রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৭)

আসসালামু আলাইকুম শুভ সকাল আজ আমরা শিখব রাস্তার হকের ৭ম ও ৮ম  হক আমাদের কি শিক্ষা দেয় ৷ 

রাস্তাঘাটে অনেক লোকজন বোঝা বহন করে আর বোঝা বহনকারী সাহায্য করা আল্লাহতালা পছন্দ করেন ৷ ভারী বস্তু বহনকারী কে সাহায্য করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য ৷

 

রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় অবশ্যই আমারা ভালো কথা বলবো ৷ 

কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তির চেয়ে, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করে।( সূরা হা-মীম আসসাজদাহ (৪১) : ৩৩)

 

 যারা আগের পোস্ট গুলো দেখেন নাই তারা দেখে নিন:

রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০১)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০২)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৩)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৪)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৫)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৬)
রাস্তা বা পথ চলাচলের হক বা আদব সমূহ কি (পর্ব-০৭)

 

সপ্তম হক : বোঝা বহনকারীকে সহযোগিতা করা

 

রাস্তায় চলাচলকারীদের মধ্যে কেউ থাকে খালি হাতে, কারো সাথে থাকে ভারি বোঝা। ভারি বোঝা যদিও একা বহন করা যায়, কিন্তু উঠানো বা নামানোর সময় কারো না কারো সাহায্যের প্রয়োজন পড়েই। যে ব্যক্তি এ কাজে সাহায্য করে তার জন্য বোঝা বহনকারীর হৃদয় থেকে দুআ আসে, এটাই স্বাভাবিক। আর আমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিয়তে কারো মাথা থেকে ভারি বোঝা নামিয়ে দিলাম তো হতে পারে এর অছিলায় আল্লাহ আমার গোনাহের বোঝা নামিয়ে দিবেন, মাফ করে দিবেন।

 

মাথায় করে ভারি বোঝা বহন করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে যদি এমন হয়, আমার বাহনে আমি কারো ভারি বোঝা বহন করে দিলাম। সেটা উঠানো-নামানোর চেয়ে আরো বেশি ফযীলতের। তেমনি আমার বাহন আছে, আরেকজনের নেই। আমার বাহনে আরেকজনকে নিতে পারি। এক ভাইয়ের সাথে দেখা হল, আমি ও সে একই দিকে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে যদি আমার বাহনে তাকে উঠিয়ে নেই ৷ এটা হবে অনেক বড় সওয়াবের কাজ।  হাদীস শরীফে এসেছে,

 

وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا، أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ.

 

কোনো ব্যক্তিকে সাওয়ারীতে ওঠানো বা তার সামানা বহনে সহযোগিতা করাও একটি সদাকা। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০৯)

 

 

 

অষ্টম হক : ভালো কথা বলা

 

পথে একে অন্যের সাথে দেখা হয়, কথা হয়। কুশলাদি বিনিময় হয়। এক্ষেত্রে  সহাস্য বদনে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত। কারণ, অনর্থক, অশালীন, অন্যায় কথার কারণে অনেক সময় পথে ফ্যাসাদ হয়। আর মুমিনের শানই হল ভালো কথা বলা; অন্যথায় চুপ থাকা। হাদীস শরীফে এসেছে,

 

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ.

 

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০১৮)

 

আর সবচেয়ে ভালো কথা হল, আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা। ভালো কাজের প্রতি আহ্বান করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

 

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعا إِلَى اللهِ.

 

কথায় কে উত্তম ঐ ব্যক্তির চেয়ে, যে মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান করে।( সূরা হা-মীম আসসাজদাহ (৪১) : ৩৩)

 

ধন্যবাদ এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ৷ আজ এ পর্যন্তই কাল আবার দেখা হবে ৯ম ও ১০ম হক নিয়ে ৷

Leave a Reply