বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম। অর্থনীতিতে কোন দেশ শক্তিশালী? Bangladesh VS Vietnam Economic Comparison.

বাংলাদেশ’কে একটা সময় বলা হতো তলাবিহীন ঝুঁড়ি। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নতিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে মুন্সিয়ানা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। তকমা ঝুঁটেছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে হিসেবে। আর এই তকমা আমি আপনি না, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা দিয়েছে।

অপরদিকে, বিশ্বের অন্যতম শিপিং রুট এবং ক্রমবর্ধমান তরুণ প্রজন্মের কারণে দিনদিনই এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছে ভিয়েতনাম। বর্তমানে কৃষিনির্ভর এ দেশটির মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে উৎপাদন খাত। আর উন্নয়নশীল প্রযুক্তিখাতের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি এশিয়ার পরবর্তী ‘টাইগার ইকোনমি’ হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে প্রত্যাশা বিশ্লেষকদের।

বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম। অর্থনীতিতে কোন দেশ শক্তিশালী? Bangladesh VS Vietnam Economic Comparison.

হ্যালো বন্ধুরা আজকে এই পোস্টটিতে আমরা বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরব যার মধ্যে GDP, মাথাপিছু আয়,কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, সহজ ব্যবসা সূচক পরিস্থিতি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য থাকবে তাই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

মানচিত্র ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতিতে ভিয়েতনামের কোন জায়গা ছিল না। অথচ সেই ভিয়েতনামের জায়গা করে নিয়েছে চীন, জাপানসহ এশিয়ার বড় বড় অর্থনীতির দেশ এর তালিকায়।

PWC পি ডব্লিউ সি এর মতে 2050 সালের মধ্যে শুধু এশিয়া নয় বরং বিশ্বের বৃহৎ বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে একটি হবে ভিয়েতনাম।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান CBER এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে 2032 সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় 25 বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে এবং তখন বাংলাদেশের অবস্থান হবে 24 তম। বর্তমানে অবস্থান 41 তম।

2033 সালে বাংলাদেশের পিছনে থাকবে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম দক্ষিণ আফ্রিকা এর মত দেশ।

আগামী 15 বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন ( GDP) 7 শতাংশের উপরে থাকবে।

এবার দেখে নেব বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

ভিয়েতনামের জনসংখ্যা প্রায় 9.50 কোটি আর বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় 16 কোটি।

ভিয়েতনামের কাগজী মুদ্রা কে বলা হয় ডং/ ঢং আর বাংলাদেশের এটা টাকা নামে পরিচিত।

ভিয়েতনামের জিডিপি প্রায় 244 বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অপরদিকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় 314 বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

2019 সালে ভিয়েতনামের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার 6.6 শতাংশ অপরদিকে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার 8.13 শতাংশ।

নমিনাল জিডিপির ভিত্তিতে ভিয়েতনামের বর্তমান অর্থনীতি বিশ্বের 45 তম অপরদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে 39 তম।

আবার purchase power parity (PPP) ক্রয় ক্ষমতা সূচকে ভিয়েতনামের অর্থনীতি বিশ্বে 33 তম অপরদিকে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান 29 তম।

2019 সালের প্রাক্কলিত হিসেব অনুযায়ী ভিয়েতনামের গড় মাথাপিছু আয় 2400 মার্কিন ডলার অপরদিকে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় হাজার 1909 মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে।

ভিয়েতনামের গড় মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রায় 1500 ডলার অপরদিকে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রায় 600 ডলার।

ভিয়েতনামের মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় 2.50 শতাংশ অপরদিকে 2019 সালের প্রাক্কলন হিসাবে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় 5.56 শতাংশ।

বিশ্ব ব্যাংক ease of doing business লিস্টে ভিয়েতনামের অবস্থান 70 তম অপরদিকে বাংলাদেশের অবস্থান 168 তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে।

ভিয়েতনামের মানুষের গড় আয়ু 75.24 বছর অপরদিকে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু 72.5 বছর।

ভিয়েতনামের প্রায় 8.40 শতাংশ মানুষ দরিদ্র অপরদিকে বাংলাদেশে এই সংখ্যা প্রায় 18.5 শতাংশ।

ভিয়েতনাম মানব উন্নয়ন সূচকে 189 দেশের মধ্যে 116 তম অপরদিকে বাংলাদেশ মানব উন্নয়ন সূচকে 136 তম অবস্থানে আছে।

নারী-পুরুষ সমতায়নে বিশ্বের 149 দেশের মধ্যে ভিয়েতনাম 77 তম অপরদিকে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান 48 তম।

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (ILO) এশিয়া প্যাসিফিক এম্প্লয়মেন্ট এবং সোশ্যাল আউট লুক 2018 তে উল্লেখ করা হয় ভিয়েতনামের বেকারত্বের সংখ্যা 1.89 শতাংশ অপরদিকে বাংলাদেশের বেকারত্বের সংখ্যা 4.29 শতাংশ।

2019 সালে ভিয়েতনামের মোট রপ্তানির পরিমাণ 2017 বিলিয়ন মার্কিন ডলার একই সময় ভিয়েতনাম মোট আমদানি করেছে 210 বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর পণ্য। অর্থাৎ ভিয়েতনামের প্রায় 60 বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আছে। অপরদিকে 2018-19 অর্থবছরের 55.44 বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ একই সময় রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে 39.94 বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় 15 বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভিয়েতনামের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় 64 বিলিয়ন মার্কিন ডলার অপরদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় 30 বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

2019 সালে ভিয়েতনামের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ 26 মিলিয়ন ডলার অপরদিকে বাংলাদেশের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ 3.61 বিলিয়ন ডলার।

Foreign direct investment ( FDI ) এর মতে বাংলাদেশ ভিয়েতনাম এর চেয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।

শক্তিশালী মুদ্রার মান, উল্লেখযোগ্যহারে বৈদেশিক বিনিয়োগ, চাঙ্গা উৎপাদন ও রপ্তানি খাত, অবকাঠামো গত উন্নয়নই ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কারণ। ভিয়েতনাম বর্তমানে পোশাক রপ্তানি খাতে বাংলাদেশকে টপকে সারা বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

অপরদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্রতা, দুর্বল অবকাঠামো, অদক্ষতা, দুর্নীতি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণখেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধি, ধনী গরিবের বৈষম্যতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আমি মনে করি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত কিংবা পাকিস্তান নয় বরং ভিয়েতনাম ফিলিপাইন এর মত দেশ কোন অনুসরণ করা উচিত।

বাংলাদেশের মত দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দেশ পাকিস্তান। বর্তমানে পাকিস্তানের অর্থনীতি বেশ ভঙ্গুর বলা চলে। স্বাধীনতার 48 বছর পর বাংলাদেশে এখন পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে টক্কর দিচ্ছে।

অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ জানতে এখানে ক্লিক করুন।

পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ ।

আর পরবর্তী পোস্টে আপনারা কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখতে চান তা কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন।

ধন্যবাদ।

Leave a Reply