যে তিন ব্যাক্তিকে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেপে উঠে।সবাই এই তিন ব্যক্তিকে আঘাত করা থাকে বিরত থাকি।

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে amartips তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে amartips তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই amartips এর সাথেই থাকুন ।

তিন ব্যাক্তিকে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেপে উঠে

প্রথমত আগে জেনে নিই আল্লাহর আরশ কি কখনো কেঁপে উঠে কিনা? এটা কতোটুকু সত্য? আরশ আল্লাহ তায়ালা একটি সৃষ্টি। এটি কেঁপে উঠতে পারে। এতে আশ্চর্য কিছু নেই। হাদিস দ্বারাই এর পরিস্কার প্রমান পাওয়া যায়।

যেমন এক হাদিসে এসেছে → হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন → সা’দ বিন মুয়াজের মৃত্যুতে আরশ কেঁপে উঠেছে। ( সহিহ বুখারী হাদিস নাম্বার ৩৮০৩,৩৫৯২)

সুতরাং একথাটি একেবারে ভিত্তিহীন কোন কথা নয়। কোন কারণে আরশ কেঁপে উঠতে পারে।

আজকে আমরা আলোচনা করবো যে তিন শ্রেণীর মানুষকে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে! তবে এখানে আরশ কেঁপে উঠা বলতে আল্লাহ খুব নারাজ হন বোঝানো হতে পারে।

তারমধ্যে প্রথম হলো অবলা নারীকে আঘাত করলেঃ ইসলাম পূর্বযুগে নারীরা ছিল সাধারণ পণ্যসামগ্রীর চেয়েও অত্যন্ত সাধারণ। নারীদের প্রতি পুরুষদের ব্যবহার ও আচরণ ছিল অত্যন্ত নির্মম ও পশুসুলভ। জাহেলি যুগে নারীদের সমাজে কোনো স্হান ছিল না। তারা ছিল তখন শুধু ভোগের সামগ্রী।

পুরুষদের খেয়ালখুশি ওপর নির্ভর করত তাদের বাঁচা-মরা। তাদের নিষ্ঠুরতা এত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে,কোনো কন্যাসন্তান জন্ম নিলেই নিষ্ঠুর-পাষান্ড পিতা তাদের জনপদ থেকে দূরে কোথাও নিয়ে নিজ হাতে গর্ত করে সেখানে পুঁতে ফেলত।এইসব শিশু কন্যার গণবিদারী আর্তনাদ পিতার হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণও দয়া ও সহানুভূতি উদ্রেক করত না।

সে যুগে নারীরা দাসী হিসেবে বিক্রি হতো, পাচার হতো এক দেশ থেকে অন্য দেশে । আর ক্রয়কৃত নারীরা মনিবের ভোগের সামগ্রীরূপে ব্যবহৃত হতো প্রতিনিয়ত। অত্যাচার আর অবিচার ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী।ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে ও সামান্য ভুলভ্রান্তি হলে প্রহারে প্রহারে জর্জরিত করত তাদেরকে।

চাবুকের আঘাতে তাদের শরীরের চামড়া ফেটে রক্ত ঝরত। এসব অত্যাচার একজন অবলা নারীকে সহ্য করতে হতো নিরদ্বিধায়। তখনকার দিনে সুন্দরী নারীদের উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হতো। সেসব নারী ক্রেতা ব্যক্তির ঘরে চিরজীবনের জন্য প্রবেশ করত। তার পক্ষে আর কোনো দিনই বের হওয়ার সুযোগ ছিল না।

ইসলাম আসার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের মান মর্যাদা বেড়ে যায়। মহানবী (সাঃ) ইসলামে নারীর অবদানকে স্বকৃীত দিয়েছেন। ইসলামী সমাজ গঠনে নারীরা যাতে অবদান রাখতে পারে, তার সুযোগ করে দিয়েছেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) শুধু পুরুষদেরই নবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন নারীদের ও নবী। তাই কোনো ধর্মীয় আদর্শ কায়েমে তিনি উভয় শ্রেণির কল্যানের প্রতি সুদৃষ্টি রাখতেন।

ইসলামই সর্বপ্রথম নারীকে বাঁচার অধিকার দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন → তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তানদের হত্যা করো না ( সূরা আনআম ১৫১)

অন্য আয়াতে তিনি বলেন → (কিয়ামতের দিবসে) জীবন্ত প্রেথিত কন্যাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাদের হত্যা করা হয়েছে। (সূরা তাকভির ৮-৯)

ইসলাম নারীকে অত্যাচার, অপমান ও লাঞ্চনার পরিবেশ থেকে রক্ষা করে তাকে মায়ের মর্যাদা দিয়েছে।হাদিস শরিফে আছে → মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। নবী করীম (সাঃ) বলেন → যার তিনটি কন্যা বা তিনটি বোন আছে (কোনো কোনো বর্ণায় ২টি বা একটি) আর সে তাদের আদর, সোহাগে ও উত্তম শিক্ষা দিয়ে সুপাত্রে বিয়ে দিয়েছে, তার জন্য বেহেশত অবধারিত (তিরমিজি ২য় খন্ড হাদিস নাম্বার ১৯১৮) এভাবেই ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত বা প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চিরকুমার ও চিরকুমারী থাকা ইসলাম সমর্থন করে না। বিবাহবহির্ভূত উচ্ছৃঙ্খল জীবন কখনো মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

কোনো জাতি উচ্ছৃঙ্খল হলে সে জাতি ধ্বংসের দ্বারাপ্রান্তে উপনীত হয়। তাই মহানবী (সাঃ) বলেছেন → হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান তাদের বিয়ে করা উচিত। আর যারা অক্ষম তাদের উচিত রোজা রাখা। (বুখারী ৫০৬৬ ও মুসলিম ১৪০০)

সংসারজীবন পালন করতে হলে মানুষকে বিবাহিত জীবনের ছায়াতলে আশ্রয় নিতে হবে। আর সংসারজীবনে নারী ও পুরুষ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তা না হলে সংসারজীবন সুখের হয় না।

তাই স্বামীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে → তোমরা সদাচরণ ভিত্তিতে তোমাদের স্ত্রীদের সাঙ্গে জীবনযাপন করো। (সূরা নিসা ১৯)

তাই পারিবারিক কোনো জামেলা বা জগড়া ঝাটি হলে কথায় কথায় স্ত্রীর গায়ে আঘাত করা যাবেনা, মনে রাখতে হবে, আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) কখনোই তাঁর স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতেন না। প্রকৃতপক্ষে ইসলামে নারীদের অধিকার পুরুষদের সমতুল্য নয়,বরং অনেক অগ্রগামী। ন্যায়নীতির ভিত্তিতে নারীদের এই অধিকার দিতে হবে। নারীর অধিকার হরণ করা বা তাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে → পুরুষদের ওপর নারীদের তেমন অধিকার রয়েছে, যেমন নারীদের ওপর পুরুষদের অধিকার রয়েছে। (সূরা বাকারাহ ২২৮)

এছাড়া সমাজে বখাটে, লম্পট এবং উচ্ছৃঙ্খল পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে নারীদের বাঁচার জন্য যৌনসন্ত্রাস ও যৌন নির্যাতন মুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইসলাম নারীদের প্রতি পর্দার বিধান জারি করেছে। এভাবে ইসলাম সর্ব ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীদের পাশে দাড়িয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকার হলোঃ প্রতিবন্ধীদের অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখলে আল্লাহ অখুশি হন। ইসলাম সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকার বিষয় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

সমাজের যারা পাগল ব্যক্তিকে এবং প্রতিবন্ধীদেন অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখে, তাদের মনে রাখা দরকার, (আল্লাহ না করুন) বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার কারণে একজন সুস্থ সবল মানুষও যে কোনো সময় শারীরিক অক্ষমতায় অক্ষম হতে পারে অথবা শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারে বা কোনো কারণে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে যেতে পারে।

তাই প্রত্যেক সুস্থ মানুষের উচিত, শারীরিক সুস্থতার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা হাত বাড়ানো। কারণ তাদেরও অধিকার রয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপনের।

ইসলাম, প্রতিবন্ধীদেন প্রতি সচেতন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন → তাদের (বিত্তশালী) ধনসম্পদ অভাবগ্রস্থ ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। (সূরা জারিয়াত ১৯)

প্রতিবন্ধীর,পাগল, অবলা বা নারীদের শারীরে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে সমান চোখে দেখতেন। মৃদু বাকপ্রতিবন্ধী সাহাবী হযরত বেলাল (রা.) কে মসজিদে প্রথম মোয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে (রা.) নবী করীম (সাঃ) দু’দু’বার মদিনার অস্থায়ী শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। এমনকি হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখনই তাকে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম) দেখতেন, তখনই বলতেন, স্বাগতম জানাই তাকে, যার সম্পর্কে আমার আল্লাহ আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।

উল্লেখ যে, নবী করীম (সাঃ) সাহাবী আবদুল্লাহ উম্মে মাকতুম (রা.) কে কোনো এক বিষয়ে অগ্রাধিকার না দেওয়ার আল্লাহ তায়ালা সতর্কীকরণের মুখে পড়েন। ঘটনাটি হলো – একদা নবী করীম (সাঃ) কোরাইশ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনারত ছিলেন। এমতাবস্হায় অন্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে নবী করীম (সাঃ) কে দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

এতে আলোচনায় ব্যাঘাট সৃষ্টি হলে নবী করীম (সাঃ) কিঞ্চিৎ বিরক্তি প্রকাশ করেন। নবী করীম (সাঃ) মক্কার জাত্যভিমানী কোরাইশদের মন রক্ষার্থে অন্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের প্রতি তখন ভ্রুক্ষেপ করলেন না।

কিন্তু আল্লাহর কাছে এ বিষয়টি পছন্দনীয় হলো না। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ক পবিত্র কোরআনুল কারিমের আয়াত নাজিল হয়ঃ যাতে তাদের প্রতি ইসলামের কোমল মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে।

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন → সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ কার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহন করত। ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। ( সূরা আবাসা ১-৪)

এরপর থেকে নবী করীম (সাঃ) প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সতর্ক হয়ে যান। তাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে থাকেন। প্রতিবন্ধীদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন নবী করীম (সাঃ) এর সুন্নতও বটে। যেখানে রাসূল (সাঃ) কে আল্লাহ সতর্ক করেছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিবন্ধীদের প্রতি উদাসীনতা দেখালে নিশ্চয়ই আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন এটা বলাই বাহুল্য।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।সমাজে সেই মানুষেরই একটা অংশ প্রতিবন্ধী। তারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাছাড়া প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা পরকালে মুক্তির উসিলা। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার নূন্যতম মৌলিক অধিকার গুলো তাদের ও ন্যায্য প্রাপ্য। তাই প্রতিবন্ধীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়া একান্ত জুরুরি অত্যাবশ্যক।

যেমনি হযরত আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন → ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও (গ্রন্হঃ সুনানে আবূ দাউদ (তাহকিককৃক)। অধ্যায়ঃ১৫/হাদিস নাম্বারঃ৩১০৫)

এরপর তিন নাম্বার হলো যাদের আঘাত করলে আল্লাহ নারাজ হনঃ তাহলো পাগল ব্যক্তিকে আঘাত করলে। এমনকি ইসলামে পাপ পূন্যের হিসেবে তিন ধরনের ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে তাঁর মধ্যে পাগল অন্যতম। তাই পাগলকে কখনো আঘাত করবেন না।

হযরত আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন → তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে ১.ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়। ২. নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং ৩. পাগল যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয় (ইবনে মাজাহ হাদিস নাম্বার ২০৪১)

প্রিয় ভাই ও বোনেরা লাইক কমেন্ট শেয়ার করে ইসলামি দাওয়াতে আপনিও অংশগ্রহণ করুন।প্রিয় বন্ধুরা জানার স্বার্থে দাওয়াতি কাজের স্বার্থে আর্টিকেলটি অবশ্যই শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।হতে পারে আপনার একটি শেয়ার বহু মানুষ উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply