ইউটিউব লিংক সহ | সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী সিনেমা দ্বিতীয় পর্ব | না দেখলে ভালো কিছু মিস করছেন।

গত দশকটা বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একপ্রকার চড়াই-উতরাইয়ের দশক ছিল ব্যাবসায়িক দিক থেকে চিন্তা করলে দর্শকের কয়েক বছর গুটিকয়েক সিনেমা সফলতার মুখ দেখে ছিল এবং অনেকগুলি মানহীন কাজের মাঝেও দারুন কিছু সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল যেসব সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সুসময় আসার বার্তা দিয়ে গেছে।

বিগত দশকের ঠিক এমনই কিছু সিনেমার স্পেশাল পোস্ট নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন হ্যালো ফ্রেন্ডস আপনারা দেখছেন আমারটিপ্সসাথে আছি আমি অনামিকা।

১। ঢাকা অ্যাটাক।

প্রচুর আগ্রহ আর হাইপ নিয়ে মুক্তি পেয়েছিল এই সিনেমা হয়ে গেল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কপ ভিত্তিক সিনেমা বলছিলাম গত দশকের অন্যতম সেরা সিনেমা ঢাকা অ্যাটাক এর কথা।
রিমেক আর মান হীন কাজের মাঝে ডুবে থাকা বাংলাদেশ কমার্শিয়াল সিনেমায় একপ্রকার নতুন আশার আলো দেখিয়ে ছিল এই সিনেমা।

বাংলাদেশি দর্শকরাও সিনেমাটি লুফে নিয়ে ছিল যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই এখন মিশন নির্ভর সিনেমা তৈরিতে উৎসাহী হচ্ছে।
সিনেমার গল্প প্রায় সবারই জানা সেই সাইকো পুলিশের ইদুর বিড়াল খেলা সিনেমার প্রেজেন্টেশন সিনেমাটি কে দারুন করে তুলেছিল।

এছাড়া সিনেমা মে মিস্ট্রিয়াস ব্যাপারগুলি ছিল তারা দর্শকদের ভালো আকর্ষণ করেছিল সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি বাংলাদেশিদের জন্য এক প্রকার ট্রিট বলা চলে।
সিনেমার আইএমডিবি রতিং ৭.৮ এবং গুগোল লাইক ৯২শতাংশ।

২। টেলিভিশন।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী একজন দুর্দান্ত বাংলাদেশি পরিচালক তারই এক অনবদ্য সিনেমার নাম টেলিভিশন এই সিনেমাটি অনেক সমালোচকদের প্রশংসা প্রাপ্ত এবং অনেকগুলো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ও সম্মানিত হওয়া একটি সিনেমা।

গল্প একটি গ্রামকে নিয়ে যেখানে টেলিভিশন নিষিদ্ধ মূলত এটিই সিনেমার মেইন স্টোরিলাইন তবে একমাত্র নয় গল্পের বিভিন্ন দিক রয়েছে সিনেমার আরেকটি দিক হলো সিনেমাটিতে প্রচুর কমিটি রয়েছে।

এবং তা সম্পূর্ণই রিয়ালিস্টিক কমেডি চঞ্চল চৌধুরী মোশাররফ করিমের মত জাত অভিনেতারা সিনেমাটিতে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন।
সিনেমাতে মূলত গ্রামীণ জীবনের গোঁড়ামি প্রযুক্তির প্রতি নতুন আকর্ষণ আর তারই আন্ডার টনে একটি সুন্দর মেসেজ তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ করে বলতে হয় ক্লাইমেক্সের কথা সোজা কথায় আপনার মন ছুয়ে যাবে।
আপনি যেকোন ধরনের সিনেমার দর্শক হোন না কেন টেলিভিশন আপনার ভালো লাগবেই এই সিনেমার আইএমডিবি রেটিং ছিল ৮.২ এবং গুগোল লাইকস ৯১ শতাংশ ।

৩। নাম্বার থ্রি তে রয়েছে দুটি সিনেমা এবং দুটি সিনেমার প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।

গেরিলা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর সিনেমার তালিকায় গেরিলা সিনেমাটি উপরের দিকেই থাকবে এই সিনেমাতে মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একজন নারীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

বলা যেতে পারে একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার জীবন সংগ্রাম সিনেমার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
তার সংসার চাকরি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার বিষয়গুলি খুবই সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে সিনেমাটি কে এক কথায় দারুন ই বলা চলে।

অসাধারণ চিত্রনাট্যের আর জয়া আহসানের চোখ ধাঁধানো অভিনয়।
পাশাপাশি সেই সময়ে পাকিস্তানিদের নির্মমতা অত্যাচার ওতি গরামি এর মত বিষয়গুলি উঠে এসেছে এই সিনেমায় এছাড়া সিনেমাতে যেভাবে যুদ্ধের সময় দৃশ্যগুলি দেখানো হয়েছিল তা সত্যিই ভাল ছিল।
সব মিলিয়ে বলা যায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন সিনেমা আপনার অবশ্যই দেখা উচিত সিনেমাটির আইএমডিবি রেটিং ৮.২ এবং গুগোল লাইকস ৯৩ শতাংশ।

আমার বন্ধু রাশেদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি সিনেমায় আরেকটি মাইলফলকের নাম আমার বন্ধু রাশেদ এক বাবা-ছেলের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন স্মৃতিচারণে সিনেমার গল্প গড়ে উঠেছে।

সিনেমার মূল প্লট কিশোর মুক্তিযোদ্ধা অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরদের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সিনেমার গল্প এগিয়েছে সিনেমার গল্প টা যেমন ইন্টারেস্টিং সিনেমার প্রেজেন্টেশনেও তেমনি আকর্ষণীয়।

বিশেষ করে যেভাবে পরিচালক গল্পগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে সিনেমাটি দেখার সময় আলাদা এক প্রকার ভালোলাগা কাজ করে।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাধারণ মানুষের অবস্থা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দিকগুলি মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ কৌশল আর কিশোরদের দারুন কায়দা করে যুদ্ধে অংশ নেয়া সবকিছুই সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রাই নিয়ে গেছে।

তবে যে কথা না বললেই নয় তাহলো লিড কাস্তের অভিনয় সিনেমাটি দেখার আমেজ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এত সব মিলিয়ে সিনেমাটির সেরার তালিকায় স্থান করে নিতে সমর্থ হয়েছে। এই সিনেমার আইএমডিবি রেটিং ৮.২ এবং গুগোল ৯৭%

নাম্বার ৪ এ যাওয়ার আগে বলে নিই যারা আগের পর্ব টি মিস করেছেন তারা এই লিংকে ক্লিক করে দেখে আসুন।

তাছাড়া আমাদের স্পেশাল মেনশন এও কিছু সিনেমা রয়েছে-সেগুলো হলো হালদার, দহন, ইতি তোমারই ,ঢাকা ,মাটির প্রজার দেশে ,জালালের গল্প, এবং বাপজানের বাইস্কোপ।
বিগত দশকের এরকম আরো অনেক সিনেমা রয়েছে যেগুলো এই লিস্টে রাখা সম্ভব হয়নি তবে এই টপিকের উপর আরো পোস্ট চাইলে আমাদের কাছে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

https://youtu.be/OEliPNPlB9Q
৪। অজ্ঞাতনামা।
মাস্টারপিস অফ বাংলাদেশি ফিলম ইন্দুষ্ট্রি এত দারুন সিনেমাও যে বাংলাদেশী কোন ফিল্মে মেকার বানাতে পারে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের অন অফ দা মোস্ট ট্যালেন্টেড দিরেক্টর তৌকির আহমেদ ।
সিনেমার মেইন স্টরিলাইন ম্যানপাওয়ার নিয়ে অনেক মানুষের স্বপ্ন থাকে রোজগারের জন্য বিদেশে পাড়ি জমানো।

এর জন্য তাদের জীবনের স্যাক্রিফাইস কষ্ট বা বিদেশ গিয়ে আদতে কি পরিনতি হয় তা খুবই মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায় এছাড়া চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশ গমনের বৈধ-অবৈধ কিছু দাও সিনেমা দেখানো হয়েছে।

দারুন একটি হৃদয়স্পর্শী সিনেমা তবে এরপর আরও বিস্তৃত আর দারুন কিছু টুইস্ট তো রয়েছেই।
সিনেমার এক্সেকিউশন সিনেমাটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট এছাড়া লিডে যেসব তুখর অভিনেতা রয়েছেন তারা সিনেমাটি কে যেন আরও একধাপ উপরে নিয়ে গেছে।
সিনেমাটিক বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছিল তার মাঝে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রয়েছে এই সিনেমার আইএমডিবি রেটিং ছিলো ৯ এবং গুগল লাইক ৯৫ শতাংশ।

৫। আয়নাবাজি।
গত দশকের সবচেয়ে বড় চমক আয়নাবাজি কে শুধু কত দর্শক নয় সর্বকালের সেরা বাংলাদেশী সিনেমার লিস্টেও রাখা যায় দারুন অভিনয় সিনেমাটোগ্রাফি এক্সিবিশন আট দুর্দান্ত সব ডায়লগ সব মিলিয়ে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে আয়নাবাজি।

সিনেমাটি মুক্তির সময় ছিলনা কোন হাইপ বা আহামরি কোনো প্রমোশন কিন্তু মুক্তির পর থেকে এই সিনেমার ক্রেজ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে কম হল নিয়ে রিলিজ হয়ে ও পরবর্তীতে হল সংখ্যা অনেক বেড়ে যায় ।
সবকিছু মিলিয়ে এলাহি কান্ড আয়নাবাজির বিশেষত্ব হলো সিনেমার নতুনত্ব যা দর্শক খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিল।

তবে আলাদা করে বলতে হয় চঞ্চল চৌধুরীর কথা গল্পের খাতিরে তার বিভিন্ন সেকশনে অভিনয় যেন সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে এই সিনেমাটির বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছিল এছাড়া বেশকিছু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পেয়েছিল।
আইএমডিবি রেটিং ছিল ৯.১ এবং গুগোল ৯৭ শতাংশ।

যাইহোক আপনাদের জন্য থাকছে দারুণ একটি অফার। 🙂
প্রথমে এই লিংক এ ক্লিক করে আমার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।
এবং এই লিংক এ ক্লিক করে আমার ফেসবুকে ইনবক্স এ সাবস্ক্রাইব করেছেন তার একটা স্ক্রীনশট পাঠান এবং জিতে নিন ১০ টাকা মোবাইল রিচার্জ।🥰

বিঃদ্রঃ মোবাইল রিচার্জ পৌছাইতে সময় লাগতে পারে সর্বোচ্চ ২ দিন তবে ১০০% পাবেন আর অবশ্যই এটা সর্বোচ্চ ৩০০ জন ব্যক্তি পাবেন।

শেষ করছি আমাদের আজকের পোস্ট! পোস্ট টি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করুন শেয়ার করুন কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত জানান।
ফিরে আসছি পরবর্তী পোষ্টে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

Leave a Reply