেম। তেমনই কিছু হল, “উবুন্টু”, “জোরিন ওএস”, “মাঞ্জারো”, “আর্ক”, “ফেডোরা” ইত্যাদি। এগুলো একেকটি অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার যা উইন্ডোজ এর থেকেও অনেক এগিয়ে।

এবং সবথেকে মজার কথা হচ্ছে এটি সম্পুর্ন ফ্রি অফ কস্ট মানে একদম ফ্রি অর্থাৎ কোন মূল্য পরিশোধের প্রয়োজন নাই। এবং আপনি যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করুন কারোর কোন মাথাব্যাথা নাই।

অপারেটিং সিস্টেম এর সমস্যা তো সমাধান হয়েছে এবারে বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার মাইক্রোসফট অফিস এর বিকল্প নিয়ে এসেছি। এক্ষেত্রে আমার কাছে অসাধারণ দুইটি সমাধান আছে।

লিব্রা অফিস
গুগল

প্রথমটি লিনাক্সের জন্য বিখ্যাত অফিস সফটওয়্যার। আপনি একবার ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন এখানে মাইক্রোসফট অফিসের তুলনায় আরো অনেক বেশি ফিচার আছে।

আর স্টাইল ও অনেক আধুনিক। আর সবচেয়ে বড় কথা এটা সম্পুর্ন ফ্রি। আপনাকে কোন ঝামেলা পোহাতে হবেনা এবং সেই সাথে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন পাইরেসি থেকে।

আরেকটি উপায় হচ্ছে গুগল। গুগলের অসাধারণ অফিস ওয়েব এপ হচ্ছে Google Doc, Sheet, Slides । আপনার যদি আলাদা কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করতে ইচ্ছা নাহয় তবে আপনি ব্রাউজারে গিয়ে একদম বেস্ট উপায়ে ব্যবহার করতে পারবেন গুগলের ক্লাউড বেজড এই অফিস এপ গুলো।

এবং চাইলে আপনি একটি ডকুমেন্ট এ অনেকে মিলে কাজ করতে পারবেন যা সত্যিই কর্পোরেট লাইফের বেস্ট সল্যুশন।

এর পরেই যা আছে সেটা হল মিডিয়া প্লেয়ার। অডিও, ভিডিও চালু ছোট খাটো এডিটিং সহ একরাশ ফিচার সমৃদ্ধ মিডিয়া প্লেয়ার হল VLC Media Player.

আপনি হয়তো এরই মাঝে এটি ব্যবহার করে ফেলেছেন তাই বেশি কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না এবং বেস্ট মিডিয়া প্লেয়ার হয়েও এটি সম্পুর্ন ফ্রি।

এখন হয়তো আপনি ভাবছেন, “সবগুলোর তো বিকল্প আছে কিন্তু ফটোশপ ??”। তাহলে বলতেই হচ্ছে এটার জন্যও সমাধান আছে যা আরো মজার।

আপনি লিনাক্সের অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করলেই সাথে পেয়ে যাবেন Gimp যাকে ফটোশপ এর বিকল্প হিসেবে ধরা যায়। আপনাকে আলাদা ইন্সটল করতে হবেনা বিল্টিন থাকা এই সফটওয়্যার একদম ফ্রি।

তবুও যদি আপনি মানতে রাজি না থাকেন যে ফটোশপ এর বিকল্প নয় তবে বলব, প্রফেশনাল কাজ যারা করেন তারা মোটেও পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন না এজন্য ফটোশপ এর অরিজিনাল পেইড ভার্সন তাদের জন্য পারফেক্ট। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারী যেহেতু সাধারণ কাজ করবে সেজন্য Gimp একদম বেস্ট চয়েস।

এগুলো গেল শুধু বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার এর বিকল্প। আপনি আসলে যেই সফটওয়্যার ই ব্যবহার করেন না কেন তার জন্য লিনাক্সে আছে বেস্ট বিকল্প।

পরিশেষে, আপনি যদি হয়ে থাকেন কোন ডেভেলপার, প্রোগ্রামার কিংবা কম্পিউটার সায়েন্স বা এই বিষয়ক শিক্ষার্থী তবে লিনাক্স হবে অবশ্যই আপনার প্রথম পছন্দ। শুধু প্রয়োজন হবে সৎ ইচ্ছা এবং একটু গুগল করার জন্য সময়। তাহলেই পেয়ে যাবেন পাইরেটেড সফটওয়্যার থেকে মুক্তির সকল অস্ত্র।

তাই, আর নয় মূল্যের যুক্তি দেখিয়ে পাইরেটেড সফটওয়্যার এর ব্যবহার এখন থেকেই শুরু করুন ফ্রি সফটওয়্যার এর ব্যবহার এবং নিজেকে রাখুন নিরাপদ।

Leave a Reply