কিভাবে শুরু করবেন ফ্রিল্যান্সিং একদম ব্যাসিক থেকে প্রোফেশনাল [পর্ব ০৮]

সবার আইডি নিশ্চয় এখন প্রোফেশনাল লুক দেখাচ্ছে, তাইনা? এবার চলেন কাজের মধ্যে যাওয়া যাক।

তো প্রথমে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, মান্থলি বিড কিনতে হবে অথবা ফ্রিল্যান্সার এর প্রিমিয়াম মেম্বাশীপে জয়েন করতে হবে । সেটা কিভাবে করবেন? এর লাভ অথবা ক্ষতি কি এগুলো তো অবশ্যই জানা দরকার। তাহলে চলেন শুরু করি ।
ফ্রিল্যান্সার ডট কম একজন ফ্রি মেম্বারকে মাসে ৮ বিড করার সুযোগ দেয় । অনেকেই বলে, “ভাই আমি অনেক বিড করেছি কিন্তু কোনো মেসেজ পাইনা “। অথচ, সে মাত্র ৮টা বিড করেছে। আমরা সারাদিন রাত মিলে ১০০-১৫০ বিড করেও ১টা প্রোজেক্ট পাওয়া কষ্ট স্বাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় । যাইহোক, আপনার স্বাধ্যনুযায়ী একটা মান্থলী মেম্বারশীপ নিয়ে কাজ শুরু করবেন ।

প্রোজেক্ট বুঝতে শিখুনঃ

 

অনেকেই গ্রুপে পোস্ট করে । ভাই, আমি অনেক গুলো প্রোজেক্টে বিড করার পরে আমাকে মেসেজ করে ডলার ডিপোজিট করে কাজ নিতে বলে । এটা কি ঠিক হবে ভাই? কিছু ফেইক প্রজেক্ট এর এক্সাম্পল দেই দেখেন,

“Convert PDF into Word”
“We would like to have a scanned PDF file converted to a Word file”
“Hi there, we have a scanned document we need it back in word file.”

এই ধরণের টাইটেল গুলো সব ই ভুয়া । এসব প্রজেক্টে বিড করার সাথে সাথে আপনাকে ইনবক্সে এসে মেসেজ করে বলবে, “আমাদের অনেক কাজ আছে । আপনি যদি আমাদের সাথে কাজ করতে চান তাহলে স্ক্রিলে ডলার ডিপোজিট করে কাজ নিতে পারেন ।” এরপরে একটা ডক ফাইল সেন্ড করে সব তথ্য দেয় ।

ভুল করেও এদের ফাঁদে পা দেবেন না। প্রোজেক্ট আগে বুঝতে হবে । কি রিলেটেড প্রজেক্ট? আপনাকে কি প্রোপোজাল দিতে হবে? এসব আগে না বুঝলে আপনার কাজ পাওয়ার চান্স কম থাকে। প্রোজেক্ট বোঝার পরে ক্লায়েন্টের অবস্থা দেখবেন ।

মানে তার “About the Employer” সেকশনের দিকে তাকাবেন । যদি ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানি হয় তাহলে আমি পারসোনাল ভাবে প্রোজেক্ট ইগনোর করতে বলবো । কারণ, ইন্ডিয়ান পাকিস্তানিরা অন্য ক্লায়েন্টের কাজ সস্তা দামে আপনাকে দিয়ে করেয়ে নেবে । কারণ ওদের নিজের দেশের কাজ খুব কম বললেই চলে । এছাড়া প্রোজেক্ট শেষেও অনেক ঝামেলা করে । তাই ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানিদের কাজ নেওয়ার আগে দুইএকবার ভেবে এরপরে নেবেন ।

যদি ক্লায়েন্টের প্রোফাইলে রিভিউ থাকে তাহলে সেই প্রোজেক্টেই বিড করার চেষ্টা করবেন । রিভিউ বিহীন প্রোজেক্টে দিতে আমার নিজেরও সন্দেহ লাগে। চেষ্টা করবেন ইউএস /ইউকে/কানাডা / অস্ট্রেলিয়া অর্থাৎ যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো সেই দেশের প্রোজেক্টে বিড করবেন জেনুইন ক্লায়েন্টও পাবেন কাজও জেনুইন পাবেন । কোনো ধোকা খাওয়ার চান্স থাকবে না। তবে এসমস্থ দেশের ফেইক প্রোফাইল বেশি হয় । অনেকেই ভিপিএন লাগিয়ে প্রজেক্ট তোলার জন্য ভালো ভালো দেশের নামে আইডি খুলে দূর্নীতি করে থাকে। সুতরাং আপনাকে ক্লায়েন্টের কথা বলার স্টাইল দেখে বুঝে নিতে হবে, সে ব্রোকার নাকি জেনুইন ক্লায়েন্ট।

বিডঃ

 

প্রোজেক্ট বুঝে বিড করবেন । ক্লায়েন্ট যে বাজেট উল্লেখ করে যেমনঃ ১০-৩০ ডলার। আপনি চেষ্টা করবেন এক্সেক্ট বিড করার। তার আগে অবশ্যই আপনাকে প্রোজেক্ট ডিটেইলস পড়ে নিয়েই বিড করতে হবে। যদি আপনার কাছে মনে হয় যে ক্লায়েন্ট কম দামে প্রোজেক্ট ছেড়েছে তাহলে আপনি আপনার মত করে বিড করতে পারেন । ধরুন, ক্লায়ন্টের একটা কন্টেন্ট লিখতে হবে, সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট ১০-৩০ ডলার প্রজেক্ট বাজেট সেট করে দিয়েছে। তাহলে এখানে বিড এমাউন্ট এর বক্সে আপনার নিজের বাজেট লিখবেন, পাশের বক্সে সময়সীমা উল্লেখ করবেন । আপনি এই কাজ কত দিনের মধ্যে শেষ করতে পারবেন সেটা লিখুন । এরপরে প্রজেক্টে ক্লায়েন্ট কি চেয়েছে সে ব্যাপার নিয়ে প্রোপোজাল লিখুন এরপরে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুণ, ব্যাস হয়ে গেলো আপনার প্রথম বিড । এভাবে প্রজেক্ট বুঝ বুঝে বিড করা শুরু করে দিবেন ।

আজকের মত এই পর্যন্তই যদি কোনো কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টস করবেন । আশা করি উত্তর দিতে পারবো।

আগামী পর্বে কি নিয়ে পোস্ট লিখতে হবে সেটা অবশ্যই কমেন্ট করবেন । সমস্থ পর্ব দেখতে আমাদের ওয়েব সাইট ভিজিট করতে পারেনঃ https://workeraim.com

#ওয়েলকাম_নিউবি <3 
#হ্যাপি_ফ্রিল্যান্সিং <3

লেখাঃ Shishir Chowdhury.

Leave a Reply