রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৪)

আসসালামু আলাইকুম শুভ সকাল আজ আমরা শিখব রাস্তার হকের তৃতীয় ও চতুর্থ হক আমাদের কি শিক্ষা দেয় 

 

 যারা আগের পোস্ট গুলো দেখেন নাই তারা দেখে নিন:

রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০১)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০২)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৩)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৪) 

 

 ইসলামে সালাম এর ব্যাপারে কি বলে, কে কাকে আগে সালাম দিবে ৷

 তো বন্ধুরা আজকের পোস্ট শুরু করা যাক ৷

তৃতীয় হক : সালামের জবাব দেওয়া

 

রাস্তার তৃতীয় হক وَرَدُّ السَّلاَمِ সালামের জবাব দেওয়া। সালামের সাধারণ নিয়ম হল, আরোহী ব্যক্তি পায়েহাঁটা ব্যক্তিকে আর হেঁটেচলা ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে সালাম দিবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

 

يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى المَاشِي، وَالمَاشِي عَلَى القَاعِدِ، وَالقَلِيلُ عَلَى الكَثِيرِ.

 

আরোহী পায়দলকে, পায়দল উপবিষ্টকে ও অল্প মানুষ বেশি মানুষকে সালাম দিবে। [সহীহ বুখারি হাদীস  ৬২৩২, সহীহ মুসলিম হাদীস ২১৬০]

 

আরেক রেওয়ায়েতে আছে

 

يُسَلِّمُ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ وَالْمَاشِي عَلَى القاعد والقليل على الكثير.

 

ছোট বড়কে, গমনকারী উপবেশনকারীকে ও কমসংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে। সহীহ বুখারী, হাদীস ৬২৩২

 

রাস্তায় বসা অবস্থায় থাকলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের জবাব দিতে বলেছেন। কারণ সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, হেঁটে চলা মানুষ উপবিষ্টকে সালাম দিবে। তাহলে বসা ব্যক্তির দায়িত্ব সালামের জবাব দেওয়া।

 

 

 

সালামের বিভিন্ন স্তর

 

এক হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে এসে বলল, السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ নবীজী জবাব দিয়ে বললেন, তার দশ নেকি লেখা হয়েছে। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন,  السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ নবীজী জবাব দিয়ে বললেন, তার জন্য বিশ নেকী লেখা হয়েছে। এরপর আরেকজন এসে বলল,

 

 السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

 

নবীজী জবাব দিয়ে বললেন, তার জন্য ত্রিশ নেকী লেখা হয়েছে। জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৮৯

 

 

 

বেশি বেশি সালাম দেওয়া

 

সালামের ফায়েদা অনেক বেশি। দুনিয়াতে ও আখিরাতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

 

لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ.

 

তোমরা মুমিন হওয়া ছাড়া জান্নাতে যেতে পারবে না, আর পরস্পরে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) ভালবাসা ছাড়া মুমিন হতে পারবে না। আমি কী তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলব না, যার দ্বারা তোমাদের মাঝে মুহাব্বত সৃষ্টি হবে? নিজেদের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও।  সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৪

আরেক রেওয়ায়েতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

 

وَتَقْرَأُ السَّلاَمَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ.

 

পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে। সহীহ বুখারী, হাদীস ১২

 

হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

 

إِذَا لَقِيَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَإِنْ حَالَتْ بَيْنَهُمَا شَجَرَةٌ أَوْ جِدَارٌ أَوْ حَجَرٌ ثُمَّ لَقِيَهُ فَلْيُسَلِّمْ عَلَيْهِ أَيْضًا.

 

কারো সাথে তার (মুসলিম) ভাইয়ের দেখা হলে তাকে সালাম দিবে। যদি তাদের মাঝে কোনো গাছ, দেয়াল বা (বড়) পাথর আড়াল হয় এবং আবার দেখা হয় তাহলে (আবার) সালাম দিবে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২০০

 

 

 

চতুর্থ হক : সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা

 

এ এমন এক আমল, যা প্রত্যেক মুমিন ও মুসলমানের জন্য সর্বদা জরুরি। বিশেষত রাস্তা-ঘাটে। কারণ সেখানেই সব শ্রেণীর মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। তাই ‘সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা’কে বিশেষভাবে রাস্তার হকের মাঝে গণ্য করা হয়েছে।

 

হযরত হামযা ইবনে আবু উসাইদ রাহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

 

 أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: وَهُوَ خَارِجٌ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاخْتَلَطَ الرِّجَالُ مَعَ النِّسَاءِ فِي الطَّرِيقِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلنِّسَاءِ: اسْتَأْخِرْنَ، فَإِنَّهُ لَيْسَ لَكُنَّ أَنْ تَحْقُقْنَ الطَّرِيقَ عَلَيْكُنَّ بِحَافَّاتِ الطَّرِيقِ فَكَانَتِ الْمَرْأَةُ تَلْتَصِقُ بِالْجِدَارِ حَتَّى إِنَّ ثَوْبَهَا لَيَتَعَلَّقُ بِالْجِدَارِ مِنْ لُصُوقِهَا بِهِ.

 

একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখতে পেলেন, রাস্তায় নারী-পুরুষ মিলেমিশে চলাফেরা করছে, তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা পুরুষের পরে যাও। তোমাদের জন্য রাস্তার মাঝভাগে দিয়ে চলাচল করা উচিত নয়। বরং তোমাদের উচিত পথের একপাশ দিয়ে চলাচল করা। হযরত আবু উসাইদ রা. বলেন, এরপর থেকে মহিলারা এতই দেয়াল ঘেষে চলতেন যে, তাদের কাপড় দেয়ালের সাথে ঘষা খেত। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২৭২

 

আর এটা শুধু রাস্তায় চলার আমলই নয়, বরং সব অবস্থায়ই এটি মুমিনের দায়িত্ব; কোনো অন্যায় দেখলে সাধ্যমত তা দূর করার চেষ্টা করা।

 

 

আজ এ পর্যন্তই পরে পোস্ট আবার দেখা হবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ হক নিয়ে ৷

 

Leave a Reply