আমাদের দেশে প্রতিবছর অনেক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । একজন আসল আলেমের বৈশিষ্ট্য কি ? আসুন একটি চমৎকার ঘটনার মাধ্যমে জেনে নিই ।

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ !!!
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
সম্মানিত মুসলমান , আলোর পথের যাত্রী ! সুপ্রিয় পাঠক ও দ্বীনি ভাই , কেমন আছেন ?
আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ও নিয়ামতে অনেক ভালো আছেন ! আলহামদুলিল্লাহ !
মহান আল্লাহ তায়ালার সুকরিয়া আদায় করে শুরু করছি আজকের পর্ব ।
হে ঈমানদারগণ , আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি , কেবল মাত্র আল্লাহর কাছেই মাথানত করি । আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সামতে মাথা নত করা উচিত নয় , একদমই উচিত নয় , এটি কবিরা গুনাহ । একজন প্রকৃত আলেম কখনোই কারো কাছে মাথা নত করে না ।
একটি ঘটনা লিখে আপনার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি , মনোযোগ সহকারে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে পড়বেন ।

সুলতান আবদুল আজিজ মিসর সফরে আসছেন। সাড়া পড়ে গেছে গােটা মিসরে।
মিসরের শাসক ইসমাঈল সম্বর্ধনার আয়ােজনে মহাব্যস্ত। সুলতান খুশী হলে শুধু তার আসন পাকাপােক্ত হওয়াই নয়, বহু আকাঙ্ক্ষিত খেতাবও এবার মিলে যেতে পারে !!!

সুলতানের জন্যে আড়ম্বরপূর্ণ সম্বর্ধনার

ব্যবস্থা বরলেন। নির্দিষ্ট দিনে সুলতান আবদুল আজিজ মিসরে আসলেন। তাঁর সম্মানে বিশেষ দরবার বসানাে হলাে।
সুলতানকে সম্মান প্রদর্শনের জন্যে আলেমদের কেও একত্রিত করা হয়েছে। আলেমদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে , তাঁরা অবনত মস্তকে দরবারে সুলতানের সামনে হাজির হবেন এবং মাথা ঝুঁকিয়ে কুর্নিশ করার পর পিছু হটে দরবার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, সুলতানকে পেছনে দেখিয়ে অসম্মান করা যাবে না কিছুতেই !!

সুলতান খুশী হে আলেমরা প্রচুর ইনাম পাবেন। একে একে আলেমরা দরবারে প্রবেশ করতে লাগলেন অবনত মস্তকে এবং কুর্নিশ করে পিছু হেটে বেরিয়ে এলেন।

আলেমদের মধ্যে ছিলেন শেখ হাসানুল আদাদী। সর্বশেষে এল তাঁর দরবারে প্রবেশের পালা। তিনি উন্নত শিরে দরবারে প্রবেশ করলেন। সুলতানকে কুর্নিশ না করে তিনি সালাম দিলেন। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে যেভাবে দরবারে প্রবেশ করেছিলেন, সেইভাবে উন্নত শিরে দরবার থেকে বেরিয়ে এলেন।

সুলতানের কাছে বসা ইসমাঈলের মন হায় হায় করে উঠল। সুলতান নিশ্চয় অপমানিত বােধ করেছেন এবং ভীষণ ক্ষুব্ধ হবেন নিশ্চয়।
দরবার শুব্ধ সকলের মুখ শুকিয়ে গেল। মহামান্য সুলতান কি করেন সেই শংকা দেখা দিল সকলের মনে। দরবার থেকে বের হলে সকলেই শেখ হাসানুলকে ঝেকে ধরলাে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন , ” আপনি একি করলেন ?”

সবকিছু জানার পরেও শেখ বললেন, ” একজন
সুলতান হিসেবে যে সম্মান পাওয়া উচিত তাঁকে তা দিয়েছি।”
সুপ্রিয় পাঠক , আপনিই বলুন , শেখ হাসানুল ঠিক করেছেন কিনা ?? প্রকৃত আলেম তাহলে কে হলেন ?? শেখ হাসানুল নাকি পুরস্কারের লোভে মাথা নত করা সেই সব নামধারী আলেম ??

দরবার শেষ করার আগে সুলতান আবদুল আজিজ আলেমদের মধ্যে শুধু শেখ হাসানুল আদাদীকেই পুরস্কৃত করলেন,
এবং বললেন, ” এই দরবারে শুধু
এই একজন আলেমই রয়েছেন। ”

একজন আলেম সত্য প্রচারে কখনোই পিছ পা হন না । তবে সেটা সুষ্ঠু সুন্দর যুক্তি সংগত হতে হবে । আল্লাহর সত্য প্রচারে কখনোই কারো কাছে মাথা নত হওয়া উচিত নয় । তেল মাখানোর তো কোনো প্রশ্ন ই ওঠে না ।
বিনা করণে দশজনের মধ্যে বসে কারোর সমালোচনা বা গিবত করবে একাও আলেমদের বৈশিষ্ট্য নয় । সর্বদা প্রকৃত অবস্থা তালাশ করতে হবে ।

সুপ্রিয় পাঠক , মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করে এখানেই বিদায় নিচ্ছি । সুবহানাল্লাহ ! ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন !
আল্লাহাফেজ 💝

Leave a Reply