একটা ঘটনা বলি ?

একটা ঘটনা বলি।                                                                           
‘হাবিল’ ও ‘কাবিল’ নাম দু’টির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। হাবিল শান্ত স্বভাবের আর কাবিল ছিল রাগি ও অবাধ্য স্বভাবের। কাবিল বরাবরই হাবিলকে হিংসা করত। একদিন কাবিল তার রাগের প্রভাবে হাবিলকে হত্যা করল এবং বুঝতে পারল যে সে অনেক বড় একটি ভুল করেছে। তাই সে তাদের বসবাসরত জায়গা থেকে পালিয়ে গেল। আদম আলাইহিস সালাম ভালো ছেলেটাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল। অতঃপর একদিন আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা’র রহমতস্বরূপ আরেকজন সন্তানের জন্ম হলো। তার নাম শীথ আলাইহিস সালাম। তিনি ছিলেন অনেক নরম স্বভাবের এবং আল্লাহুভীরু।

শীষ আলাইহিস সালাম বড় হয়ে তাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভালো বাণী প্রচার করতে লাগলো। সে তার জনগোষ্ঠী নিয়ে পাহাড়ের উপরে একটি জায়গায় থাকতো আর কাবিল তার হতাশ জীবন নিয়ে সমতল ভূমিতে একটি জনগোষ্ঠী নিয়ে নিজের রাজত্ব পরিচালনা করতে লাগলো।শীথ আলাইহিস সালাম এর অনুসারীদের মধ্যে পুরুষদের সৌন্দর্য ছিল বেশি আর নারীদের সৌন্দর্য ছিল কম। অন্যদিকে কাবিল এর সমাজের লোকদের মধ্যে নারীরা ছিল পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দরী। এমন অবস্থায় ইবলিশ একটি তরুণীর বেশধারণ করে কাবিলের সমাজে একজন ধাতু কর্মীর সাথে কাজ করতে লাগল এবং কাজের মধ্য দিয়ে এমন একটি যন্ত্র তৈরি করল যা মানবসমাজ তখনও পর্যন্ত কখনো দেখেনি এবং তা ছিল একটি “বাঁশি”। ইবলিশ সেই বাঁশি বাজাতে শুরু করল এবং তা থেকে এমন এক ধ্বনি বের হতে লাগলো যা মানুষ কখনো শোনেনি এবং সেই ধ্বনি আশেপাশের অনেক মানুষকে বিমোহিত করলো এবং তারা সপ্তাহে এক দিন নির্ধারণ করলো ইবলিশের সেই বিস্ময়কর শব্দ একত্রিত হয়ে উপভোগ করবে বলে।

তাদের উপভোগ করা এই বাঁশির শব্দ শীথ আলাইহিস সালাম এর সমাজের কিছু মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং তারা অবাক হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যে এটা কিসের শব্দ?  শীথ আলাইহিস সালাম তাদের সতর্ক করে বললেন, আল্লাহ তাদেরকে সমতল ভূমিতে অবস্থানরত মানুষদের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছেন,  যতক্ষণ না ওই অবাধ্য মানুষেরা তওবা করে। কিন্তু শীথ আলাইহিস সালাম এর অনুসারীদের মধ্যে থেকে কিছু মানুষ আদেশ অমান্য করে সমতল ভূমিতে নেমে গেল এবং তাদের গান-বাজনার আয়োজন দেখতে লাগল। সেই গান তাদের আকৃষ্ট করল। এটাই ছিল শুরু। এরপর থেকে আরও একটু একটু করে পাপের দিকে অগ্রসর হলো।

এভাবেই মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মত মিউজিক এর সূচনা হয় আর এরপর থেকেই বিষয়টি যেন আমাদের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে গিয়েছে।  আমাদের একাকী সময়, আমাদের আনন্দের মুহূর্তে, আমাদের কষ্টের সময়, বোরিং সময় মিউজিক যেন আমাদের শূন্যস্থান পূরণ করে দিচ্ছে।
আসলেই কি তাই?

গান-বাজনা ইসলামে হারাম করে দেয়া হয়েছে ‘স্পষ্টভাবে’।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মদ, জুয়া ও সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন’। (বায়হাক্বী, হাদীছ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৫০৩; বাংলা মিশকাত ৮ম খণ্ড হা/৪৩০৪)।

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ‘অবশ্যই অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা যেনা, রেশম, নেশাদার দ্রব্য ও গান-বাজনা বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে’। (বুখারী হা/৫৫৯০)।

আর হারাম কাজ করার শাস্তি আমরা সবাই কমবেশী জানি।
কিন্তু তারপরও কেন?

কে আছে এই মিউজিক এর পেছনে?
আর সে কি চায় আমাদের জীবনে?

সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ, আমাদের এই পথ চলা সব সময় ইসলামিক পোস্ট পেতে বিজিট করুন ইসলামিক সাইট www.OurislamBD.Com

Credit -> Amartips.Mobi.

Leave a Reply