যে দুইটি সময়ে তওবা কবুল হয় না জেনে নিন। না দেখলে মিস করবেন।

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

যে দুইটি সময়ে তওবা কবুল হয় না

ইবাদতসমূহের মধ্যে তওবা অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি সর্বাবস্হায় সর্বত্র সকলের জন্য প্রযোজ্য।তওবা মানুষের জীবনের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় তওবা হলো →স্হায়ী অনুশোচনা ও অধিক ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করা।

তওবা প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমের সূরা আন নুরে ইরশাদ হয়েছে →হে মুমিনরা! তোমার সবাই আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমার সফলকাম হতে পারো।তওবাকারীকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।

এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে →মহান আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল বাকারা ২২২)

আল্লাহ তায়ালা তওবাকারীর তওবা কবুল করে তাকে শুধু পাপ মুক্ত করেন না বরং তার পাপকে পুন্যে রুপান্তরিত করেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন →তবে তারা নয়,যারা তওবা করে ইমান আনে ও সৎকর্ম করে।আল্লাহ তায়ালা তাদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেন।আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু (সূরা আল ফুরকান ৭০)

যাদের তওবা কবুল করা হয়:

তারা হলো অজ্ঞাতবশত পাপকার্যে লিপ্ত হওয়া পর যারা তওবা করা আল্লাহ তায়ালা তাদের তওবা কবুল করে থাকেন। এছাড়া আরো যাদের তওবা কবুল করে হয় তারা হলো – যারা পাপকর্ম থেকে বিরতি থেকে নিজেদের সংশোধন করে নেয়,ইমান আনার পর সৎকর্ম সম্পাদন করে। না দেখেই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে, তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহর উদ্দেশ্য স্বীয় জানমাল উৎসর্গ করে,আল্লাহর পথে দান সদকা করে

হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যথাযথ অনুসরণ করে, মানুষের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেয়,সর্বদা সত্য কথা বলে, এবং যারা সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে

যাদের তওবা কবুলযোগ্য নয়:

১.যারা শিরকে লিপ্ত হয়। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন → আল্লাহ তার শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।এটা ব্যতিত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহর শরিক করে সে এক মহাপাপ করে। (সূরা আন নিসা ৪৮)

২.যাদের মধ্যে মুনাফিকের দোষ বিদ্যমান। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে → তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো,উভয়ে তাদের জন্য সমান।আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।(সূরা আল মুনাফিকুন ৬)

৩.যারা সীমালঙ্ঘন করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন → যারা কুফরি করেছে ও সীমালঙ্ঘন করেছে আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথও দেখাবেন না (সূরা আন নিসা ১৬৮)

৪.যারা ইমান আনার পরেও পুনঃ পুনঃ /বারংবার কুফরি করে।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন → যারা ইমান আনে ও পরে কুফরি করে এবং আবার ইমান আনে,আবার কুফরি করে। অতঃপর তাদের কুফরি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো সঠিক পথে পরিচালিত করবেন না। (সূরা আন নিসা ১৩৭)

(অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের নাম ইমান, মুনাফিকরা স্বার্থসিদ্বির জন্য ইমান এনেছে,বলে মুখে প্রকাশ করত,আবার সুযোগ সুবিধা পেলে সেটা অস্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করত না, আলোচ্য আয়াতে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে)

৫.যারা কুফরি অবস্থার মৃত্যুবরণ করে। মহান আল্লাহ বলেন →যারা কুফরি করে ও আল্লাহ পথ হতে মানুষকে নিবৃত্ত করে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না। (সূরা মুহাম্মদ ৩৪)

এখন আমার জানবো যে দুই সময় তওবা কবুল হয় না

১.সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পরঃ

সাহাবী হযরত আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন →নিশ্চয়ই আল্লাহ রাতে তাঁর হাতকে সম্প্রসারণ করেন, যাতে দিনের পাপীরা তওবা করতে পারে।এ অবস্থার সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া(কিয়ামত) পর্যন্ত চলতে থাকবে।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নাম্বার ২৭৫৯)

২.মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্তে, যখন আজরাইল (আঃ) এর দেখা পাবে,অর্থ্যাৎ রুহ গলদেশ এসে আটকাবার পরে তওবা কবুল হবেনা :

এ প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল আকরাম (সাঃ) বলেছেন → রুহ গলদেশ এসে আটকাবার পূর্বে পর্যন্ত আল্লাহপাক বান্দার তওবা কবুল করেন(মিশকাত হাদিস ২৩৪৩)

হাদীসে এসেছে, সব আদম সন্তানই গুনাহগার, গুনাহগারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তওবাকারীরা (তিরমিজি হাদিস ২৪৯৯; ইবনে মাজাহ হাদিস ৪২৫১)

তাই আমাদের সময় থাকতে তওবা করতে হবে। কমপক্ষে দিনে ৭০ বারের বেশি তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ পড়বেন।কেননা দৈনিক ৭০ বার তওবা করলেও মাফের আশ্বাস আছে।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেন → যে ব্যক্তি ইস্তিগফার করে (গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা) পরে তওবা করে, তবে তা বার বার হিসাবে গন্য হবে না; যদিও সে ব্যক্তি দৈনিক ৭০ বারও এরূপ করে। (আবু দাউদ হাদিস ১৪১৫)

আরেকটি হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী (সাঃ) বলেন → তোমার আল্লাহ কাছে তওবা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি দিনে ১০০ বার তওবা করি। ( সহিহ মুসলিম ৭০৩৪)

তাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবা কবুলের সুযোগ আছে। মৃত্যু কার কখন আসে কেউ জানেনা তাই এখনি একবার চলুন তওবা করে নেই তওবার অনেক গুলো দোয়া রয়েছে তার মধ্যে একটি দোয়া হলো :

আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি

অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব।তিনি নিখিল সৃষ্টির পরিচালক। আমি তার কাছেই ফিরে যাব।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন →যেই ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে আল্লাহ তাকে ক্ষম করে দেবেন। যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক আসামি হয়।(অর্থ্যাৎ সে যদি বড় রকমের গুনাহগারও হয় তবুও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। (তিরমিজি ৪/৬৯; আবু দাঊদ ২/৮৫;মিশকাত হা/২৩৫৩; হাদিসটি সহিহ ঃ সিলসিলা সহীহাহ)

এছাড়াও বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জায়েদ (রা.) আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেন হযরত নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন → যে ব্যক্তি এ দোয়াটি পাঠ করবে তার (জীবনের) সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ। (আবু দাউদ ১৫১৯;তিরমিজি ৩৫৭৭)

প্রিয় ভাই ও বোনেরা লাইক কমেন্ট শেয়ার করে ইসলামি দাওয়াতে আপনিও অংশগ্রহণ করুন।প্রিয় বন্ধুরা জানার স্বার্থে দাওয়াতি কাজের স্বার্থে আর্টিকেলটি অবশ্যই শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।হতে পারে আপনার একটি শেয়ার বহু মানুষ উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply