তিনটি কাজে তালা লাগান জান্নাতে যাওয়া সহজ হয়ে যাবে। আমরা সবাই এই কাজগুলো না জেনে করে যাচ্ছি। সবাই সচেতন হই।

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

তিনটি কাজে তালা লাগান জান্নাতে যাওয়া সহজ হয়ে যাবে।

আমরা যতই আমল করিনা কেন আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া জান্নাত পাওয়া অসম্ভব। এমনকি নবী করীম (সাঃ) বলেছেন → কোনো ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া কেবলমাত্র আমলিয়্যতের ভিত্তিতে জান্নাত লাভ করতে পারবে না। (মিশকাত মাসাবিহ পৃষ্ঠা ৪০৮)

এজন্য জান্নাতের আরেক নাম হলো আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্তু এর পরেও তিনটি পাপ কাজ এমন রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি সেই পাপকাজ গুলিতে তালা লাগাতে পারে, সেই পাপকাজ গুলির উৎসের জায়গা বন্ধ করতে পারে, তাহলে রাসূল (সাঃ) তার জন্য জান্নাতের গ্যারান্টি দিয়েছেন বা তাঁকে জান্নাতে প্রবেশের জিম্মাদার নিয়েছেন।

অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও তার রাসূলকে খুশি করার উদ্দেশ্যে সেই তিনটি পাপ কাজ পরিত্যাগ করে। তিনটি পাপ কাজের উৎসের জায়গাতে তালা লাগাতে পারে, তবে রাসূল (সাঃ) কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন ইনশাআল্লাহ।

তো সেই তিনটি পাপ কাজের মধ্যেঃ

১ নাম্বার হলোঃ ব্যভিচারে তালা লাগানো। আল্লাহ তায়ালা বলেন → তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। অবশ্যই এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (সূরা বনি ইসরাইল আয়াত ৩২)

যারা অবৈধ যৌন সম্পর্ক বা সম্ভোগ থেকে বিরত থেকে নিজেদের লজ্জাস্হানকে হেফাজত করে। নিজদের লজ্জাস্হানে ব্যভিচার করা থেকে বিরত থাকবে তালা মেরে দেয়, তাদের জন্য পরকালে রয়েছে জান্নাতের গ্যারান্টি। রাসূল (সাঃ) তাঁদের জন্য জান্নাতের গ্যারান্টি দিয়েছেন।

রাসূল (সাঃ) বলেন → কোনো মানুষ যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়,তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং এটি তার মাথার ওপর মেঘখণ্ডের মতো ভাসতে থাকে। অতঃপর সে যখন তওবা করে, তখন ঈমান আবার তার কাছে ফিরে আসে। (আবু দাউদ ৪৬৯০)

হযরত সাহাল ইবনে সাআদ (রা.) বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেন → যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই পায়ের মধ্যেবর্তী জিনিস অর্থাৎ যৌনাঙ্গের নিশ্চয়তা দেবে,অর্থাৎ যিনা করবে না, আমি তাঁকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেবো। ( সহিহ বুখারী ৬৪৭৪)

২য় নাম্বার হলোঃ মুখ বা জিহ্বা দিয়ে পাপ কাজে তালা লাগানো। অর্থাৎ মুখের যাবতীয় পাপ থেকে বিরত থাকা। জিহ্বার হেফাজত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি বিভিন্ন অনিষ্টের মূল। এর দ্বারা একজন মানুষ যেমন সম্মানিত হয়, তেমনি অপদস্তও হয়। বুদ্ধিমান ও নির্বোধের মাপকাঠি এই জিহ্বা।

এর কারণে অনেক মানুষ জান্নাতে যাবে, আবার অনেকে যাবে জাহান্নামে। অধিকাংশ পাপ ও পুণ্যের কাজ সংঘটিত হয় জিহ্বার মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জিহ্বা দিয়েছেন তাঁর জিকির করার জন্য, তাঁর কালামে পাকের তিলাওয়াতের জন্য, নেক কথা বলার জন্য এবং তাঁর দ্বিনের প্রচারের জন্য।

অথচ জিহ্বার হেফাজত না করার কারণে কত ধরনের গুনাহ হয়ে যাচ্ছে! তাই জিহ্বাকে সংযত রাখা আবশ্যক। হযরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূল (সাঃ) কে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) আল্লাহর আজাব গজব থেকে নাজাতের উপায় কী?

রাসূল (সাঃ) বলেন → তুমি তোমরা জবান হেফাজত করো,গুনাহ জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করো এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়োনা। (তিরমিজি হাদিস নাম্বার ২৫৬৯)

এই হাদিসে নাজাত পাওয়া জন্য প্রথমে নিজের জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করা কথা বলা হয়েছে। জিহ্বা দ্বারা অনেক গুনাহ সংঘটিত হয়। হযরত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) জবানের ৩০ টিরও বেশি গুনাহ কথা উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে গিবত, মিথ্যা, কুটনামি,পরনিন্দা, অশ্লীল কথা, গালমন্দ ইত্যাদি বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে। তাই বলা হয়, যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ বিলানো অপেক্ষা জিহ্বাকে সংযত রাখা অধিক কঠিন কাজ।

হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ সাকাফি (রা.) বলেন,একবার আমি রাসূল (সাঃ) কে আরজ করলাম, হে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) আমার জন্য যে জিনিস গুলো ভয়ের কারণ বলে আপনি মনে করেন, তার মধ্যে সর্বাধিক ভয়ংকর কোনটি? তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন, “এটা” (অর্থাৎ জিহ্বা) । ( তিরমিজি হাদিস নাম্বার ২৫৬৬)

এর দ্বারা সহজেই অনুমান করা যায়, জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য মহানবী (সাঃ) বলেন → যে ব্যক্তি চুপ থাকে সে মুক্তি পায়। ( বুখারী হাদিস নাম্বার ৭৮৫৪)

তিনি আরো ইরশাদ করেছেন → পেট, যৌনেন্দ্রীয় ও জিহ্বার ক্ষতি থেকে আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, সে সব বিপদ থেকে রক্ষা পায়।( মুসলিম হাদিস নাম্বার ৮৮৬০)

জিহ্বার অসংযত ব্যবহারের কারণেই আজকাল দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী, মানুষে – মানুষে,পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে অশান্তি বিরাজ করছে।

এ জন্যই আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন → যের ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিসের (জিহ্বা বা বাকশক্তি) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিসের (লজ্জাস্হান) এর নিশ্চয়তা দিতে পারবে আমি তার জন্য বেহেশতের জামিনদার হতে পারি। (বুখারী হাদিস নাম্বার ৭৮৮৪)

হযরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে বললাম, হে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) মুসলমানের মধ্যে কে সর্বোত্তম?

তখন তিনি বলেন → যার মুখ ও হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে সেই সর্বোত্তম মুসলিম। (মুসলিম হাদিস নাম্বার ৮৮৬৭)

৩য় নাম্বার হলোঃ চোখ দিয়ে পাপ কাজে তালা লাগানো। চোখকে বলা হয় মনের আয়না। যেকোনো কাজ করার আগে চোখ প্রথম তা দেখে এবং পরে মনকে প্রলুব্ধ করে। তাই চোখের হেফাজত করা মানে হলো মনের হেফাজত করা। চোখে তালা লাগানো মানেই মনে তালা লাগানো।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন → অবৈধ দৃষ্টি শয়তানের তীর সমূহের মধ্যে হতে একটি তীর,যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহ তাকে এমন ঈমান দান করবেন যার স্বাদ তার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। (মুসতাদারাকে হাকিম হাদিস নাম্বার ৭৮৭৫)

কেউ কেউ মনে করে যে, একবার দেখলে সমস্যা নেই (সুতরাং একবার তাকাই)। এটা হলো তাদের বুঝার ভুল। প্রথম কাজ তো দৃষ্টি অবনত রাখা, যার নির্দেশ আল্লাহ কুরআনে কারীমে দিয়েছেন।

এটি রক্ষা করার পরও যদি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায় তাহলে করণীয় কী এ সম্পর্কে এক সাহাবী রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন → তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও। ( সুনানে আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ২১৪৮)

আর হযরত আলী (রা.) কে রাসূল (সাঃ) বলেছেন → হে আলী (হঠাৎ) দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার পর আবার দ্বিতীয়বার তাকিয়ো না। কারণ (হঠাৎ অনিচ্ছাকৃত পড়ে যাওয়া) প্রথম দৃষ্টি তোমাকে ক্ষমা করা হবে, কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না (জামে তিরমিজি হাদিস নাম্বার ২৭৭৭)

এছাড়া রাসূল (সাঃ) বলেছেন → তোমরা চোখ ও কানের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো। পবিত্র কোরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে → নিশ্চয়ই কান,চোখ, হৃদয় এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে ( সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) আয়াত ৩৬

যাইহোক প্রিয় পাঠক! আমরা হাত,পা, চোখ, কান, মুখ ও লজ্জাস্হান ব্যবহার করে কত না অপরাধ কর যাচ্ছি, কতনা বড় বড় পাপ কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু একবার কি খেয়াল করেছি। যে হাশরের ময়দানে এই অঙ্গ গুলো আমার বিরুদ্ধে আপনার বিরুদ্ধে কথা বলবে, সাক্ষী দিবে।

তারক প্রত্যেক বলবে যে, এই এই অঙ্গ গুলি দিয়ে এই পাপ কাজ গুলো করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকে এই অঙ্গ গুলি অপব্যবহার থেকে বেঁচে থেকে সাবধান থাকতে হবে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা লাইক কমেন্ট শেয়ার করে ইসলামি দাওয়াতে আপনিও অংশগ্রহণ করুন।প্রিয় বন্ধুরা জানার স্বার্থে দাওয়াতি কাজের স্বার্থে আর্টিকেলটি অবশ্যই শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।হতে পারে আপনার একটি শেয়ার বহু মানুষ উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply