দুজন ফেরেশতাকে আল্লাহ দুনিয়ায় পাঠালো পরীক্ষার জন্য । অতঃপর তারা কি করলো ? তারা কি সফল হয়েছিলেন ? তাঁরা কি এখনো পৃথিবীরতেই আছে ? জানতে সম্পূর্ণ পড়ুন ।

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ !
সুপ্রিয় পাঠক ,
হারুত এবং মারুত দুজন ফেরেশতার নাম ।
যাদেরকে বিশেষ কারণে পৃথিবীর কিছু বিষয়
নিরীক্ষণের জন্য আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে
পাঠিয়েছিলেন । কিন্তু তারা তাদের নিরীক্ষায়
অপরিণামদর্শিতার পরিচয় দেয় এবং শাস্তির
মুখােমুখি হয় !!!

ঘটনাটি এরকম- হজরত আদম (আ.) এবং বেশ কিছু নবি-রাসুলের পরলােক গমনের পর ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে যখন পাপাচার এবং অবাধ্যতা ছড়িয়ে পড়ে তখন ফেরেশতারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলাে, ” দেখাে, মানুষগুলাে কেমন অবাধ্য। তারা আল্লাহর আনুগত্য ছেড়ে পাপাচার এবং বিশৃংখলায় লিপ্ত হয়ে গেছে। আমরা যদি হতাম তবে কখনােই এমনটি করতাম না ! ”

আল্লাহ তাআলা তাদের কথা শুনে বললেন,
” ঠিক আছে, তবে তােমাদের মধ্য থেকে দুজনকে পৃথিবীতে পাঠাও পরীক্ষার জন্য । দেখা যাক তারা পৃথিবীতে কীভাবে নিজেদের পরিচালনা করে ! ”
এরপর আল্লাহ তাআলা হারুত-মারুত নামের
দুজন ফেরেশতাকে মানুষের আকৃতি ও মানুষের

স্বাভাবিক চরিত্র দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন।
পাঠানাের আগে আল্লাহ তাদের বলে দেন, ,” আমি মানুষকে বিভিন্ন নবি-রাসুল বা কিতাবের মাধ্যমে পাপকাজ থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিয়েছি কিন্তু তােমাদেরকে সরাসরি উপদেশ দিচ্ছি- কখনাে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, কখনাে কোনাে নারীর সঙ্গে অসৎসঙ্গমে লিপ্ত হবে না, কখনাে মদ্যপান করবে না । ”

সুপ্রিয় পাঠক , আল্লাহ কিন্তু আমাদেরকে সরাসরি অর্থাৎ সামনাসামনি আদেশ কিংবা উপদেশ দেন নি । কিন্তু তাঁর ফেরেশতাগণকে সরাসরি আদেশ দিয়েছেন !
দুটি বিষয় জানানোর প্রয়োজন আছে ,
তাদেরকে তৎকালীন বাবেল (ইরাক) শহরে পাঠানাে হয় এবং এই ঘটনা হজরত সােলায়মান [আ.]:-এর সময়কার !

পৃথিবীতে আসার কয়েকদিন পরই ফেরেশতাদ্বয় জোহরা নামের এক অতুল্য রূপসী নারীর রূপ দেখে পাগল হয়ে যায় এবং তাকে একান্তে কামনা করে ! ওই নারী শর্ত দেয়, ” তােমরা যদি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করাে তবে আমি তােমাদের মনােবাঞ্ছা পূরণ করবাে ! ” নাউযুবিল্লাহ !

তারা বলে, “এ কাজ আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়।”
অতঃপর ওই নারী একজন লােককে দেখিয়ে আবার বলে, ” তাহলে ওই লােকটাকে হত্যা করাে ।”
তারা বললাে, ” এ কাজও আমরা করতে পারবাে না। ”
অতঃপর জোহরা বললাে, ” তাহলে একটু মদ্যপান করাে তাহলে আমি তােমাদের সঙ্গে একান্তে মিলিত হবাে।”
তারা মদ্যপানকে ছােট পাপ ভেবে জোহরার সঙ্গলাভের কামনায় বেশ কিছুটা মদ পান করে ! মদপানের পর মাতাল অবস্থায় তারা ওই নারীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং অচৈতন্য অবস্থায় ওই লােককেও হত্যা করে ফেলে । হুঁশ ফেরার পর তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং কৃতকর্মের জন্য অনুশােচনা করতে থাকে!

সুপ্রিয় দ্বীনি ভাই , কোনো পাপকে ছোট খাটো ভেবে কখনোই সেই পাপ কাজের দিকে অগ্রসর হবেন না । আর কোনো ভালো কাজ যদি অতি ক্ষুদ্রও হয় তাহলেও সেটি বাদ দিবেন না ।

তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ বলেন, “তােমরা শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে। এখন সেই শাস্তি তােমরা পৃথিবীতেও ভােগ করতে পারাে আবার আখেরাতেও ভােগ করতে পারাে। তারা বললাে, “আমরা দুনিয়াতেই শাস্তি ভােগ করতে চাই। ”

এখন আপনারাই বলুন, আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন । তাও যদি তারা মান্য না করেন তাহলে আল্লাহ কি তাদেরকে ছাড়বেন ? কিন্তু তবুও তিনি একটি সুযোগ তাদেরকে দিলেন ! শাস্তি কোথায় হবে সেটি সিন্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ।

Ref. তাফসিরে ইবনে কাসিরে হজরত আলি [রা.], হজরত ইবনে আব্বাস [রা.], হজরত ইবনে মাসউদ [রা.], হজরত ইবনে উমর [রা.], হজরত কাব আহবার [রা.] হজরত সুদ্দি [রহ.] এবং হজরত কালবি [রহ.]-এর বরাতে এ ঘটনা
বর্ণনা করেন।

বাবেল শহরে তখন জাদুবিদ্যার খুব প্রচলন ছিলাে। দুষ্টু জাদুকররা নানাভাবে জাদুর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করতাে। ওই ফেরেশতাদ্বয় পৃথিবীতে কিছুদিন থাকার পর তারাও মানুষের

মাঝে জাদুবিদ্যা শেখানাে শুরু করে এবং দুষ্টু জাদুর প্রচলন ঘটায়। যে জাদুর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ লাগতাে এবং তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যেতাে।

হজরত সােলায়মান [আ.] নিজস্ব জ্বিনদের মাধ্যমে এই দুই ফেরেশতার সংবাদ অবগত হয়ে তাদেরকে একটি অন্ধকার কূপে বন্দি করেন।

যদিও কোনাে কোনাে দুর্বল রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, কেয়ামত একটি অন্ধকার কূপে বন্দি করেন। যদিও কোনাে কোনাে দুর্বল রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, কেয়ামত পর্যন্ত তাদের বন্দি করে রাখা হবে।
[ সহিহ ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমদ, ইবনে মারদুয়্যাহ, ইবনে জারির, আবদুর রাজ্জাক গ্রন্থে]
কিছু পার্থক্য ছাড়া মূল হাদিসের ঘটনা এমনই বর্ণনা করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ !
আল্লাহাফেজ…!!!

Leave a Reply