খলিফা উমর রাঃ এর শাসনামলে, মুসলমানদের সম্মান রক্ষার্থে কি ঘটেছিল? দারুণ একটি শিক্ষণীয় গল্প।

আস্সালামুআলাইকুম। আশা
করি সবাই আল্লাহ
তাআলার অশেষ রহমতে
ভালো আছেন। আপনাদের
দোয়ায় আমিও ভালো
আছি।
.
আশা করি Post টা সবার
উপকারে আসবে। সবাই
ধৈর্য ধরে সবাই পোষ্ট টা
পড়বেন আর কিছু না বুঝলে
কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করবেন।
তো শুরু করা যাক।
.
অনেকেই হয়তো টাইটেল
দেখে বুঝে গেছেন কি
নিয়ে আলোচনা করব।
.
নিচের গল্পটি পড়ে মুসলিমদের (আমাদের) জিন্দেগী কেমন হওয়া উচিৎ এ সম্পর্কে জানতে পারবো।

একদিন মদিনার দুই ব্যাক্তি একজন যুবককে টেনে হিচরে অর্ধ পৃথিবীর শাসক খলিফা হযরত উমর ফারুক রাঃ এর দরবারে হাজির করলো এবং বিচার দাখিল করল যে, এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।
.
তখন খলিফা হযরত উমর ফারুক রাঃ সেই যুবককে প্রশ্ন করেন, তার বিপক্ষে করা দাবী সম্পর্কে।
.
তখন সেই যুবক বলেন তাদের দাবী সম্পূর্ণ সত্য। আমি ক্লান্তির কারণে বিশ্রামের জন্য এক খেজুর গাছের ছায়াতলে বসলাম। ক্লান্ত শরিরে অল্পতেই ঘুমিয়ে গেছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার পছন্দের বাহন উট টি খুঁজতে খুঁজতে কিছুদুর গিয়ে পেলাম তবে তা ছিল মৃত। পাশে ওদের বাবা ছিল। সে আমার উটকে তাদের বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। আমিও রাগান্বিত হয়ে তাদের বাবার সাথে তর্কাতর্কি করতে এক পর্যায়ে তাদের বাবার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি ফলে সে সেখানে মারা গেল। যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত ভাবে হয়ে গেছে। যার জন্য আমি ক্ষমার প্রার্থী।
.
তখন ওই বাগানওয়ালার ছেলেগুলো বলেন, আমরা এর মৃত্যুদন্ড চাই।
.
হযরত উমর ফারুক রাঃ সব শুনে বলল হত্যার বদলে একটা উট নিলেই হত। কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছো। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। তোমার কোনো শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।
.
যুবক কোনো উপায় না দেখে বলল, আমি এক ইহুদির কাছ থেকে কিছু আমানত/ঋণ নিয়েছি আমার বাড়ি তো অনেক মাইল দূরে তাই আমাকে কয়েক দিনের জন্য ঋণ টা পরিশোধ করে আসতে দিন।
.
তখন খলিফা হযরত উমর ফারুক রাঃ বললেন, তোমাকে একা ছেড়ে দিতে পারি না যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমার সাময়ীক মুক্তি দিতে পারি।
.
নিরাশ হয়ে যুবক বলল এখানে আমার কেউ নেই যে আমার জিম্মাদাল হবে। এ কথা শুনে: (হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত আল্লাহর নবীর এক সাহাবি আবু যর গেফারী রাঃ দাড়িয়ে বললেন আমি হব ওর জামিনদার। সাহাবি হযরত আবু যর গেফারী রাঃ এই উত্তর শুনে সবাই হতভাগ। হযরত আবু যর গেফারি রাঃ অপরিচিত যুবকের জামিনদার অর্থাৎ অপরিচিত যুবক না আসলে হযরত আবু যর গেফারী রাঃ কে হত্যাদন্ড করা হবে। খলিফা বললেন আগামি শুক্রবার জুমার নামাজ পর্যন্ত যুবক কে মুক্তি দেওয়া হলো। জুমার আগেই যুবক মদিনায় না আসলে যুবকের বদলে আবু যর গেফারী রাঃ কে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। মুক্তি পেয়ে যুবক ছুটল মাইলের পর মাইল দুরে তার বাড়ির দিকে।)
.
আবু যর গেফারী রাঃ চলে গেলেন তার বাড়ি।
.
এদিকে দেখতে দেখতে জুমাবার চলে এসেছে যুবকের কোনো খবর নাই। হযরত উমর ফারুক রাঃ রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন, আবু যর গেফারী রাঃ এর কাছে। পত্রে লেখা, আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে, আইন মোতাবেক আবু যর গেফারীর মৃত্যূদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর গেফারী রাঃ গেল সময়মত জুমার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হয়।.
খবর শুনে মদিনায় থমথমে অবস্থা কারণ একজন নিষ্পাপ সাহাবি আবু যর গেফারি রাঃ আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবে।
.
জুমার পর মদিনায় সবাই মসজিদে নববীর সামনে এসে হাজির। সবারচোখে আজ পানি। জল্লাদ প্রস্তুত জীবনে কতজনের যে সে জীবন মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসাব নেই কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছেনা। আবু যরের মত একজন সাহাবি সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবে। এটা মদিনার কেউ মেনে নিচ্ছে না। এমনকি মৃত্যুদন্ড প্রদাণকারী খলিফা উমর রাঃও অনবরত কাঁদছেন তবুও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর রাঃ তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাসিমুখে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর রাঃ এর দিকে এগোচ্ছেন আর কাঁদছেন আর যেনো জল্লাদ এর পা চলেনা, পায়ে যেনো কেউ পাথর বেধে রেখেছে।
.
এমন সময় এক সাহাবি জল্লাদকে বলল হে জল্লাদ তুমি থামো। মরুভুমির ধুলা উড়িয়ে দেখো কে যেনো আসতেছে, হতে পারে ওই যুবকটির ঘোড়ার পায়ের ধুলি। একটু দেখে নাও তারপর না হয় আবু যর রাঃ এর মৃত্যুদন্ড কার্যকর কর।
.
ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যি ওই যুবকটি আসছে। যুবকটি দ্রুত খলিফার সামনে এসে বলল, হুজুর বেয়াদবি মাফ করবেন। রাস্তায় যদি আমার ঘোড়া পায়ে ব্যথা না পেতো তাহলে সঠিক সময়ে আসতাম। বাড়িতে আমি একটুও দেরি করিনি। বাড়ি পৌছে আমি গুচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি এবং তারপর বাড়ির বাবা-মা ও নববধূকে সবকিছু খুলে বলে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি।
.
আবু যর রাঃ ভাইকে ছেড়ে দিন। আমাকে মৃত্যু দন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কিয়ামতে ক্ষুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাড়াতে চাই না। আশেপাশে সব নিরব থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কি হতে চলেছে? যুবকের পুণরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিল সবাইকে।
.
খলিফা হযর উমর ফারুক রাঃ বললেন, তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে তারপরে কেনো ফিরে এলে?
.
উত্তরে সেই যুবক বলে আমি ফিরে এসেছি কেউ যাতে বলতে না পারে এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলমান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গিয়েছিল।
.
এবার হযরত উমর ফারুক রাঃ আবু যর গেফারী রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেনো না চেনা সত্বেও এমন জামিনদার হলেন?
.
উত্তরে হযরত আবু যর গেফারী রাঃ বললেন, পরবর্তীতে কেউ যেনো বলতে না পারে এক মুসলমান বিপদে পড়েছিল অথচ অন্যান্য মুসলমান কেউ তাকে সাহায্য করতে আসেনি।
.
এমন কথা শুনে হঠাৎ বাগানওয়ালার দুই সন্তান এর একজন বলে উঠলেন হে খলিফা আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা দাবি তুলে নিলাম।
,
হযরত উমর রাঃ অবাক হয়ে বললেন, কেনো?
.
তখন বাগানওয়ালার সন্তান উত্তরে বলল, কেউ যেনো বলতে না পারে এক মুসলমান অনাকাঙ্খিত ভুল করে, নিজেই ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।সুবহান আল্লাহ।

এখান থেকে আমরা শিখতে পারলাম যে, কেউ অনাকাঙ্খিত ভুল করলে তাদেরকে মাফ করে দেওয়া। কারো কাছ থেকে আমানত নিলে তা খিয়ানত না করা। যারা আমাদের সাহায্য করে তাদের মান সম্মান এবং বিভিন্ন ধরণের সাহায্য করে তাদের খুশি রাখা। আরেকটি বিষয় হলো এই গল্পে অপরিচিত যুবকটি, আবু যর গেফারী এবং বাগাণওয়ালার ছেলেরা ইসলামের সম্মান রক্ষার্থে সবাইকে মাফ করে দিলেন। আল্লাহু আকবার। আসুন আমরাও ইসলামের সম্মান রক্ষার্থে এমন কাজ করি।

পোস্টি আমি একটি পার্টেই দিলাম। কারণ এটা ইসলামিক গল্প।

একটি কথাঃ মানুষ মাত্রই ভুল। এখন এখানে যদি আমার ভুল হয় তা ধরিয়ে দিবেন। আমি সংশোধণের চেষ্টা করবো।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এ ধরণের শিক্ষনীয় গল্প পড়ে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

Leave a Reply