কোন কোম্পানির প্রসেসর সবথেকে ভালো দেখে নিন।(না দেখলে মিস)

আসসালামু আলাইকুম,
প্রিয় আমারটিপ্সয়ান,
কেমন আছেন সবাই?আশা করি সবাই ভাল আছেন।ভালো থাকারই কথা কেননা আমরা আমারটিপ্সথেকে দৈনিক কিছু না কিছু শিখতে পারি এবং আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারি।

আজ আমরা কথা বলবো কোন কোম্পানির প্রসেসর সেরা।চলুন শুরু করা যাক,

আমরা সবাই এখন বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ইউজ করি। স্মার্টফোনের এক বিশেষ অংশের নাম প্রসেসর।প্রসেসর মানেই তো বুঝতেই পারছেন সেটা যেকোনো কাজ কি প্রসেস করে।এখন প্রসেসর যত ভালো হবে বা উন্নত হবে ততই মোবাইলের কোন একটা কাজ খুব তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে।আশা করি আপনাদের সবারই হয়তো প্রসেসর সম্পর্কে মোটামুটি ভালই ধারনা আছে।

তো বন্ধুরা আজকে আমরা কথা বলবো জনপ্রিয় পাঁচটি প্রসেসর নিয়ে।যার মধ্যে অন্যতম- snapdragon , bionic , mediatek , exynos এবং kirin

প্রথমে কথা বলব kirin সম্পর্কেঃ


kirin খুবই ভালো মানের একটি প্রসেসর।তারা এআরএম থেকে প্রসেসর এর আর্কিটেকচার নিয়ে আসেএবং তারা সেটা টিএসএমসি ল্যাব থেকে তৈরি করে।তাদের প্রসেসর এর পারফর্মেন্স ভালো,তাদের এমপিও ভালো এবং তাদের প্রসেসর এর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ভালো।শুধুমাত্র তারা পিছিয়ে থাকে তাদের GPU এর কারনে।এই প্রসেসর বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয় HUAWAI ফোনে।এই প্রসেসরে ঠিকমত   আপডেট পাওয়া যায়না।এই প্রসেসরে জিকেএম এর সাপোর্ট পাওয়া যায় না এবং তাদের প্রসেসরে Image কোয়ালিটিতেও ভাল মানের পাওয়া যায় না।

তারপর আমরা কথা বলবো Exynos prossesor সম্পের্কঃ


Exynos প্রসেসর samsung এর নিজের ক্ষেতের চাষ মানে তাদের নিজস্ব প্রসেসর এটা।একটা সময় ছিল যখন এই প্রসেসর বড় বড় ফ্লাগশিপ ফোনে ব্যবহৃত হতো এবং এর চাহিদাও ছিল অনেক।এই Exynos প্রসেসর এর সাথে sanapdragon ও হার মানতো।এখন এমন এক অবস্থা হয়েছে যে SAMSUNG-এর Exynos প্রসেসর আমরা আমাদের স্মার্টফোনের চাই-ই না।স্যামসাং বর্তমানে এই প্রসেসর তৈরি করে তাদের খরচা বাঁচানোর জন্য মানে তাদের প্রচুর লাভ চাই।তারা তাদের প্রসেসর বিক্রির চেষ্টা করেছিল এবং সেটা কিনেছিল vivo এর কিছু মডেল।কিন্তু কোন জনপ্রিয়তা পায়নি।এই প্রসেসর এর কিছু খারাপ এবং ভাল দিকও আছে।এই প্রসেসর প্রায় kirin এর মতোই আপডেট ঠিকমতো পাওয়া যায় না।এই প্রসেসরে যে  GPU ব্যবহার করা হয়েছে তা Mali GPU…যা কোথাও না কোথাও গিয়ে sanapdragon এর Adreno GPU থেকে পিছিয়ে আছে।তারাও এআরএম থেকে technology কিনে।তারপর তারা এটাকে কিছু qualification করে তারা mangoes architecture নাম দিয়ে দেয়।তারপর দেখা যায় সেটার processing power অতটা ভালো নয়।বর্তমানে তারা develop  হওয়ার চেষ্টা করছে।তারা তাদের image quality ভালো করার জন্য google এর সাথে সম্পর্ক করছে।আশা করি সামনে এই প্রসেসর ভালো কিছু নিয়ে আসবে।

এখন কথা বলব mediatek নিয়েঃ


Mediatek সাধারণত low বাজেটে কম দামি ফোনগুলোতে ব্যবহার করা হয়।এই প্রসেসর ব্যবহার করা হতো vivo,oppo এর মতো ফোনগুলোতে।কম বাজেটে প্রসেসর কিনতো এবং ফোনগুলো বেশি দামে বিক্রি করতো।
কিন্তু এখন সেই Mediatek পাল্টে গেছে।তারাও এআরএম থেকে আর্কিটেকচার কিনে,কিন্তু কোনোরকম modify না করে সরাসরি বসিয়ে দেয়।আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন কম বাজেটে mediatek এর নতুন সিরিজ helio G70,P60,P80,G85 এগুলা খুবই ভালো গেমিং এর ক্ষেত্রে। তাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও খুব ভালোভাবে দেওয়া আছে।তাদের এই ভালোমানের প্রসেসর বানানো শুরু হয়েছিল মূলত helio G90T প্রসেসর দিয়ে।যেটা আমরা redmi note 8 pro তে দেখতে পাই।সেই processor-টা গেমিং এর জন্য দুর্ধর্ষ প্রসেসর।এখন বিশেষ করে শাওমির মিড বাজেটের ফোন গুলো mediatek helio ব্যবহার করছে।এ প্রসেসরে যেমন ভালো দিক পাওয়া যায় তেমন আবার খারাপ দিকও আছে।তাদের অনেক প্রসেসর আছে যেগুলোতে এখনো অনেক হিটিং সমস্যা পাওয়া যায়।তাদের প্রসেসর এর কোন ধারাবাহিকতা নেই।কোন প্রসেসর একেবারেই ভাল হয় আবার কোন প্রসেসর খারাপ হয় যাতে হিটিং ইস্যু খুবই ভালো মানের পাওয়া যায়।আবার তাদের প্রসেসরে ডেভেলপার সাপোর্ট ভালোভাবে পাওয়া যায় না।সুতরাং এই প্রসেসরটি মিড-লো বাজেটের ফোনের জন্য মোটামুটি ভালোই।

এখন যেটা সম্পর্কে বলবো সেটা হল এন্ড্রয়েডের সবথেকে সেরা প্রসেসর sanapdragon সম্পর্কেঃ


গেম ডেভেলপাররা যে সময় গেম তৈরি করে তখন তারা সাধারণত একেকটা প্রসেসর এর জন্য তাদের গেমগুলোকে অপটিমাইজ করে। সেটা অন্যান্য প্রসেসর এর জন্য অপটিমাইজ করে কম কিন্তু ৯০% করে তারা sanapdragon এর ক্ষেত্রে।Qualcomm কোম্পানি এ প্রসেসর তৈরি করে এবং তারাও এ আরএম এর থেকে আর্কিটেকচার কিনে এবং সেটাকে modify করে তারপর cortex নাম দিয়ে তাদের প্রসেসরে সেটা ইমপ্লিমেন্ট করে।তাদের cortex খুবই ভালো এবং তাদের যে adreno GPU  আছে সেটা বরাবরের মতই ভালো।Adreno GPU এর জন্য সব সময় সব গেম কে এবং সব রকম অ্যাপ্লিকেশন কেও ডেভেলপ করা হয়।এ প্রসেসরে আপডেটও ঠিকমতো পাওয়া যায়। তাদের প্রসেসর জিকেএম সাপোর্ট ভালো পাওয়া যায়।তাদের প্রসেসরের জন্য কাস্টম রম প্রচুর পাওয়া যায়।পারফরম্যান্স ফিচার, পাওয়ার, এ.আই, এমপিইউ,যে কোন জিনিস নিয়ে নিন সেখানে Qualcomm sanapdragon সব সময় এগিয়ে থাকবে।এই প্রসেসর এর image quality ও দূধর্ষ। তারা 4k 60fps দিয়ে image prossesing সেটা অনেক আগে নিয়ে এসেছিল।তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করার জন্য তারা 4G,5G মডেম তৈরি করছে।Qualcomm prossesor এর একটাই সমস্যা যে তাদের দাম অনেক বেশি।তারা তাদের প্রসেসরগুলোর তৈরি করে এবং বিভিন্ন দামে কোম্পানির কাছে বিক্রি করে যা অন্যান্য ভালো প্রসেসর এর তুলনায় দাম অনেক বেশি।এবং এই প্রসেসর কোম্পানি কিনতে বাধ্য কেননা গ্রাহক এই প্রসেসর চোখ বন্ধ করে কিনছে।একটা তথ্যে এসেছিল অনেক আগে যে,তারা তাদের একটা প্রসেসরে(sanapdragon 875)প্রায় ২৫০ ডলার লাভ করে।যেটা দিয়ে একটা ভালো মানের মোবাইল পাওয়া যায়।সুতরাং পরিশেষে বলা যায় তারা তাদের কোম্পানির মনোপলি কমাতে হবে।

Qualcomm থেকেও ভালো প্রসেসর নির্মাণ করে Bionic chip।নিচে বিস্তারিতঃ


Bionic Apple এর নিজস্ব প্রসেসর।
Bionic A13,A12,A13 এসব যে চিপের নাম আমরা শুনেছি সেই প্রসেসরগুলো অবশ্যই Qualcomm prossesor থেকে অনেক ভাল পারফর্ম করে।পারফরম্যান্স বলুন ইমেজ প্রসেসিং বলুন সবদিক দিয়েই এগিয়ে থাকে এই চিপসেটটি।তারাও টিএসএমসি থেকেই তাদের চিপসেট তৈরি করে আনে কিন্তু তারা তাদের চিপসেট অন্য কোন কোম্পানি কে দেয় না বা বিক্রি করে না,শুধুমাত্র তাদের কোম্পানির জন্যই এটা তৈরি করে।তাদের চিপসেটে কোন ধরনের সমস্যা পাওয়া যায় না।

অবশেষে যদি তারা তাদের এই চিপসেট টি বিক্রি   করত তাহলে হয়ত Qualcomm sanapdragon দামের ক্ষেত্রে কিছুটা আয়ত্তে আসত।
সুতরাং আমরা যদি কোনো মোবাইল কিনি মিড বাজেটে তাহলে অবশ্যই Qualcomm sanapdragon কিনার চেষ্টা করব।

আজ এই পর্যন্ত।মানুষ মাত্রই ভুল।সুতরাং ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আমি আমারটিপ্সতে নতুন তাই সবার সাপোর্ট আশা করছি।
সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন এবং আমারটিপ্সর সাথে থাকবেন।
আল্লাহ হাফেজ

টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন

Leave a Reply