দিনে গাছ অক্সিজেন দেয় তবে রাতে অক্সিজেন দেয় না তাহলে আমরা অক্সিজেন পাই কোথা থেকে?

আলোচনাঃ

(গাছ বলতে উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদকে আমি ধরে নিচ্ছি)

আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন শুধু উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদ থেকেই আসে না আর আমরাই বা শুধুমাত্র অক্সিজেন গ্রহণ করি না,উদ্ভিদও প্রতিনিয়ত অক্সিজেন ব্যবহার করছে ।আমাদের গ্রহণকৃত নিস্বাসের বায়ুতে অক্সিজেনের সাথে থাকে জলীয়বাষ্প, ধুলোকণা,কার্বনডাইঅক্সাইড সহ অন্যান্য গ্যাস। ছাকন প্রক্রিয়া করে আমাদের ফুসফুস। দূষিত বায়ু গ্রহণে আমাদের ফুসফুস তুলনামূলক ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এজন্য পরিবেশবিদরা অধিক চিন্তিত।

যাই হোক প্রশ্নের দিকে আসি

বিষয়ঃ দিনে গাছ অক্সিজেন দেয় তবে রাতে অক্সিজেন দেয় না তাহলে আমরা অক্সিজেন পাই কোথা থেকে?

মুল আলোচনাঃ

সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। আর শৈবালদাম এই ফটোসিন্থেসিস এর ৬০ ভাগ করে থাকে, বাকি ৪০ভাগ উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদেরা! ধারণাকরা হয় লক্ষ বছর আগে এই শৈবালদাম থেকে প্রথম অক্সিজেন উৎপন্ন হয় যা জমা হয়ে মোট বায়ুমন্ডলের ২০.৯ বা ২১শতাংশে বিরাজ করছে।এ-র পর পরই উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদ এসেছে।

অক্সিজেন কিন্তু আবার উৎপন্ন হচ্ছে ওজনস্তরের ক্ষয় থেকে।

সি.এফ.সি. গ্যাসের ফলে স্ট্র‍্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজন স্তরের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে প্রথমে ক্লোরিন মনোঅক্সাইড মূলক(ClO.) ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।

পরে ClO. মূলক অক্সিজেন পরমাণুদের সাথে মিলে অক্সিজেন অনু ও ক্লোরিন পরমাণু তৈরি করে।আপাত ভাবে ভালো মনে হলেও একদিকে ওজন লেয়ার ক্ষয় ও কসমিক রে পৃথিবীতে প্রবেশ অন্যদিকে মুক্ত ক্লোরিন পরমাণু পৃথিবী ধ্বংসের আরেক ভয়াবহ বার্তা বহন করছে!(এটা কিন্তু দিন রাত সবসময়ই ঘটছে)

আবার কিছু কিছু উদ্ভিদ রাতে অক্সিজেন ঠিকই ছাড়ছে! 👇

তেমনিভাবে উদ্ভিদ শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন রীতিমতো গ্রহণ করে চলছে। মাঝে মাঝে উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকেও অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে।রাতের বেলায় স্তব্ধ আবহাওয়ায় বড় বড় বৃক্ষ উদ্ভিদের নিচে অক্সিজেনের ঘনত্বের সল্পতা দেখা দেয়।অনেকের শ্বাস-কষ্টের উপদ্রব হয় যা গ্রামাঞ্চলে মানুষ বলে “ঘাড়ে ভূত চাপছে”! ভূপৃষ্ঠে অক্সিজেনের ঘনত্ব যদিওবা বেশি।সমতল ভূমি থেকে বেশ উপরে উঠলে এর অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।

উদ্ভিদ কিন্তু বেশ বুদ্ধিমানও। সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেনের সবটা কিন্তু পরিবেশে উন্মুক্ত করে না,কিছুটা শ্বসনের জন্যও রেখে দেয়।

তাছাড়া বিভিন্ন কলকারখানাতে নিয়মিতভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া চলছে।সেখান থেকে অতিরিক্ত উৎপাদ হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে কিন্তু তা বেশ বিষাক্ত। সেজন্য পরিবেশে উন্মুক্ত করার সময় শোধন করে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

আর হ্যা, আমরা কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবে রিজার্ভ করা অক্সিজেন ব্যবহার করছি।প্রতিদিনের উৎপন্ন অক্সিজেন প্রতিদিন শেষ হয়ে যায় -এমন পর্যায়ে এখনো আসেনি। তাই সময় থাকতে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা জরুরি! অগণিত ভাবে গাছ লাগানো উচিত।

আর মনে পড়ছে না। জটিল প্রক্রিয়া গুলো হালকা করে তুলে ধরার চেষ্ঠা করলাম ⛄

(ছবিঃ গুগল)

Leave a Reply