আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে (রাতের নামাজে কাঁদুন)

আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে

রাতের নামাজে কাঁদুন

যাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু আখেরাত তারা সকল সময় সাবধানতার জীবন-যাপন করবে। সারাদিন পরিশ্রম করলেও সারারাত্রি বিছানায় অঘোরে ঘুমিয়ে থাকবে না। তাদের রাতের একি অংশ দুনিয়া ছেড়ে আখেরাতে যাবার প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত থাকে। রাতের কিছু সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মহান প্রভুর সাথে কথা বলে। দু’চোখের পানি ফেলে কৃত অপরাধের মাফ চায়। দুনিয়ার জীবনে তাঁর পথে চলার জন্য সাহায্য চায়। আল্লাহ তায়ালা নিজেই রাতে ঘুমানোর ব্যাপারে কথা বলেছেন। সূরা ফুরকানের ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
“যারা তাদের রবের সামনে সিজদা করে ও দাঁড়িয়ে থেকে রাত অতিবাহিত করত।”
সূরা আলে ইমরান এর ১৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
“সত্যনিষ্ঠ, অনুগত ও দানশীল এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর কছে গুণাহ মাফের জন্য দোয়া করে থাকে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৭)
বায়হাকীর এক হাদিসে বলা হয়েছে বিছানা থেকে আলাদা রাখা পিঠগুলোকে বিনা হিসাবে জান্নাত দেয়া হবে। অর্থাৎ যেই বান্দা রাতে না ঘুমিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে এবং আল্লাহর কাছে চায় তাদেরকে বিনা হিসাবে জান্নাত দিয়ে দিবেন মহান রব্বুল আলামিন। সুবহানআল্লাহ।
আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য এর চেয়ে মোক্ষম সুযোগ আর কি হতে পারে? সুরা সাজদাতে প্রায় একই কথা বলা হয়েছে সূরা আস সাজদা: ১৬ নম্বর আয়াতে
“তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা হয়ে থাকে তারা তাদের রবকে ভয় ও আশা সহকারে ডাকে।” (সূরা আস-সাজদা: ১৬)
সূরা জারিয়া-এর ১৭-১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ
“তারা রাত্রিকালে খুব কম সময়ই শয়ন করত। তারাই রাতের শেষ প্রহরে (সেহরি খাবার সময়) করত।”
আখেরাতের চেতনা সম্পন্ন ব্যাক্তি সারারাত্রি নাক ডেকে ঘুমাতে পারে না।
মৃত্যুর পরে মাটির নিচে কবরে ঘুমানোর জায়গা হবে তখন ঘুমানো যাবে।
এখন দুনিয়া আবাদ করার সময়। অখেরাতের জন্য দুনিয়াকে আবাদ করে যেতে হবে। তাই রাতের বেলা শুধু নিজেই চোখের পানি ফেলে কাঁদবে না, নিজের স্ত্রীকেও পানি ছিটা দিয়ে হলেও ঘুম থেকে উঠিয়ে নামাজে শরিক করবে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“অধিক হাসবে না, কেননা হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।” (আহমাদ)

Leave a Reply