আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে (মিসকিনকে খাবার পৌঁছান ও টাকা নয় নেকীকে বেশি গুরুত্ব দিন)

আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে

মিসকিনকে খাবার পৌঁছান ও টাকা নয়, নেকী

মিসকিনকে খাওয়ানো

আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য মিসকিনকে খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। হাশরের দিন আল্লাহ তায়ালা বলবেন আমি রোগে অজ্ঞান ছিলাম আমাকে সেব করনি। আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, আমাকে খেতে দাওনি, আমি পিপাসার্ত ছিলাম আমাকে পানি দাওনি। লোকেরা বলবে হে আল্লাহ কবে কোথায় তুমি অসুস্থ থেকে আমার কাছে গিয়েছিলে যে আমি সেবা করি নি? জবাবে আল্লাহ তায়ালা বলবেন আমার অমুক বান্দাহ অসুস্থ হয়েছিল তুমি যদি তাকে সেবা করতে তাহলে সেই সেবা আমাকেই সেবা করা হত। অমুক ক্ষুধার্ত লোক তোমার কাছে খেতে চেয়েছিল তুমি যদি তাকে খেতে দিতে, তাহলে তা আমাকেই খাওয়ানো হত। অমুক ব্যাক্তি পিপাসার্ত হয়ে পানি চেয়েছিল তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে, তাহলে তা আমাকেই পান করানো হত।
আল্লাহর বাণী:
“তাদের সম্পদে পার্থনাকারী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।” (সূরা জারিয়া-১৯)
জাহান্নামিরা তাদের জাহান্নামে পতিত হবার চারটি কারণ বলবেঃ
১. আমরা নামাজি ছিলাম না।
২. আমরা মিসকিনকে খেতে দিতাম না।
৩. ইসলামের দুশমনদের সাথে ইসলামের অপপ্রচার করতাম।
৪. প্রতিফল দিবসকে মিথ্যা মনে করতাম।
তাই জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য নামাজ কায়েম, মিসকিন খাওয়ানোসহ অন্যান্য ভালো কাজ করে যেতে হবে।

টাকা নয়, নেকী

আখেরাতে টাকা চলবে না, সেখানে চলবে নেকী। যে কয়দিন বেঁচে থাকতে হবে সে কয়দিনই টাকার দরকার হবে। মরে গেলে টাকার আর কোন দরকার হবে না। টাকা দরকার অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু নেকী দরকার অনন্তকালের জন্য। দেখা যাচ্ছে টাকার চেয়ে নেকীর গুরুত্ব ও প্রয়োজন অনেক বেশি। দীর্ঘ সময়ের জন্য নেকী দরকার। বুঝতে হবে দীর্ঘ সময়ে যেটি দরকার সেটির পিছনেই বেশি শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হবে। যে জিনিসের দরকার যত বেশি হবে সে জিনিসের গুরুত্ব তত বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।
মনে রাখতে হবে টাকা ও নেকী দু’টোই কিন্তু উপার্জন করার একমাত্র সময় হচ্ছে এ দুনিয়ার জীবন। দুনিয়ার যে কয়দিন বেঁচে আছি সে কয়দিনের মধ্যে টাকাও অর্জন করতে হবে নেকীও অর্জন করতে হবে। তাই টাকার পিছনে বেশি ঘুরে সময় নষ্ট না করে, নেকীর পিছনে বেশি সময় ঘুরতে হবে। দুনিয়ার টাকা চললেও এটা আখেরাতে অচল। টাকাকে নেকী অর্জনের হাতিয়ার বানাতে হবে। তাহলেই আশা করা যায় কম গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে কম গুরুত্ব দিয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Leave a Reply