বইপোকাদের জন্য ৯ টি অসাধারণ সহজ ইংরেজি সাহিত্যের বই যেগুলো না পড়লে আপনার জীবন বৃথা

বিনোদন ও শিক্ষামূলক কাজগুলোর মধ্যে একটি। এমন কেউ নেই যে গল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যেতে চায় না। অবসরে বইয়ের চেয়ে ভালো সঙ্গী কমই আছে।
অনেকেই ইংরেজিতে দুর্বল বলে ইংরেজি বই পড়তে অনীহা দেখায়। তবে এ কথা সত্যি, ইংরেজি সাহিত্যের মতো সমৃদ্ধ সাহিত্য কমই আছে পৃথিবীতে। হেন কোনো বিষয় নেই যার উপরে লেখা হয়নি এই সাহিত্যে। তাই ভাষাগত দুর্বলতার কারণে এই বিশাল সম্ভারকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া নিজের জন্যেই খারাপ।
এমন অনেক বই আছে, যা সহজভাবে লেখা – ইংরেজি সাহিত্যে নবিশদের জন্যে খুবই উপকারী। এগুলো একই সাথে যেমন সহজপাঠ্য, তেমনি সুখপাঠ্যও বটে। এই বইগুলো পড়ে হারিয়ে যাওয়া যায় কল্পনায়, উপভোগ করার মতোই কাহিনী এগুলো।
প্রতিটি বইয়েরই হার্ডকপি বাংলাদেশের বইয়ের দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে। এছাড়া এগুলোর সফট কপি ইন্টারনেটে সহজলভ্য।

১। দ্য উইন্ড ইন দ্য উইলোজ

কেনেথ গ্রাহামের এই অমর সৃষ্টির প্রেক্ষাপট ইংল্যান্ডের গ্রাম অঞ্চল। নদীর পাড়ে বসবাস করা বিভিন্ন প্রাণিকে জীবন্ত করে তুলেছেন লেখক এই বইয়ে। তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপ, অ্যাডভেঞ্চার আর হাস্যরসাত্মক কাজের মাধ্যমেই এগিয়েছে বইয়ের কাহিনী।
মূলত ছোটদের জন্যে লেখা হলেও বইটি ছোট বড় সবার জন্যেই আনন্দদায়ক। গ্রাহামের সহজ লেখনী আর চমৎকার গল্প সবাইকেই টানবে।

২। লর্ড অফ দ্য ফ্লাইজ

উইলিয়াম গোল্ডিং এর লেখা এই বইটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত বই। এই বইটাকে আধুনিক ক্লাসিকের পর্যায়ে রাখা হয় এবং অনেক দেশের স্কুলের পাঠ্যসূচিতেও রাখা হয়েছে। বইয়ের কাহিনী কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে।
এক নির্জন দ্বীপে আটকা পড়ে যায় তাঁরা, তারপর গড়ে তোলে নিজেদের মত এক ভুবন। তাদের নিজস্ব সেই সমাজের বিধি-নিষেধ, খারাপ-ভালো নিয়ে এগিয়ে চলে কাহিনী। লেখকের বর্ণনা খুবই নাটকীয় আর বর্ণিল। পড়তে পড়তে মনে হবে যেন তুমি নিজেই চলে গেছো সেই দ্বীপে, বসবাস করছো সেই সমাজে!

৩। দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী

এই বইয়ের নাম শুনে না থাকলেও কিছু কিছু অংশ আমরা সবাই পড়েছি – ইংরেজি প্রথম পত্রের কমপ্রিহেনশন হিসেবে!
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এই কালজয়ী সৃষ্টির মূল চরিত্র এক বৃদ্ধ নাবিক। অত্যন্ত সহজ এবং সোজাসাপ্টা ভঙ্গির লেখনী হেমিংওয়ের, যা নতুন পাঠকদের জন্যে খুবই উপকারী। পড়তে পড়তে তোমার মন আপনাতেই হারিয়ে যাবে অকূল সাগরে।

৪। অ্যানিম্যাল ফার্ম

জর্জ অরওয়েলের শ্রেষ্ঠ লেখা বলা হয়ে থাকে এই বইটিকে। মূল কাহিনী একটি খামার আর তার পশুদের ঘিরে হলেও এই বইটির রূপক অর্থ অত্যন্ত গভীর। যোসেফ স্টালিনের অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক লেখা এটি, এবং সমাজতন্ত্রের গঠন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে এতে।
পড়তে পড়তে ঘোড়া বক্সার আর শূকর স্নোবলের উপরে মায়া এসে যাবে তোমার, আর কষ্ট পাবে নেপোলিয়নের অত্যাচারী কর্মকাণ্ড দেখে।

৫। টিউজডেজ উইথ মরি

লেখক মিচ অ্যালবমের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, মরি শোয়ার্টজের সাথে তার বিভিন্ন রসাত্মক আলোচনার উপরে লেখা এই বইটি। মজার মজার কাহিনীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শিক্ষাও রয়েছে এই বইয়ে।

৬। দ্য গিভার

লইস লাওরির এই বইয়ের মূল চরিত্র এক কিশোর, যে কিনা এমন এক সমাজে বাস করে, যেখানে স্বাধীনতার কোন নামগন্ধ নেই। ছোট ছোট বাক্যে সাজানো লেখনীর এই বইয়ের কাহিনী প্রথম থেকেই মনোযোগ ধরে রাখ

৭। হাই ফাইডেলিটি

গানবাজনা ভালো লাগলে নিক হর্নবির এই বইটি তোমার পড়তেই হবে। বইয়ের নায়ক রব, এক গ্রামোফোন রেকর্ডের দোকান চালায়। বিভিন্ন মজার কাহিনী আর সঙ্গীত নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে চলে বইয়ের কাহিনী।

৮। ফ্যান্টাস্টিক মিস্টার ফক্স

ইংরেজি শিশুতোষ লেখার অন্যতম পথিকৃৎ রোল্ড ডাহল। তার এই বইটিতে এক শিয়ালের বিভিন্ন চালাকির বর্ণনা রয়েছে। মজার এই কাহিনীটি ছোটদের প্রিয় হিসেবে বহু বছর ধরেই বেস্ট সেলার।

৯। হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলসফারস স্টোন

জে কে রাওলিং এর হ্যারি পটার সিরিজটি সাহিত্যে এক বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে। কেবলমাত্র ফ্যান্টাসি হিসেবেই নয়, যেকোন ধরনের সাহিত্যেই এরকম অসাধারণ কাহিনীর জুড়ি মেলা ভার। হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম বই ফিলসফারস স্টোন, যে কাহিনী শুরু এগারো বছরের হ্যারিকে নিয়ে।

সিঁড়ি ঘরে ঘুমানো এক অবহেলিত শিশু কীভাবে জাদুর দুনিয়ার সন্ধান পায়, আর কীভাবে সে নতুন বন্ধুদের নিয়ে একের পর এক বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় – এই নিয়েই কাহিনী, যা পূর্ণতা পেয়েছে সিরিজের পরের ছয়টি বইয়ে।
বইটির ভাষা খুবই সহজবোধ্য, আর কাহিনী অত্যন্ত চমৎকার। যদি না পড়ে থাকো, তবে আজই পড়ে ফেলো এই বইটি।

Leave a Reply