পবিত্র মাহে রমযান মাসে যে ১০ টি কাজ থেকে বিরত থাকবেন,জেনে নিন।

আসসালামুআলাইকুম।আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন।প্রতিবারের মতো আবারো আপনাদের মাঝে আরেকটি আর্টিক্যাল নিয়ে হাজির হলাম।টাইটেল দেখে অনেকে হয়তো বুঝে গেছেন, আজকে কোন বিষয় আপনাদের মাঝে লিখতে যাচ্ছি। আজকের বিষয় হলো,পবিত্র রমযান মাসে সে ১০ টি কাজ থেকে বিরত থাকবেন। চলছে পবিত্র রমযান মাস। মুসলমান আমাদের সবার উচিৎ আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা,এবং রোযা রাখা। রমযান মাসে এমন কিছু কাজ আছে, যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকা উচিৎ। আমরা অনেকে জানি না সে কাজগুলা কি।আজকের এই পোস্ট থেকে কাজ গুলো জেনে নিন।এবং চেস্টা করুন এই কাজগুলো রমযান মাসে কখনো করবেন না।রমযান মাসে অনেক ফজিলত আছে,আমরা এই ফজিলত গুলো মেনে চলবো। আমাদের সবার উচিৎ এই রমযান মাসে নিজেকে পরিবর্তন করা,এবং পাচ ওয়াক্ত নামায পড়ার অভ্যাস করা৷ কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক, পবিত্র মাহে রমযান মাসে যে ১০ টি কাজ করা থেকে বিরত থাকবেনঃ

১) দুনিয়াবি কাজে মগ্ন থাকাঃ

রমযান মাসে আমরা দুনিয়াবি কাজে ব্যাস্ত থাকি,আসলে এটা ঠিক না।কারন রমযান মাসে বেশি বেশি আমল করতে হবে। অন্তত রমযান মাসে আমাদের এই দুনিয়াবি কাজ ঝেড়ে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে,এবং বেশি বেশি ইবাদত ও আমল করতে হবে।

২) ফরয নামাজ আদায় এর অলসতাঃ

পবিত্র রমযান মাসে জামআতের সাথে ফরয নামায আদায় করতে হবে।অনেকে অলসতার কারনে ফরয নামায আদায় করে না। আমাদের সবার উচিৎ ফরয নামায কাযা না করা। কারন রমযান মাসে অনেক ফজিলত আছে।তাই আমাদের এই কাজ গুলো কখনো বাদ দেয়া উচিৎ না।

৩) তাড়াহুড়ো করে কুরআন খতমঃ

অনেকে রমযান মাসে তাড়াহুড়ো করে কুরআন পড়ে এবং তাড়াতাড়ি পড়া শেষ করে খতম দেয় এই পবিত্র রমযান মাসে। কিন্তু তাড়াতাড়ি করে কুরআন পড়লে কুরআনের হক আদায় হয় না।হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্নিত, যে কুরআন সুন্দর উচ্চারণে পড়ে না,সে আমার উম্মতের মধ্য শামিল না- সহি বুখারী -৭৫২৭।

৪) অপচয় ও অপব্যায় করাঃ

অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে এই রমযান মাসে অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। কারন অপচয় কারীকে আল্লাহ পছন্দ করে না।ইফতার ও সেহরিতে অপব্যায় করবেন না। যে টুকু দরকার সেটুকু ব্যাবহার করুন,অপব্যায় করা উচিৎ না। কুরআনে বলা হয়েছে,

“হে বনী আদম! তোমরা প্রতি নামাজে তোমাদের সাজসজ্জা পরিধান করো এবং খাও,পান করো, অপচয় করো না।নিশ্চয় তিনি অপচয় কারীদের পছন্দ করে না। সুরা আরাফ – ৩১।

৫) দান-সাদকা না করাঃ

পবিত্র এই মাহে রমযান মাসে, রমযান এর পাশাপাশি আমাদের সবার দান ও সাদকার মাধ্যামে ফজিলত অর্জন করতে হবে।এই রমযান মাসে বেশি দান সাদকা করতে হবে।এতিন,বিধবা এদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। এবং যাদের প্রতি জাকাত ফরয রয়েছে,তাদের জাকাত দিতে হবে। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও এই মাসে বেশি বেশি দান করতেন। তাই আমাদের এই মাসে বেশি বেশি ফজিলত অর্জন করতে হবে।

৬) সুন্যাহ ত্যাগ করাঃ

পবিত্র রমযান মাসে সুন্যাহ ত্যাগ করা যাবে না।এই মাসে আমাদের প্রত্যোকটা আমল হবে সুন্যাহ মোতাবেক। তাই এই রমযান মাসে আমাদের আমল সুন্যাহ মোতাবেক করা উচিৎ।

৭) মিথ্যা কথা ক অন্যান্য পাপ কাজঃ

রোযাদার ব্যাক্তি মিথ্যা বলা ও পাপকাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ। আল্লাহ তো সব দেখছেন, তাই পবিত্র রমযান মাসে আমাদের মিথ্যা কথা বলা ও পাপকাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এই মাস থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ।

৮) লাইলাতুলকদর তালাশ না করাঃ

রমযান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যে রাত হাজার মাসের এর থেকে উত্তম, সে রাত হলো লাইলাতুলকদর এর রাত। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

“কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম” সুরা কদর -৪।

৯) বিলম্বে ইফতার করাঃ

বিলম্বে ইফতার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।সময় মতো ইফতার করতে হবে। কারন আল্লাহ তো সব দেখেন, আল্লাহকে তো কোনো কাজে ফাকি দেয়া যাবে না। তাই আমাদের উচিৎ বিলম্বে ইফতার না করা।

১০) সাহরি না খাওয়াঃ

অনেকে সাহরি না খেয়ে আগে রাতে শুয়ে পড়েন। এই কাজটা কখনো করা উচিৎ না,এটা সুন্যাহ পরিপন্থি। কারন ইহুদি ও খ্রিস্টান রা সাহরি খায় না। তাই এই কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

টেকনিক্যাল বিষয়ে যাবতীয় ভিডিও ও সমাধান পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুনঃ

Youtube Channel

আজ এ পযন্ত,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জ্ঞান আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেস্টা করি।

পরবর্তী আর্টিক্যাল এর জন্য অপেক্ষা করুন, আবারো ভাল কিছু নিয়ে হাজির হবো।
সে পযন্ত ভাল থাকুন,সুস্থ থাকুন।

যে কোনো প্রয়োজনে আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করতে চাইলেঃ- Sk Shipon

ধন্যবাদ

Leave a Reply