VIVO V20 ৭দিন আমার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা! সাথে ফুল আরে রিভিউ।

আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন সবাই???
যদিও স্মার্টফোন রিভিউ নিয়ে এটাই প্রথম এবং শেষ পোস্ট হতে পারে কারণ পরবর্তীতে কোন ফোন কিনব কিনা তা সুনির্দিষ্ট বলতে পারছিনা।


তো কথা বলছিলাম ভিভো v20 কে নিয়ে, এর আগে ভি সিরিজের অনেকগুলো ফোন আমি পার্সোনালি ইউজ করেছি তারমধ্যে বলতেই হবে এটা ছিল প্রিমিয়াম স্মার্ট ফোন।

ভিভো তাদের ভি সিরিজটাকে নতুনত্ব আনার ট্রাই করছেন যা খুবই ভালো একটা ব্যাপার।
এই ফোনটি প্রায়ই আমি সাত দিনের মতো ব্যবহার করছি যার জন্য বলব এই ফোনটার ভালোর সাথে আবার কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তো সেজন্য বলব আপনি যদি ViVo V20 ফোনটি কেনার কথা ভাবেন তাহলে অবশ্যই পোস্টটি সম্পূর্ণ রূপে পড়তে হবে কারণ ফোনটি নিয়ে আমি একদম ডিটেইলস এ আলোচনা করবো।

এই ফোনটি বাংলাদেশের মার্কেটে দুইটা কালার ভেরিয়েন্ট এ লঞ্চ করা হয়েছে যা হচ্ছে, সানরাইজ মেলোডি, এবং আরেকটি হচ্ছে মিডনাইট। তবে আমার কাছে সানরাইজ কালারটা সবথেকে বেশি ভালো মনে হয়েছে এবং আমি এটা কিনেছি।
প্রথমে আমি বলেছিলাম ভিভো তাদের ভি সিরিজে অনেকটা আপডেট করছে যা হচ্ছে এই ফোনটি তার স্টিল উদাহরণ তো বলা যায় ফোনটি ছিল খুবই প্রিমিয়াম।

ফোনটা হাতে নিলে খুবই সলিড ফিল আসে ফোনটি ছিল সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বিল্ট এর বাট পিছনে যে ম্যাট ফিনিশ টা দেওয়া হয়েছে যা খুবই চমৎকার।
এবং এই ম্যাট ফিনিশ টাই বলা যায় ফোনে প্রিমিয়াম নেস টা বাড়িয়ে তুলেছে মানে বলা যায় ডে টু ডে কাজের ক্ষেত্রে তেমন কোনো দাগ পড়ার সম্ভাবনা নেই।
সাথে হচ্ছে ফোনটার ফিটনেস যেহেতু ৭.২ মিলিমিটার যার জন্য বলা যায় খুবই স্লিম ছিল ফোনটা। এবং ফোনটা হাতে নিলে প্রিমিয়াম একটা ফিল‌ পাওয়া যায় যার জন্য বলব ফোনটা আসলেই খুব প্রিমিয়াম নেস আছে।

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে যেহেতু ৪,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার এর ব্যাটারি যার জন্য বলা যায় ফোনটি খুব লাইটওয়েট ছিল, তার জন্য বলা যায় বালকি ফিল হওয়ার কোনো কারনই থাকছে না।
তাই বিল্ড কোয়ালিটি তে এর প্রিমিয়াম নেস এবং স্মুথ নেস একটু বেশিই বলা যায়।

ফোনটি রাইট সাইডে পাচ্ছি হচ্ছে পাওয়ার বাটনের সঙ্গে ভলিউম রকার পাওয়ার বাটনের ওপর একটু নেট ফিনিশ দেয়া হয়েছে বলা যায়। এবং লেফট সাইডে ট্রিপল স্লট রয়েছে।
যেখানে দুইটা সিম এর সঙ্গে একটি ডেডিকেটেড মাইক্রো এইচডি কার্ড ব্যবহার করা যায়।

ফোনটির বটম সাইডে হচ্ছে ৩.৫ এম এম হেডফোন জ্যাক পাচ্ছি যা খুবই পজেটিভ একটা ব্যাপার সাথে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট মাইক্রোফোন পোর্ট এবং একটি স্পিকার গ্রিল।
আর এর স্পিকার কোয়ালিটিও অনেকটা ভালো ছিল এই বাজেট সেগমেন্ট এ।


ফোনটি ডিসপ্লে সেকশনে পাচ্ছি হচ্ছে ৬.৪৪ ইঞ্চির একটি এমোলেড প্যানেল যার রেজুলেশন হচ্ছে ফুল এইচডি প্লাস। এবং এর স্ক্রিন টু বডি রেশিও হচ্ছে 83% এবং এর পিপিআই ডেনসিটি হচ্ছে ৪০৯,
ডিসপ্লেতে যেহেতু এমোলেড এর সাথে ফুল এইচডি প্লাস এর ডিসপ্লে রয়েছে তাই এখানে কমপ্লেইন করার তো কিছুই থাকছে না।

মানে বলা যায় এখানে day-to-day ইউজে satisfied’ থাকার মত একটা বিষয় সাথে হচ্ছে এতে ইউটিউব ভিডিও প্লে হবে 1080p তে এবং মিডিয়া কন্সুমের ক্ষেত্রে খুবই শারপনেস এবং ডিটেলস এর পরিমান খুবই ভালো পেয়েছি।
তবে একটা নেগেটিভ সাইট হচ্ছে এখানে নস ইউজ করা হয়েছে এখানে যদি একটা পাঞ্চ হল ডিসপ্লে থাকতো তাহলে অনেক ভালো লাগতো।
এবং ডিসপ্লে চারিপাশে একটু বেজেল এবং চীন এরিয়া দেখতে পেয়েছি।


ফোনটির সিকিউরিটি সিস্টেমে পাচ্ছি হচ্ছে আন্ডার ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এটা বলা যায় খুবই পজেটিভ একটা ইস্যু সাথে বলা যায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর টি আমার কাছে একটু স্লো মনে হয়েছে।
তাই এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট যদি আরেকটু ফাস্ট করা যেত তাহলে বলব সিকিউরিটি সিস্টেম আর একটু ইম্প্রুভ থাকতো এটি।
ফোনটিতে আরও থাকছে ফেস আনলক এর মত দারুন ফিচার।

প্রথমদিকেই বলেছিলাম ফোনটি অনেক স্লিম আর এই স্লিম নেস টাকে ধরে রাখার জন্য এটাতে ইউজ করা হয়েছে ৪,০০০ মিলি এম্পিয়ারের একটা ব্যাটারি।
আমি জানি এই চার হাজার শুনে অনেকেরই মন খারাপ হয়ে যেতে পারে কারণ এখন বর্তমান সময়ে ৫ হাজার এর একটা ট্রেন চলছে। তবে ফোনটিক প্রিমিয়াম এবং স্লিম এর দিকে তাকালে এতে ৪,০০০ টা আমি কনসিডার করতে পারি।
আর ব্যাটারি ব্যাকআপ এর কথা বললেও খুব একটা খারাপ ছিল না বেশ ভালই ব্যাকআপ পাচ্ছিলাম।
মোটামুটি এক দিনের মতো কাভার করতে পারে।
ফোনটির বক্সে পাবেন ৩৩ ওয়াটের একটি ফাস্ট চার্জার যেটা দিয়ে সম্পূর্ণ ফুল চার্জ হতে সময় নিচ্ছিল মাত্র ৫০ মিনিট।


ফোনটিতে ইউজ করা হয়েছে কোয়ালকম স্নাপড্রাগণ 720G যেটা হচ্ছে ৮ ন্যানোমিটার thread এ বিল্ড করা, আর এটি হচ্ছে একটি অক্টা কোর প্রসেসর যার ম্যাক্সিমাম ক্লক স্পিড হচ্ছে ২.৩ গিগাহার্জ। আর এর জিপিইউ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাড্রিনো ৬১৮,

তো পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলার আগে হার্ডওয়ার নিয়ে একটু কথা বলি।
ফোনটির প্রাইস যেহেতু ৩৪ হাজার টাকা তাই সে ক্ষেত্রে 720G এই processor-টা এই বাজেটে আসলে যায় না।
তাই এটার প্রসেসর সেকশনে আরেকটু আপডেট আনার প্রয়োজন ছিল।

Qualcomm Snapdragon 720G এর পারফরম্যান্স কেমন চলুন জেনে নিই।
এটাতে এনটুটু বেস্ট মার্ক স্কোর ২ লক্ষ ৬৬ হাজার এর মত যার জন্য অনেকটাই ইম্প্রেসিভ।
বড় ধরনের গেম খেলেছি আমি যেমন পাবজি খেলছিলাম পাবজি হচ্ছে হাই গ্রাফিক্সে এইচডি পর্যন্ত সাপোর্ট করে।
এবং এতে গেমিং এক্সপেরিয়েন্স একদম ইসমত ছিল মানে বলবো এতে মেজর কোন লেগ কিংবা frame drop পাইনি গেম গুলো অনেকটাই ইসমতলি রান করতে পারছিল যেটা অবশ্যই একটি পজেটিভ ইসু।


একই সাথে আমি কল অফ ডিউটি প্লে করেছি যেটা বলা যায় অনেকটাই হাই গ্রাফিক্স প্লে হচ্ছিল তবে এতে ও কোনো সমস্যার দেখা পায়নি।
যারা গেমার রয়েছেন তারা নিঃসন্দেহে এটাতে গেমিং করতে পারবেন যে কোন লেভেলের, তো বলাই যায় যে গেমিং এর দিক থেকে এটা অনেকটাই এগিয়ে থাকল।
আর গেমিং এর ক্ষেত্রে তেমন কোনো হিটিং ইসু লক্ষ্য করেনি তেমন কোনো এক্সট্রিম লেভেল এর হিট আমি দেখিনি।

ফোনটির OS এ থাকছে ফান্টাস ১১.০ সাথে অ্যান্ড্রয়েড ১১ থাকছে এতে, তো এগুলোর জন্যই বলবো এর সফটওয়্যার সেকশনে অনেক টাই এগিয়ে থাকছে স্মার্টফোনটি।
তো সবমিলিয়ে এর ইউজিং এক্সপেরিয়েন্স এর ক্ষেত্রে অনেকটাই সেটিস্ফাইড আমি।


ফোনটি রেয়ার সাইডে থাকছে একটি ক্যামেরা বাম্প যেটা বলা যায় একটু উঁচু রয়েছে যা সমান জায়গায় রাখলে একটু সমস্যা হতে পারে, এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ।
যার প্রাইমারিতে থাকছে ৬৪ মেগাপিক্সেল এর একটি প্রাইমারি ক্যামেরা তবে এটা কোন সেন্সর সেটার কোনো ধারণা পাইনি আমি।

সাথে থাকছে ৮ মেগাপিক্সেল এর আল্ট্রা ওয়াইড এবং ২ মেগাপিক্সেল এর ডেপ সেন্সর।

এখন যারা ভাবছেন ম্যাক্রো লেন্স টা কোথায় ম্যাক্রো হচ্ছে এটাতে ডেডিকেটেড দেওয়া হয়নি কিন্তু আপনারা সফটওয়্যার এ ম্যাক্রো ছবি তুলতে পারবেন।

তো ফোনটির ক্যামেরার পারফরম্যান্সের কথা যদি বলি খুবই ভালো ছিল এর পারফর্মেন্স মানে বলা যায় এর ছবিগুলো ছিল আই ক্যাচি এবং ডিটেলস এবং sharpness এ ভরপুর ছিল।


ফোনের ফ্রন্ট এ পাচ্ছি হচ্ছে ৪৪ মেগা পিক্সেলের একটি প্রাইমারি শুটার সিরিয়াসলি?
মানে ৪৪ শুনে আমি অনেকটাই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছি এবং এর ফ্রন্ট ক্যামেরার কোয়ালিটি ও টেস্ট করেছি যা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
ছবিগুলো অনেক ভালো আসলে ও একটু স্মুথ করার প্রবণতা ছিল সে ক্ষেত্রে বলবো ফ্রন্ট ক্যামেরার ছবিগুলো কুয়ালিটি ও একদম খারাপ নয়।
তো এই ছিল ViVo V20 কে নিয়ে আমার মোটামুটি অভিজ্ঞতা।

তো চলুন ফোনটির কিছু নেগেটিভ ইস্যু নিয়ে কথা বলি।
১. ফোনটি যেহেতু প্রায় ৩০ হাজার টাকার উপরে লঞ্চ করা হয়েছে এবং সাথে দেয়া হয়েছে Snapdragon 720G এর মত প্রসেসর তাই অবশ্যই বলল প্রাইজের সাথে এর প্রসেসর টা একটু দুর্বল মনে হয়েছে।
২. ফোনটিতে একটা নস ব্যবহার করা হয়েছে যেটা বলা যায় অনেকটা চিপ বাজেটের ফোন এর মত লাগে তো এখানে যদি একটা ফুল ভিউ ডিসপ্লে ব্যবহার করা যেত তাহলে আরো ভালো হতো।
তো এই দুইটা নেগেটিভ ছাড়া আর তেমন কোনো ইস্যু ছিল না ফোনটা আসলেই রিকুমেন্ট করার মতোই ছিল।

আমার এই রিভিউ টি আপনার কাছে কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না!
তো আজকের মত বিদায় নিচ্ছি আমি অনামিকা দেখা হবে পরবর্তী পোস্টে অন্য কোন টপিকস এর সাথে। সে পর্যন্ত আমারটিপ্সর সাথেই থাকুন এবং ভাল থাকুন।
আমার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। এবং ।জয়েন করুন আমার ফেসবুক গ্রুপে
গ্রুপে অবশ্যই জয়েন করুন সবার কাছে অনুরোধ রইলো।

Leave a Reply