স্মার্টফোন কেনার আগে যা জানা জরুরী

বর্তমানে স্মার্টফোন কোন বিলাসী পণ্য নয় বরং খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় একটি পণ্য। শুধু যোগাযোগ রক্ষার্থেই নয় বর্তমানে ছবি তোলা, ভিডিও করা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং সহ নানা কাজে স্মার্টফোনের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তাই স্মার্টফোন কেনার আগে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বসহকারে খেয়াল করা উচিত। বিষয়গুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

 

১. প্রসেসরঃ প্রসেসর স্মার্টফোনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আপনার স্মার্ট ফোন কতটা স্মার্ট হবে তা নির্ভর করে প্রসেসর এর উপর। তাই আপনার স্মার্টফোনের ডেটা দ্রুত প্রসেস হওয়ার জন্য চাই একটি শক্তিশালী প্রসেসর।

 

বেশ কয়েকটি কোম্পানি স্মার্টফোনের জন্য প্রসেসর তৈরি করে থাকে। তাদের মধ্যে ব্যবহারকারীর দিক থেকে মিডিয়াটেক বেশ এগিয়ে থাকলেও পারফরমেন্সের দিক থেকে কোয়ালকম্ম স্নাপড্রাগণ এগিয়ে।

 

তাই আপনি যদি সাধারন ইউজার হন তাহলে মিডিয়াটেক প্রসেসর নিতে পারেন। আর যদি গেমিং করতে চান সে ক্ষেত্রে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর নেওয়ার পরামর্শ রইল।

 

২. র‍্যামঃ স্মার্টফোনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে র‍্যাম। র‍্যাম যত বেশি হবে আপনার স্মার্টফোন ততো স্মুথ চলবে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডেও অনেকগুলো অ্যাপস চালু রাখতে পারবেন।

 

বর্তমান বাজারে ১, ২, ৩ এমনকি ৪ জিবি র‍্যাম সম্বলিত স্মার্টফোন পাওয়া যায়। তাই চেষ্টা করবেন মিনিমাম ২ জিবি র‍্যাম সম্বলিত স্মার্টফোন নেওয়ার জন্য। আর যদি ফ্লাগশিপ ফোন কেনেন সেক্ষেত্রে র‍্যামের ব্যাপারে এত কিছু না ভাবলেও চলবে।

 

৩. রমঃ রম বা ইন্টার্নাল স্পেস স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ইন্টার্নাল স্পেস যত বেশি হবে আপনার স্মার্টফোনে ততবেশি ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন। ইন্টার্নাল স্পেসের ক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনের উপর বেশি গুরুত্ব দিবেন।

 

বর্তমানে ১৬, ৩২, ৬৪ এমনকি ১২৮ জিবি পর্যন্ত  ইন্টার্নাল স্পেস ওয়ালা স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। আমি আপনাদের সাজেস্ট করব কমপক্ষে ১৬ জিবি ইন্টার্নাল স্পেস ওয়ালা স্মার্টফোন নেওয়ার জন্য।

 

৪. অপারেটিং সিস্টেমঃ অপারেটিং সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে স্মার্টফোনের কার্যক্রম নির্ধারিত হয়। তাই স্মার্টফোন কেনার আগে অবশ্যই অপারেটিং সিস্টেমের দিক খেয়াল রাখা উচিত।

 

বর্তমান অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস বেশ জনপ্রিয়। ব্যবহারকারীর বিচারে এন্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অধিক সুবিধা পাওয়ার জন্য এন্ড্রয়েড ও আইওএস ব্কেনা যুক্তিযুক্ত। 

 

৫. ডিসপ্লেঃ স্মার্টফোন কেনার আগে এর ডিসপ্লে দেখে নেওয়া খুবই জরুরি। কারণ স্মার্টফোন গুলোতে সব ইন্টার‍ একশন মূলত এর ডিসপ্লে দিয়েই হয়। বর্তমানে ৫ থেকে ৬.৫ ইঞ্চি পর্যন্ত সাধারণ ধরা যায়। 

 

তবে যদি আপনি এক হাতে ফোন চালাতে চান সেক্ষেত্রে ৫.৫ ইঞ্চির উপরে না জাওয়াই শ্রেয়। তবে মুভি দেখা বা গেম খেলা যদি আপনার প্রধান কাজ হয় তাহলে ৬ বা ৬.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে নিবেন। বেশি রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লেতে সব কিছু বেশি স্পষ্ট ও ঝকঝকে দেখায়। তাই কমপক্ষে এইচডি ডিসপ্লে নেওয়া উচিৎ।  

 

৬. ক্যামেরাঃ ফটো তোলা বা ভিডিও করায় বর্তমানে স্মার্টফোনের জুড়ি নেই। তাই স্মার্টফোন কেনার আগে অবশ্যই এর ক্যামেরা সম্পর্কে পূর্ন ধারণা নিতে হবে। 

 

বর্তমানে স্মার্টফোন গুলোতে ৩,৪ এমনকি ৫ টি পর্যন্ত ব্যাক ক্যামেরা থাকে। যা দিয়ে আপনি অনায়াসেই অনেক সুন্দর ও হাই কোয়ালিটির ছবি তুলতে পারবেন। তবে সাধারণ ইউজারদের জন্য ২টির অধিক ক্যামেরার প্রয়োজন হয় না।

 

স্মার্টফোন কেনার আগে ক্যামেরার অ্যাপারচার এবং আইএসও সেন্সিটিভিটি এর কথাও মাথায় রাখতে হবে। স্মার্টফোনের ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যত বেশি হবে এতে তোলা ছবি তত কোয়ালিটি সম্পন্ন হবে। 

 

৭. ব্যাটারিঃ স্মার্টফোনে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর ব্যাটারি। মনে রাখবেন আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি যত শক্তিশালী হবে আপনি তত বেশি ব্যাকআপ পাবেন। বর্তমানে ৩০০০ মিলি এম্পিয়ার ব্যাটারি কমন। তবে যথা সম্ভব চেষ্টা করবেন ৫০০০ মিলি এম্পিয়ারের ব্যাটারি নেওয়ার জন্য। 

 

আশাকরি ৫০০০ মিলি এম্পিয়ারের ব্যাটারি দিয়ে নরমাল থেকে হেভি ব্যবহারে প্রায় দেড় দিনের মত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন। পাশাপাশি খেয়াল রাখবেন ফোনে কুইক চার্জিং সিস্টেম আছে কি না। 

 

বাজারে এখন বিভিন্ন দাম ও কনফিগারেশনের স্মার্টফোন পাওয়া যায়। তাই আপনার বাজেট যেমনই হোক না কেন আপনার বাজেটে থাকা সেরা ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

Leave a Reply