[ব্যবসা-০৯] ওয়ালটন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কি ভাবে লোক নিয়োগ দেওয়া হয় ? এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জানবো

আজ আমি শেয়ার করতে চলেছি, একটি বাংলাদেশী ব্র্যান্ড নিয়ে ৷ 

যার নাম ওয়ালটন ৷ ওয়ালটন কে আমরা সবাই কম বেশি চিনে থাকবো না চিনলেও আজকে থেকে চিনবো ৷ দামে কম আবার জিনিস ভালো ৷

ওয়ালটন হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম একটি গ্রুপ ফ্যাক্টরি ৷ ওয়ালটন মূলত তিনটি শাখায় একটি গুরুপ ৷ তিনটি শাখা হচ্ছে ওয়ালটন মোটরস, ওয়ালটন মোবাইল ও ওয়ালটন ইলেক্ট্রনিক্স ৷

 

ওয়ালটন: WALTON হচ্ছে একটি বাংলাদেশী ব্র্যান্ড; যার প্রধান অফিস ঢাকায় অবস্থিত। এর মূল কারখানাটি গাজীপুর জেলার চন্দ্রাতে অবস্থিত। ওয়াল্টন গ্রুপ এর প্রায় সকল পণ্য ওয়াল্টন নামে বাজারজাত করা হয়। ওয়াল্টন মটর্স, ওয়ালটন (মোবাইল) ও ওয়াল্টন ইলেক্ট্রনিক্স হচ্ছে এই গ্রুপের অধীনস্থ তিনটি শাখা। ওয়ালটন ইলেক্ট্রনিক পণ্য, যানবাহন ও টেলিযোগাযোগের পণ্য গুলো উৎপাদন করে থাকে।

Walton logo:

WALTON ওয়েসাইট☞ http://waltonbd.com

WALTON প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

এস এম নজরুল ইসলাম (জন্ম: ৭ মে ১৯২৪ – মৃত্যু: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭) 

(এস এম নজরুল ইসলাম)

বাংলাদেশের প্রখ্যাত একজন ব্যবসায়ী। তিনি ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি ওয়াল্টন গ্রুপ ও মার্সেল গ্রুপ দুটির প্রতিষ্ঠাতা। প্রথমে তিনি রেজভি এন্ড ব্রাদার্স নামে ১৯৭৭ সালে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যার সংক্ষিপ্ত নাম ছিলো আরবি গ্রুপ ।

বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রিজভী ৷

 

ইতিহাস:

ওয়ালটন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ করদাতাদের মধ্যে একটি এবং দেশের অর্থনীতিতে এর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। ওয়ালটন বাংলাদেশের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। এটি বাংলাদেশে ফ্রিজের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতকারক, যার বাজারে সর্বোচ্চ বাজার শেয়ার রয়েছে।

 

এস. এম নুরুল আলম রিজভির হাত ধরে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্বরূপ যাত্রা শুরু করে ওয়াল্টন গ্রুপ (১৯৭৭) । তবে এর মূল প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন এস এম নজরুল ইসলাম। যিনি বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রিজভির পিতা। প্রথমে তারা ওয়াল্টন ইস্পাত শিল্পে প্রবেশ করেছিল (১৯৭০) এরপর ইলেক্ট্রনিক্স ও অটোমোবাইল ব্যবসায় প্রবেশ করে (২০০০)।

 

পন্যঃ

ওয়াল্টন মোবাইল 

ওয়াল্টন মোবাইল হচ্ছে অন্যতম সর্বোচ্চ বিক্রিত পণ্য । বাংলাদেশে বিক্রি হয়েছে ওয়াল্টনের অ্যানড্রয়েড মোবাইল। বর্তমানে তরুণদের পছন্দ ওয়াল্টনের স্মার্টফোন ।

 

ওয়াল্টন মোটর সাইকেল   

ওয়াল্টন মোটর সাইকেল ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক উৎপাদিত হয়। অন্যতম বিক্রিত মোটর সাইকেল বাংলাদেশে । এগুলো তৈরি করতে জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

 

রেফিজারেটর এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং

   

বাংলাদেশে ঘরে ঘরে বলতে গেলে রেফিজারেটর ৷ তাদের বেশির ভাগ ওয়ালটন ফ্রিজ ৷ অন্যন্য কম্পানির থেকে ওয়ালটন সার্ভিসিং ভালো দেয় ৷ 

এয়ারকন্ডিশন ঘরে ঘরে না হলেও তারা এই প্রযুক্তি খুব অল্পদিনই শুরু করেছে এবং ভালো সার্ভিস দিচ্ছে এই এয়ারকন্ডিশন ৷

টেলিভিশন:

ওয়ালটন টেলিভিশন বাংলার বাজারে অনেক গরিব লোকজনের রঙ্গিল ছবির গুনিয়া উপহার দিয়েছে ৷ গরিব ধনির টেলিভিশনের চাহিদা পুরন করেছে  ৷

কম্পিউটার:

প্রথম বারের মত দেশীয় কারখানায় ওয়ালটন কম্পিউটার ও মনিটর বানানো শুরু করা হয় ২০১৮ সালে ।

 

এছাড়াও ওয়াটার পাম্প তৈরী করে ওয়ালটন ৷

 

✧ওয়ালটন কারখানাঃ

-ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড:

এটি ওয়াল্টন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০২-২০০৬ সালে তৈরী হয় । এখানে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, মটর সাইকেল, এ.সি তৈরি করা হয়।

 

-ওয়াল্টন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশন:   

ওয়াল্টন মাইক্রো-টেক কর্পোরেশন ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রির পাশেই অবস্থিত। এখানে টিভি (এলসিডি, সিআরটি), হোম এপ্লায়েএন্স (ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার, রিচার্জেবল ফ্যান, হেয়ার ড্রায়ার, ডিভিডি প্লেয়ার ইত্যাদি), এলইডি লাইট, ব্যাটারি, ইলেক্ট্রিক মটর ইত্যাদি তৈরী করা হয় ৷

 

কেউ কখনো যদি ওয়ালটনে চাকরি নিতে যান তাহলে অবশ্য রেফার লাগবে ৷ রেফার থাকলে চাকরির ১০০ভাগ হবে ৷ এই কম্পানিতে বারোমাস লোক নিয়োগ চলে ৷ মাসের প্রতিদিন না হলেও প্রিতি সপ্তাহে নিয়োগ চলে ৷ এখানে CV জমা দিতে হয় ৷ একদিন cv জমা দিবার জন্য যেতে হবে পরে তাদের ফোনে ডাকা হয় এবং কিছু সহজ লিখিত ও মৌখিক ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে চাকরিতে যোগদান করানো হয় ৷ 

নোটঃ মনে রাখবেন রেফার ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব নয় ৷ cv তে রেফার কারির নাম, আইডি নাম্বার, ও সাক্ষর ৷ রেফার কারিকে চাকরির সময় ডাকতে হবে এবং নিশ্চত করকে হবে সে আপনাকে চেনে বা রেফার করেছে ৷

 

আজ ওয়ালটন সম্পর্কে দানলাম কাল আবার অন্য কিছু নিয়ে আসবো ধন্যবাদ ৷

 

তথ্য সুত্রঃ সমকাল এবং ওয়ালটন ৷

 

Leave a Reply