কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

আসসালামুআলাইকুম, ও হিন্দু ভাইদের আদাব। আশা করি সবাই ভাল আছেন। প্রতিবারের মতো আবারো আরেকটা আর্টিক্যাল নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের মাঝে। টাইটেল দেখে হয়তো সবাই বুঝে গেছেন, আজকে কোন বিষয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি। আজকের বিষয় হলো কালোজিরার উপকারিতা ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম। আমরা কম-বেশি অনেকে হয়তো জানি যে কালোজিরার গুন রয়েছে অনেক। সাধারণত ঠান্ডা লাগলে ও আমরা কালোজিরা খেয়ে থাকি। এই কালোজিরা শুধু ঠান্ডার জন্য না, আরো বিভিন্ন উপকারী গুন রয়েছে। আজকে আপনাদের মাঝে এই কালোজিরা এর গুন গুলো জানাবো। ছোট থেকে আমরা এই কালোজিরা দেখে আসছি। কালোজিরা ও মধুর কথা ও আমরা অনেক শুনে আছি।
কালোজিরায় রয়েছে অনেক ভাল ঔষুধি গুন,যা আজকে আপনারা বুঝতে পারবেন।

তবে বিশেষ করে ঠান্ডা নিরাময় এ কালোজিরা বেশি ভুমিকা রাখে।
কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক, কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতাঃ

১] শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতেঃ

যে শিশুর বয়স ২ বা তার একটু বেশি, সেই সমস্ত শিশুদের কালোজিরা খাওয়ান। কারন কালোজিরা শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কালোজিরার তেল ও খাওয়াতে পারেন।

২] আমাশয় নিরাময়েঃ

আমাশয় রোগের জন্য কালোজিরা অনেক আগে থেকে ব্যাবহৃত হচ্ছে। কালোজিরা আমাশয় রোগের ভাল একটা কাজ করে। আমাশয় হলে এক চা -চামচ সাথে সমপরিমান কালোজিরার তেল ও মধু মিশিয়ে দিনে ৩ বার ২/৩ সপ্তাহ খেলে সেড়ে যাবে আমাশয়।

৩] বুকের দুধ বৃদ্ধি করতেঃ

যে সমস্ত মায়ের বুকের দুধের অভাব, তাদের জন্য কালোজিরা অনেক কার্যকারি। প্রতিরাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম৷ কালোজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে হবে। ১০-১৫ দিনেই দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে।

৪] অনিয়মিত মাসিক সমস্যায়ঃ

যে সব মেয়েদের অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক হয়। তাদের জন্য কালোজিরা অনেক উপকারী।
কাপ কাপ কাচা হলুদ বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক চা -চামস কালোজিরার তেল, দৈনিক তিনবার খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৫] যৌন সমস্যাঃ

কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয় এর যৌন ক্ষমতা বাড়ায়। কোনো ছেলে বা মেয়ের যৌন কোনো সমস্যা থাকলে কালোজিরা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

এক চা চামচ মাখন,এক চা চামস জাইতুন তেল সমপরিমান ও কালোজির মিশিয়ে খেলে ভাল ফল পাবেন।

৬] ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনেঃ

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে ব্যাপক কাজ করে এই কালোজিরা। এক চিমটি কালোজিরা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাবেন।
আপনি ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে ভাল ফল পাবেন।

৭] শ্বাসকষ্ট বা হাপানী রোগ সারাতেঃ

যাদের শ্বাসকষ্ট বা হাপানী রোগ আছে, তাদের জন্য কালোজিরা খুব বেশি উপকারী। যাদের এই শ্বাসকষ্ট বা হাপানী তারা প্রতিদিন খাবারের তালিকায় কালোজিরা ভর্তা রাখুন।দেখুন আপনার শ্বাসকষ্ট বা হাপানী রোগ সারাতে ব্যাপক ভুমিকা রাখে এই কালোজিরা।

৮] পাইলস সমস্যা সমাধানঃ

যাদের এই পাইলস এর সমস্যা আছে, তারা কালোজিরা খাবেন, তাদের এই সমস্যা দূর হবে।
এক চা চামস-মাখন,সমপরিমাণ তিলের তেল,এক চা চামচ কালোজিরার তেল প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৯] ব্লাড- প্রেসার নিয়ন্ত্রন রাখতেঃ

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রন রাখতে কালোজিরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
প্রতিদিন সকালে, ২ টি রসুনের কোষ চিবিয়ে খেয়ে, পুরো শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করতে হবে। তার পর সূর্যের তাপে আধা ঘন্টার মতো থাকতে হবে। এবং এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু সহ প্রতি সপ্তাহে ১/৩ দিন খেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে ব্যাপক ভুমিকা পালন করবে।

১০] স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতেঃ

কালোজিরা স্মরন শক্তি বৃদ্ধিতে অনেক ভুমিকা পালন করে। এক চা চামস কমলার রস,এবং এক চা চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিন বার খাবেন, যা আপনার স্মরন শক্তি বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করবে।

১১] মাথা ব্যাথা নিরাময়ঃ

কালোজিরা মাথা ব্যাথা নিয়ন্ত্রন করে। ২ চা চামচ কালোজিরার তেল মাথায় লাগালে ও ১ চা চামস কালো জিরার তেল মধু সহ দিনে তিনবার করে ২/৩ সপ্তাহ খেলে, মাথা ব্যাথা নিরাময় এর উপকার পাবেন।

১২] সর্দি সারাতেঃ

এক চা চামস কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু ও এক কাপ রঙ চায়ের সাথে মিশিয়ে দিনে ৩ বার খেতে হবে। এবং এক চা চামচ কালোজিরার সাথে তুলশি পাতার রস সমপরিমান খেতে হবে। তাহলে সর্দি,কাশি দূর হবে।

বাতের ব্যাথা দূর করনেঃ

যারা এই সমস্যায় ভুগছেন তারা সেই স্থানে কালোজিরার তেল মালিশ করুন। ভাল ফল পাবেন।

টেকনিক্যাল বিষয়ে যাবতীয় ভিডিও ও সমাধান পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুনঃ

Youtube Channel

আজ এ পযন্ত,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জ্ঞান আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেস্টা করি।
পরবর্তী ট্রিক এর জন্য অপেক্ষা করুন, আবারো ভাল কিছু নিয়ে হাজির হবো।
সে পযন্ত ভাল থাকুন,সুস্থ থাকুন।

যে কোনো প্রয়োজনে আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করতে চাইলেঃ- Sk Shipon

ধন্যবাদ

Leave a Reply