যেনে নিন রুযী রােজগার, ব্যবসা-বাণিজ্যের মাসআলা সম্পর্কে


আসসলামুয়ালাইম

পরম করুনাময়,অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ পাকের নামে শুরু করছি।
কেমন আছেন সবাই?আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে হাজির হয়েছি… রুযী রােজগার, ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ে আশা করি আপনাদের কে ভালো লাগবে,,,!

বর্ণনা হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, অন্যান্য ফরয কাজ পালন করার পর হালাল
তরীকায় উপার্জন করাও একটি ফরয । আর নিজ হাতের কামাই হলাে সর্বোওন কামাই। হযরত দাউদ (আ.) স্বহত্তে উপার্জন করে জাবিকা নির্বাহ করতেন।
তিনি নিজ হাতে লৌহবর্ম তৈরী করতেন।
দ্বিতীয় পর্যায়ের উত্তম উপার্জন হলাে ও পবিত্র ব্যবসা বাণিজ্য অর্থাৎ যা
সকল প্রকার ধোকাবাজিমুক্ত ও শরিয়ত অনুমােদিত।

মাসআলাঃ-

শরীয়তের দৃষ্টিতে বিক্রিত বস্তু যদি মাল না হয় যেমনঃ মৃত প্রাণী,
রক্ত অথবা স্বাধীন ব্যক্তি তবে সে বিক্রয় বাতিল বলে গণ্য হবে। তদ্রপ, যদি তা শরীয়তের দৃষ্টিতে মাল হয় বটে, তবে তা মূল্যহীন এবং তদ্বারা উপকৃত হওয়া
যায় না, তার বিক্রয়ও বাতিল বলে গণ্য হবে। যেমন ও শূন্যে উড়ন্ত পাখি,
সমুদ্রের মাছ, শরাব শুকর ইত্যাদি।

মাসআলাঃ-

যদি শরীযতের দৃষ্টিতে মূল্যহীন মাল টাকা পয়সার বিনিময়ে বিক্রয় হয়, তবে এই বেচাকেনা বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি বিনিময় পণ্য সামগ্রী হয়। তবে পণ্য সামগ্রীর বিক্রয় ফাসেদ ও শরাব জাতীয় মূল্যহীন জিনিসের বিক্রয় বাতিল বলে পরিগণিত হবে।

মাসআলাঃ-

বাইরে বাতিল বা বাতিল বিক্রয় এর মাধ্যমে ক্রেতা ক্রয়কৃত মলের মালিক হয় না এবং বাইরে ফাসেদ বা ফাসেদ বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রয়কৃত মাল
ক্রেতার হাতে আসার পর মালক হয়ে যায়। কিন্তু এ বিক্রয় ভেঙ্গে দেওয়া
ওয়াজিব।

মাসআলাঃ-

দুধ স্তনে থাকা অবসস্থায় বিক্রয় করা বাতিল। কেননা। স্তনে দুধ
থাকা না থাকার ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ আছে। হতে পারে বাতাসে স্তন
ফুলে আছে।

মাসআলাঃ-

যে ক্রয় বিক্রয়ের পরিনামে ঝগড়ার সৃষ্টি হয় , সে ক্রয় বিক্রয় ফাসেদ। যেমন ভেড়া বা বকরির পশম পিঠে থাকাবস্থায়, লাকড়ী ছাদে থাকাবস্থায় বিক্র করা বা থানের মধ্যে থেকে এক গজ কাপড় বিক্রি কর অথবা বিক্রিত মালের মূল্য পরিশােধের সময় সীমা নির্ধারণ না করা। অবশ্য ক্রেতা যদি
এমতাবস্থায় ক্রয় বিক্রয়ের পূর্ব চুক্তি না ভেঙ্গে লাকড়ী ছাদ থেকে পৃথক করে
নেয়, গজ দ্বারা কাপড় কেটে থান থেকে পূথক করে নেয় অথবা ক্রেতা মালের
মূল্য বাকী না রেখে নগদ পরিশােদ করতে দেয়, তবে বিক্রয় ছহীহ ও অপরিহার্য হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ-

ফাসেদ শর্ত সংযুক্ত হলে ক্রয় বিক্রয় ফাসেদ হয়ে যায়। যে শর্ত
ক্রয় বিক্রয় চুক্তির আওতায় আসে না, তাকে শর্তে ফাসেদ বলে। তাছাড়া যে
শর্ত দ্বারা ক্রেতা, বিক্রেতা বা বিক্রিত মালের অতিরিক্ত ফায়দা হাছিল হয়
তাকেও শর্তে ফাসেদ বলা হয়।

মাসআলাঃ-

ক্রেতার বিক্রিত পণ্যের মালিক হওয়ার শর্ত আরােপ করা চুক্তির এরূপ শর্তকে শর্তে ফাসেদ ধরা হবে না। এ জামাটি এরূপ শর্তারূপ করে ক্রয় বিক্রয় চুক্তির
বিরুদ্ধে নয়। কেননা এতে ক্রেতা বিক্রেতা কারও কোন ফায়দা নেই। সুতরাং আওতাভূক্ত। অতএব
অন্যত্র বিক্রয় করতে পারবে না
এরূপ শর্ত ফাসেদ নয়।
যদি কেউ শর্ত করে যে ক্রেতা এই ঘােড়াটি কিনে ঘাস লতা খাইয়ে মােটা
তাজা করবে। এ শর্ত দ্বারা যদিও বিক্রিত বস্তু লাভবান হচ্ছে কিন্ভ সে মানুষ না হাওয়ার কারণে লাভবান হওয়ার অধিকার বা যােগ্যতা তার মধ্যে নেই। সুতরাং এ জাতীয় শর্ত ফাসেদ নয়। এ জাতীয় শর্ত ফাসেদ নয়। এ জাতীয় শর্ত
নিরর্থক ও বেকার। সুতরাং বিক্রয় ছইীহ বলে গন্য হবে।
ঘর বিক্রেতা যদি শর্তারােপ করে যে, সে বিক্রিত ঘরে একমাসে অবস্থান
করবে। তবে এ শর্তে যেহেতু বিক্রেতার স্বার্থ আছে, তাই এ শর্ত ফাসেদ হবে।
এমনি ভাবে কাপড় ক্রয়কারী যদি শর্ত লাগায় যে বিক্রেতা এই কাপড় দিয়ে জান সেলাই করে দিবে, তাহলে এ শর্ত দ্বারা ক্রেতার স্বার্থ উদ্ধার হওয়ার কারণে ইহ্য কলেদ হবে। যদি কেউ গােলাম বা ক্রীতদাস ক্রয় করার সময় শর্তারােপ করে যে, গালামটিকে ক্রয় করার পর আযাদ করে দিতে হবে। তবে এ শর্তও ফাসেদ বলে গণ্য হবে। কারণ, এতে বিক্রিত ব্তুতে গােলামের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। মােট কথা, এ জাতীয় শর্তারােপে ক্রয়-বিক্রয় কাসেদ বলে বিবেচিত হবে।
বাইয়ে বাতিল ও ফাসেদ সম্পর্ক্ক এর চাইতে আরও বিস্তারিত আলােচনা কেকাহর অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় হতে বেঁচে থাকা ওয়াজিব।

আশা করি আপনাদের ভাল লেগেছে…।

সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ।
দেখা হবে পরের পোস্টে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে !
ধন্যবাদ সবাইকে…

Credit -> Tipsjano24.com.

Leave a Reply