ব্লগের কিওয়ার্ড রিসার্চ কি? কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করতে হয়?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর ক্ষেত্রে Keyword হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সে জন্য কোন একটি বিষয়ে পোস্ট লিখার পূর্বে কাঙ্খিত পোস্টের কিওয়ার্ড রিসার্চ না করে কোনভাবে সেই পোস্টকে র‌্যাংক করানো সম্ভব হবে না।

কারণ আপনি যে বিষয়ের উপর পোস্ট লিখেবেন সেই পোস্টের কোন কোন কিওয়ার্ড লিখে মানুষ গুগল সহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে এবং প্রতিমাসে সেই বিষয়ে কি পরিমানে সার্চ করা হয়ে থাকে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করতেই হবে।

তাছাড়া আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড নিয়ে পোস্ট লিখলে কোন কোন ব্লগ আপনার প্রতিদন্ধি হবে এবং সেই পোস্টটি র‌্যাংক করানোর জন্য কি কি করতে হবে তা জানার জন্য কিয়ার্ড রিসার্চ করা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। কেবলমাত্র কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে যেকোন একটি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা নেওয়া সম্ভব হয়।

সাধারণত আমরা যখন ব্লগে কোন আর্টিকেল লিখি, তখন কোন নির্দিষ্ট একটি বা দু-চারটি Keyword কে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ পোষ্টের আর্টিকেল সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করি। এতেকরে সার্চ ইঞ্জিন পোষ্টের কিওয়ার্ড এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে সার্চ ক্যোয়ারি অনুসারে সার্চ রেজাল্টের তালিকায় ধারাবহিকভাবে শো করে।

এ ক্ষেত্রে একজন লেখক তার আর্টিকেল এর বিষয়বস্তুর কাঙ্খিত Keyword গুলোর Keword Density বজায় রেখে যত সুন্দরভাবে যথাস্থানে ব্যবহার করতে পারবে, সার্চ ইঞ্জিন তার পোষ্টটিকে তত বেশি গুরুত্ব দেবে।

কিওয়ার্ড কি?

কিওয়ার্ড হচ্ছে একটি শব্দ বা তিন চারটি শব্দ দ্বারা গঠিত একটি বাক্য। সহজভাবে বলা যায় যে, কিওয়ার্ড বলতে বুঝায় যা লিখে আমরা গুগল সহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করি। সাধারণত কিওয়ার্ডকে কেন্দ্র করেই গুগল একটি ব্লগের পোস্ট র‌্যাংক করে। কারণ অনলাইনে কোন কিছু খুঁজার ক্ষেত্রে আমরা কিওয়ার্ড ব্যবহার করি।

কিওয়ার্ড কিভাবে কাজ করে?

এই বিষয়টি আমি উদাহরনের মাধ্যমে ক্লিয়ার করা চেষ্টা করছি। ধরুন-আপনি Samsung Galaxy S10 মোবাইল নিয়ে একটি পোস্ট লিখছেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি ঐ মোবাইলটির যাবতীয় ফিচার্স সহ এটির ভালো খারাপ দিক তুলে ধরার পাশাপাশি এর দাম এবং আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে একটি বিস্তারিত পোস্ট শেয়ার করবেন। সেই পোস্টটির ক্ষেত্রে আপনার প্রধান বা টার্গেটেড কিওয়ার্ড হবে Samsung Galaxy S10. সেই পোস্টে Samsung Galaxy S10 এর যাবতীয় বিষয় ভালোভাবে তুলে ধরাই হবে আপনার প্রধান কাজ।

এ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যখন গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে Samsung Galaxy S10 লিখে সার্চ করবে তখন সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে তার তথ্য ভান্ডারে থাকা Samsung Galaxy S10 বিষয়ে যত পোস্ট রয়েছে সেগুলো যাচাই করে সবচাইতে ভালো পোস্টগুলো সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় শো করবে। এভাবে মূলত কিওয়ার্ডের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন একটি পোস্টের র‌্যাংকিং নির্ধারণ করে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি?

ধরে নিলাম আপনি Samsung Galaxy S10 নিয়ে একটি পোষ্ট লিখবেন। পোস্টটি লেখার পূর্বে আপনাকে জেনে নিতে হবে মানুষ Samsung Galaxy S10 এর কোন কোন কিওয়ার্ড (বিষয়) লিখে অনলাইনে সার্চ করছে বা কি কি বিষয় জানতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত একজন ব্যক্তি মোবাইলের দাম, রিলিজ ডেট ও ফিচার্স সহ আনুষাঙ্গিক বিষয় লিখে অনলাইনে সার্চ করতে পারে।

এ জন্য পোস্ট লেখার পূর্বে বিভিন্ন কিওয়ার্ড টুলস ব্যবহার করে Samsung Galaxy S10 সাথে কি কি কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করা হয়, মাসে কি পরিমান সার্চ হয়ে থাকে, সেই কিওয়ার্ড নিয়ে লিখলে আপনি র‌্যাংক করতে পারবেন কি না, র‌্যাংক করার জন্য কি কি করতে হবে, কোন কোন ব্লগ সেই পোস্টের কম্পিটিটর হতে পারে ইত্যাদি বিষয় জেনে নেওয়ার কাজই হচ্ছে কিওয়ার্ড রিসার্চ।

কেন কিওয়ার্ড রিসার্চ করাটা জরুরী?

প্রথমত আপনি যে বিষয় নিয়ে পোস্ট করছেন সে বিষয়ের সাথে রিলিটেড কি ধরনের কিওয়ার্ড লিখে অনলাইনে সার্চ করা হয়ে থাকে সেটি জানার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। দ্বিতীয় সেই কিওয়ার্ড লিখে অনলাইনে কি পরিমানে সার্চ করা হয় সেটি জানার জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। তৃতীয়ত সেই কিওয়ার্ড নিয়ে পোস্ট লিখলে র‌্যাংক করতে পারবেন কি না, কারা কারা আপনার পোস্টের সাথে কম্পিটিশন করবে, পোস্ট র‌্যাংক করার জন্য কি কি করতে হবে, কিভাবে পোস্ট করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে ধারনা নেওয়ার জন্য অবশ্যই কিওয়ার্ড রিসার্চ করতেই হবে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে লিখে শেষ করা যাবে। এক কথায় যে যত ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে পোস্ট সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারবে তার পোস্ট তত দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করবে। অধিকাংশ ব্লগাররা সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারে না বিধায় তাদের পোস্টে ভালো আর্টিকেল থাকা সত্বেও পোস্ট র‌্যাংক হয় না।

কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়?

কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য অনলাইনে অনেকগুলো টুলস রয়েছে। ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য টুলস এর সাহায্য নিতেই হবে। কারণ টুলস ছাড়া কোনভাবে শতভাগ কিওয়ার্ড রিসার্চ করা সম্ভব হয় না। অনলাইনে যতগুলো ভালোমানের কিওয়ার্ড টুলস রয়েছে তার প্রায় সবটি হচ্ছে পেইড। টাকা ছাড়া ঐ টুলগুলো ব্যবহার করে পরিপূর্ণভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা সম্ভ হয় না।

আপনার টাকা খরছ করার মত সামর্থ থাকলে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য অবশ্যই পেইড টুলসগুলো ব্যবহার করার জন্য সাজেস্ট করব। তবে আপনার কাছে টাকা বা সময় না থাকলে Google Keword Planner এর সাহায্যে ফ্রিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ কিওয়ার্ড সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা নিতে পারবেন।

আপনি টাকার বিনিময়ে এসইও টুলস ব্যবহার করতে চাইলে নিচের যেকোন একটি ব্যবহার করতে পারেন। আমার কাছে নিচের চারটির প্রত্যেকটি খুবই প্রিয় এসইও টুল।

১।Ahrefs.
২।Semrush.
৩।Moz.
৪।KWFinder.

আপনি টাকা খরছ করে কিওয়ার্ড টুল ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই Ahrefs টুলটি ব্যবহার করবেন। আমি নিজে চারটি টুলই ব্যবহার করেছি। এই চারটি অসাধারণ এসইও টুলস। তবে আমার কাছে Ahrefs টুলটি বেটার মনেহয়েছে।


কিভাবে ফ্রিতে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন?

কিভাবে KWFinder দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন?

KWFinder একটি পেইড এসইও টুল হলেও এটিতে ফ্রি একাউন্ট করে প্রতিদিন ৩টি কিওয়ার্ড ফ্রিতে রিসার্চ করার সুযোগ পাবেন। এই টুলস দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য KWFinder লিংকটিতে ক্লিক করুন। তারপর আপনার ইমেইল আইডি ব্যবহার করে একটি একাউন্ট তৈরি করে নিন।

kw

কিভাবে KWFinder দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন?

উপরের চিত্রে দেখুন আমি KWFinder টুল এ “Keword Research” কিওয়ার্ডটি লিখে সার্চ করায় বাম পাশের অংশে রিলেটেড কিওয়ার্ড শো করছে। সেই সাথে রিলেটেড কিওয়ার্ডগুলো মাসে কি পরিমান সার্চ হয়, কিওয়ার্ড Defficulty কত, সিপিসি ও পিপিসি ইত্যাতি তথ্য শো করছে। ডানপাশের অংশে শো করছে এই কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে কোন কোন ব্লগ আপনার প্রতিদন্ধি হতে পারে। সেই সাথে তাদের কি পরিমান ব্যাকলিংক আছে ইত্যাদি ইত্যাদি তথ্য শো করছে। এই সব তথ্য থেকে আপনি চাইলে সহজে আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবেন।

৩। Ubersuggest টুল দিয়ে ফ্রি কিওয়ার্ড রিসার্চঃ

এটি সম্প্রতি জনপ্রিয় ওয়েবমাস্টার Neilpatel তৈরি করেছেন। এখন পর্যন্ত এটি ফ্রিতে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে আপনি যদি বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে চান তাহলে Ubersuggest দিয়ে করতে পারবেন না। এটি দিয়ে ইংলিশ কিওয়ার্ড রিসার্চ খুব সহজে করা যায়। এ টুলটি ফ্রি হওয়া সত্বেও এটিতে প্রায় সকল ধরনের ফিচার্স রয়েছে।
Ubersuggest টুল দিয়ে ফ্রি কিওয়ার্ড রিসার্চ

kw

উপরের চিত্রে দেখুন কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার প্রায় সবটুকু Ubersuggest টুলটিতে রয়েছে। এখানে আমি মাত্র একটি স্ক্রিনশট নিয়েছে। এগুলো ছাড়া এই টুলস এ অসংখ্য ফিচার্স রয়েছে। ভবিষ্যতে আমি এই টুল দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার একটি পূর্ণাঙ্গ টিউটরিয়াল শেয়ার করব।

৪। গুগল সার্চ হতে কিওয়ার্ড রিসার্চঃ

এটি এক ধরনের সহজ ট্রিকস। এই ট্রিকস অনুসরণ করে খুব সহজে গুগল হতে যেকোন কিওয়ার্ড সম্পর্কে আইডিয়া নিতে পারেন। নিচের চিত্রে দেখুন-

kw

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি? কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করতে হয়?

উপরের চিত্রে দেখুন গুগল সার্চ বক্সে “এসইও” লিখে সার্চ করার ফলে আরো অনেকগুলো কিওয়ার্ড অটোমেটিক সাজেস্ট করছে। গুগল এখানে সেই কিওয়ার্ড সাজেস্ট করে যেই কিওয়ার্ডগুলো সচরাচর গুগলে খুঁজা হয়। কাজেই আপনার কাঙ্খিত কিওয়ার্ড এর অন্যান্য জনপ্রিয় কিওয়ার্ড সম্পর্কে গুগল থেকে সহজে ধারনা নিতে পারেন।
কিভাবে ব্লগে Keywords ব্যবহার করবেন?

শুধুমাত্র কিওয়ার্ড রিসার্চ করলেই হবে না। আপনার রিসার্চে প্রাপ্ত কিয়ার্ডগুলোর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। আপনি যে বিষয়ে পোস্ট লিখবেন সেই আর্টিকেল এর বিষয়বস্তুর কাঙ্খিত Keyword গুলোর Density বজায় রেখে যত সুন্দরভাবে যথাস্থানে ব্যবহার করতে পারবেন, সার্চ ইঞ্জিন পোষ্টটিকে তত বেশি গুরুত্ব দেবে। নিচের কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে আপনার বাছাইকৃত কিওয়ার্ড এর সঠিক ব্যবহার করতে পারেন।

Long Keywords ব্যবহারঃ
আপনার ব্লগটি যদি নতুন হয় এবং ব্লগের র‌্যাংকিং কম হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই ছোট কীওয়ার্ড এর পরবর্তী বড় কীওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। কারণ নুতন ব্লগের পক্ষে ছোট কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক পাওয়া খুব দুরূহ ব্যাপার। সে ক্ষেত্রে আপনি বড় এবং Low Competition এর কীওয়ার্ডগুলি ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া অধিকাংশ ওয়েবমাষ্টারদের মতে বড় কীওয়ার্ড ব্যবহার করে সহজে সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব হয়। আপনার ব্লগ যখন পুরাতন হয়ে যাবে এবং র‌্যাংকিং বাড়তে থাকবে, তখন ছোট এবং High Competition এর কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

জনপ্রিয় কিওয়ার্ড ব্যবহারঃ

যে বিষয় নিয়ে ভিজিটরদের প্রচুর পরিমানে আগ্রহ রয়েছে, সম্ভব হলেও সে ধরনের কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন। কারণ আপনি যদি এমন কোন টপিক নিয়ে লিখেন যে বিষয়ে ইন্টারনেটে খুব কম সার্চ করা হয়, তাহলে সে কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করে কোন সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। জনপ্রিয় কীওয়ার্ডগুলি High Competitive হলে সেগুলির সাথে আরও কিছু কীওয়ার্ড যোগ করে ব্যবহার করতে পারেন।

Keyword Density:
কীওয়ার্ড ডেনসিটি হল কত বার একটি ওয়ার্ড আপনার ব্লগের কোন একটি পোষ্টে আছে। ধরুন আপনার একটি ওয়েবসাইটের কোন পেইজে ১০০ শব্দ আছে, আর সেই ১০০ শব্দের মধ্যে ৫ বার কীওয়ার্ড ব্যবহার করলেন। তাহলে বলা যাবে 5 টাইমস কীওয়ার্ড ব্যবহার হয়েছে এবং সেখানে কীওয়ার্ড ডেনসিটি হল ৫%। আমি মনে করি একটি ওয়েবসাইটের কীওয়ার্ড ডেনসিটি সাধারণত ৫-৭% এর মধ্যে থাকা উচিত। আপনার ব্লগ পোষ্টের প্রথম এবং শেষ অংশসহ পোষ্টের Image ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি ব্লগারে ওয়ার্ডপ্রেসের মতন ডাউনলোড লিংক এর সময় বা টাইমার এড্ড করতে চান তাহলে আমার ব্লগে পাব্লিশ করা এই পোষ্ট টিকে দেখতে পারে।

Leave a Reply