ইবলিশ শয়তান যে কাজে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।আসুন এই কাজ থেকে আমরা সবাই দূরে থাকার চেষ্টা করি

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

ইবলিশ শয়তান যে কাজে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়

প্রিয় পাঠক আজকে আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো শয়তান ইবলিশ মানুষের কোন কাজে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়? এবং কেন হয়?

মানুষের কারণে যখন ইবলিশ অভিশাপ করে জাহান্নামী ঘোষণা করা হয়েছিল তখন সেও শপথ করেছিল আমি একা একা কিন্তু জাহান্নামে যাবোনা। মানুষকেও আমার সঙ্গী বানাবো।

আর সেই শপথ পূরনের জন্য শয়তান ইবলিশ তার বাহিনী নিয়ে সর্দা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। শয়তানের ডাকে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন রকমের পাপে মানুষ লিপ্ত করায়।

যেমনঃ যেনার মাধ্যমে পাপ করায়, শির্ক করিয়ে পাপ করায়, চুরি করিয়ে পাপ করায়, গীবত করিয়ে পাপ করায়, হত্যার মাধ্যমে পাপ করায়, হিংসা ক্রোধ লোভ লালসার মাধ্যমে পাপ করায়। সুদ ঘুষের মাধ্যমে পাপ করায়, হারাম খাবার এবং নেশাদ্রব্য সেবনের মাধ্যমে পাপ করায়, নামাজ ছাড়ার মাধ্যমে পাপ করায়ে থাকে ইত্যাদি।

কিন্তু আপনি কি জানেন শয়তান মানুষের যে বিভিন্ন পাপ কাজের দিকে আহবান করিয়ে তার মধ্যে মানুষকে দিয়ে কোন কাজটি করিয়ে ইবলিশ শয়তান বেশি খুশি হয়?সে কাজটি হলো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ। এই কাজটি করতে পারলে শয়তান ইবলিশ যতখুশি হয় অন্য কোনো পাপে শামিল করিয়ে শয়তান ইবলিশ এতো পরিমান খুশি হয় না।

সহীহ মুসলিম শরীফে একটি হাদিস রয়েছেঃ হযরত যাবের (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেন → ইবলিশ শয়তান প্রতিদিন সিংহাসন পানির উপর স্হাপন করের।এবং সেখানে থেকে তার সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দিয়ে বের করে যে তোমরা গিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তর করো।

পাপ কাজে আহবান করাও গুনাহ করতে উৎসাহিত করাও। অতঃপর তার বাহিনীরা যখন দ্বাযিত্ব পালনের পর আবার সিংহাসনে ফিরে আসে তখন ইবলিশ তাদের কাছে থেকে জানতে চায় তাদের কাছে থেকে রিপোর্ট নিতে চায় কে কি গুনাহের কাজ করাতে পেরেছো মানুষকে দিয়ে?

মানুষকে কিভাবে বিভ্রান্ত করতে পেরেছো? কতবার মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পেরেছো? কতজন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পেরেছো? এভাবে তার উপস্থিত বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন জানতে চায়। যখন একজন শয়তান বলে আমি একজনকে দিয়ে যিনা করিয়েছি।

তখন ইবলিশ বলে, তুমি কাজের কাজ কিছুই করতে পারোনি। যেনা করেছে পাপ করেছে, পরবর্তীতে সে ক্ষমা চাইবে, আল্লাহর দরবারে কান্না কাটি করবে, তখন তো আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। তুমি কাজের কাজ কিছুই করতে পারোনি।

আরেক শয়তান যখন এসে বলে আমি একজনকে দিয়ে হত্যা করিয়েছি, তখন ইবলিশ বলে, তুমিও উল্লেখ্যযোগ্য কিছুই করতে পারোনি। কারণ তওবা করলে তো হয়তো পাপ মাফ হয়ে যাবে! এবং হত্যাকারী তার পরিবারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলে তারা যদি তাকে ক্ষমা করে দেয়, তাহলে তো তার পাপ মাফ হয়ে যাবে। তুমিও উল্লেখ্যযোগ্য কিছুই করতে পারোনি।

আরেকজন শয়তান যখন বলে আমি একজনকে দিয়ে চুরি করিয়েছি,তখন ইবলিশ বলে তুমিও উল্লেখ্যযোগ্য কিছুই করতে পারোনি।

আরেকজন এসে বলে আমি একজনকে দিয়ে পিতামাতার নাফরমানী করিয়েছি, যদিও পিতামাতার নাফরমানী করা কবিরা গুনাহ, তবুও ইবলিশ বলে তুমিও উল্লেখ্যযোগ্য কিছুই করতে পারোনি।

কারণ ছেলেমেয়ের প্রতি পিতামাতার একটু দুর্বলতার থাকে, পরবর্তীতে যখন পিতামাতা আবার সেই ছেলেমেয়ের জন্য ভালো দোয়া করবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। এই জন্য তুমিও কিছুই করতে পারোনি।

অতঃপর অন্য একজন এসে জানায়,আমি অমুককে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়িনি যতক্ষণ না তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছি।

তখন ইবলিশ তাকে কাছে টেনে নিয়ে বলে হ্যাঁ তুমি বেশি করেছ হ্যাঁ তুমিই কাজের মতো কাজ করতে পেরেছো। তুমি খুব কার্যকরী একটা কাজ করে এসেছো। তোমাকে পুরস্কৃত করা উচিত। (মুসলিম হাদিস নাম্বার ২৮১৩)

এই হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে,ইবলিশ সবচেয়ে বেশি খুশি হয়, সবচেয়ে মজা পায়,যখন স্বামী স্ত্রী মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। সংসারকে ভেঙ্গে দিয়ে একটা পরিবারকে তছনছ করে দিয়ে ইবলিশ শয়তান যত মজা পায় যত খুশি হয় আর অন্য কোনো পাপ সংঘটিত হলে পাপ করা হলে এতো খুশি হয়না।

এর কারণ কি? এর কারণ হলোঃ যখন কোনো ব্যক্তি যিনা করে, নামাজ ছাড়ে, চুরি করে, সুদ খায়,গীবত করে তখন সে ব্যক্তি ব্যক্তিগত ভাবে পাপ করে, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে বেশীরভাগ।

আর যখন কোনো দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে তখন কয়েকটা জীবন নষ্ট হয়ে যায় পরিবারে সম্মান নষ্ট হয়,বাচ্চা থাকলে তাদের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।

এমনকি বিচ্ছেদকৃত স্বামী স্ত্রী বিভিন্ন পাপ কাজে (বিশেষ করে) একাধিক ব্যক্তির সাথে তখন যেনা ব্যাভিচারের মতো নোংরা পাপে জড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে, এতে করে অন্যের স্বামী বা স্ত্রীর সাথে পরকীয়া প্রেম গড়ে উঠে।

এবং এই পরকীয়া প্রেমের কারণে আরো কয়েকটা পরিবার ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা থাকে, আরো স্বামী স্ত্রী মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে এমনকি নিজের আপনজনকে হত্যা ঘটনাও ঘটে থাকে।

এটা একটা চেইন রিএকশনের মতো সমাজকে নোংরা দিকে নিয়ে যায়, সমাজে অধঃপতন এবং পচন ধরিয়ে দেয়। এজন্য শয়তান যখন কোনো দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে তখন ইবলিশ শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।

এজন্য আমাদের প্রত্যেক দম্পতিকে সজাগ থাকতে হবে, ইবলিশের এই আশা যেন আপনার দ্বারা পূরণ না হয়, এবং ইবলিশের ধোঁকার পড়ে যেন তালাক বিচ্ছেদের কবলে আপনাকে পড়তে না হয়, এজন্য আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যে কেউ জগড়া শুরু করলে, যেই আগে জগড়া শুরু করুক না কেনো! তাদের মধ্যে যেকোনো একজন অন্যায় না হলেও চুপ থাকবেন।

তারপর যখন আপনার সঙ্গীর রাগ অভিমান মেজাজ শান্ত হবে তখন সে নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পারবে। আর যদি না বুঝতে পারলে বিশেষ মূহুর্তে (সহবাসরত অবস্থায়) স্ত্রী বা স্বামীকে তার অনার্থক রাগের বিষয় বুঝিয়ে বলবেন। তবুও ইবলিশ শয়তানকে স্বামী স্ত্রীর মাঝখানে আসতে দিবেন না।

মূলত আমরা কেউই ১০০% পারফেক্ট নই। কিছু ভালো ও কিছু মন্দ দিক নিয়েই আমাদের জীবন চলা। তাই ভালো দিকগুলো দেখে খারাপ গুলো সর্বদা এড়িয়ে চলা। মনে রাখতে হবে, স্ত্রীর সাথে নমনীয় ব্যবহার কাপুরুষতা নয়,বরং তা শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়।

উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেন → তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম এবং আমি আমার স্ত্রীদের কাছে সর্বোত্তম। (তিরমিজি ৪২৬৯)

স্বামীর স্ত্রী একে অপরের পরিচ্ছদ সবক্ষেত্রে একে অপরের সহযোগী। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন → তারা তোমাদের পরিচ্ছদ (পোশাকস্বরূপ) এবং তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ (পোশাকস্বরূপ)। ( আল কুরআনঃ ২(বাকারাহ): আয়াত ১৮৭)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন → যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ( সূরা হা-মীম সেজদা আয়াত ৩৬)

আল্লাহ আরো বলেন → হে মুমিনরা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চিতই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ( সূরা বাকারা আয়াত ১৬৮,২০৮)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন → (তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে) তার সহচর জিন (শয়তান) এবং সহচর ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেয়া হয়নি। সুতরাং তোমরা শয়তান থেকে সাবধার থেকো। ( সহিহ মুসলিম হা /২৮২৪)

তাই আমাদের সব সময় শয়তানের অসওয়াসা থেকে নিজেদের হেফাজত করতে হবে, সব সময় আল্লাহর হুকুম গুলো মেনে চলতে হবে। কোনোভাবেই ইবলিশ শয়তানকে খুশি করতে দেওয়া যাবেনা।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা লাইক কমেন্ট শেয়ার করে ইসলামি দাওয়াতে আপনিও অংশগ্রহণ করুন।প্রিয় বন্ধুরা জানার স্বার্থে দাওয়াতি কাজের স্বার্থে আর্টিকেলটি অবশ্যই শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।হতে পারে আপনার একটি শেয়ার বহু মানুষ উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply