ডোমেইন ও হোস্টিং কি?ডোমেইন হোস্টিং কেনার পূর্বে বিবেচ্য বিষয়।

ডোমেইন ও হোস্টিং কি?ডোমেইন হোস্টিং কেনার পূর্বে বিবেচ্য বিষয়।

যারা ওয়েবসাইট তৈরি করার কথা ভাবছেন, বা অলরেডি তৈরি করে ফেলেছেন তাদের কাছে ডোমেইন এবং হোস্টিং অতি পরিচিত একটি নাম। ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে ডোমেইন ও হোস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডোমেইন কি?ডোমেইন হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট এর নাম। যে নামের মাধ্যমে সার্চ করে লোকজন আপনার ওয়েবসাইট খুঁজে পাবে।প্রত্যেক ওয়েবসাইট এর একটি নির্দিস্ট আইপি এড্রেস থাকে।যেমন ৬৬.১১০..০.১৫৯
সাধারণত আইপি এড্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট মনে রাখা খুব কঠিন। তাই আইপি এড্রেস এর পরিবর্তে ডোমেইন নেম দ্বারা ওয়েবসাইট
এর নাম জানা যায়।
ধরুন www.facebook.com ও www.google.com দুটি ওয়েব এড্রেস। এখানে facebook ও google হচ্ছে ডোমেইন নেম ও. Com অংশটি হচ্ছে ডোমেইন এক্সটেনশন। আরও অনেক-ধরনের এক্সটেনশন রয়েছে যেমন,.Net,.org, info সহ আরও অনেক।

বিভিন্ন ধরনের ডোমেইন:

ডোমেইন আবার কয়েক ধরনের হয়ে থাকে, যেমনঃTLD,gTLD, OSLD,ccTLD.

TLD(Top level domain)

.com,.org,.net,.info এইগুলো হচ্ছে টপ লেভেল ডোমেইন। এইগুলো সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

gTLD(generic top level domain)

ডোমেইন গুলোর মধ্য যেগুলো কোন দেশের সাথে সংশ্লিষ্ট না তাদেরকে জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন বা gTLD,বলে।. com,.info,.org ইত্যাদি।

OSLD(sub level domain)

সহজ কথায় সাব ডোমেইন হচ্ছে একটি ডোমেইন এর আন্ডারে আরেকটি ডোমেইন।
মুল ডোমেইন এর নাম ঠিক রেখে এর আগে পরে কিছু শব্দ যোগ করে সাব ডোমেইন তৈরি করা হয়।

ccLTD(Country code top level domain)

বিভিন্ন দেশের নাম-ভিত্তিক যে ডোমেইনগুলো
থাকে তাকে ccTLD ডোমেইন বলা হয়।
যেমনঃ.bd,.uk,.au,.in ইত্যাদি।
এছাড়া ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে উপরে আলোচিত ডোমেইন এর পাশাপাশি বিভিন্ন ডোমেইন এক্সটেনশন এসেছে।
আপনি আপনার নিশ সিলেক্ট করে পছন্দমত ডোমেইন এক্সটেনশন নিতে পারবেন।
যেমনঃ.club,.fun, design,.shop,.service
ইত্যাদি।

This image has an empty alt attribute; its file name is pexels-photo-2881233-1-3-1024x576.pngWhat is Domain And Hosting

হোস্টিং কি?

আপনি একটি ডোমেইন কিনলেন মানে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর একটি নাম কিনলেন।এখন আপনার ওয়েবসাইট এর বিভিন্ন টেক্সট,ফাইল,ছবি,কন্টেন্ট,ভিডিও
একটি যায়গায় রাখতে হবে। যা ২৪ ঘন্টা ও বছরে ৩৬৫ দিন চালু থাকবে।আর সেই নির্ধারিত স্থানটি হচ্ছে হোস্টিং।
আপনি চাইলে আপনার কম্পিউটারে আপনার ওয়েবসাইট টি রাখতে পারেন কিন্তু তা অত্যন্ত ঝামেলা-যুক্ত একটি কাজ।
আপনার যদি কম্পিউটার বন্ধ থাকে ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি অফ থাকবে। ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট খুঁজে পাবেনা।
তাই বাংলাদেশ ও বিশ্বের অনন্য হোস্টিং কোম্পানি গুলো কিছু টাকার বিনিময়ে ওয়েবসাইট হোস্ট করে থাকে।

হোস্টিং ও আবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
এদের মধ্য মূলত যেগুলো সবচেয়ে বেশি
ব্যবহার করা হয় ব্লগ এবং ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য সেগুলি হলো,
শেয়ার্ড হোস্টিং,ভিপিএস হোস্টিং,ডেডিকেটেড হোস্টিং ও ক্লাউড হোস্টিং।

শেয়ার্ড হোস্টিংঃ(Shared hosting)

সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত হোস্টিং হচ্ছে শেয়ার্ড হোস্টিং। এই হোস্টিংয়ে একসাথে অনেক-জনের ওয়েবসাইট একসাথে থাকে।
১০ বা অধিক ক্লাইন্ট এর ওয়েবসাইট এই সার্ভারে থাকে।তাই তুলনামূলক ভাবে এই সার্ভারে নিরাপত্তা কম। তাছাড়া একটি ওয়েবসাইট এ যদি ভিজিটর বেশি থাকে,
তাহলে অনন্য ওয়েবসাইট লোড হতে সময় বেশি নিবে,স্লো কাজ করবে।

ভার্চুয়াল প্রাইভেট হোস্টিং (Virtual private hosting)

সার্ভারকে একটি বিল্ডিং এর সাথে তুলনা করা হয়। এখন বিল্ডিংয়ে অনেকগুলো
রুম থাকে। একেক রুমে একেকজন থাকে।
কেউ কারো রুমে যেতে পারেনা।ঠিক একই ভাবে একটি ওয়েভ সার্ভার কে অনেকগুলি ভাগ করা হয়।একেকটি ভাগে সম্পূর্ণ একটি ওয়েবসাইট থাকে।যার ফলে ওয়েবসাইট হয় সুপার সুপার ফার্স্ট। চাপ কম থাকার কারনে
তাড়াতাড়ি লোড হয়, অনেক-বেশি নিরাপদ থাকে।ওয়েবসাইট এ যদি বেশি ভিজিটর থাকে, ওয়েবসাইটটি যদি বেশি পপুলার থাকে তাহলে ভিপিএস হোস্টিং নেওয়া উচিৎ।

ডেডিকেটেড হোস্টিংঃ(Dedicated Hosting)

অনন্য হোস্টিংয়ে আপনাকে সার্ভার এর একটি ভাগ দেওয়া হয়,শেয়ার করা হয়।
কিন্তু ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ে আপনাকে সম্পূর্ণ সার্ভার দেওয়া হয়।এক্ষেত্রে এখন একটি রুম নয়, পুরো একটি বিল্ডিং এর মালিক আপনি।

ক্লাউড হোস্টিংঃ

সাধারণত কোন ওয়েবসাইট যখন হোস্ট করা হয় তা কেবল একটি সার্ভারে থাকে।
কিন্তু ক্লাউড হোস্টিংয়ে আপনার ডাটা অনেকগুলো সার্ভারে থাকে।এবং সেখান থেকে ভিজিটর এর কাছে পৌছায়।
যার ফলে আপনার ওয়েবসাইট কখনো ক্রাস করে না। কারন ডাটা অনেকগুলো সার্ভারে থাকে।এক্ষেত্রে ওয়েবসাইট হয় সুপার সুপার ফার্স্ট।

এইবার যেনে নেওয়া যাক, ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার বিবেচ্য বিষয় গুলো।

১/ডোমেইন কেনার আগে যেনে নিন, ডোমেইন এর ফুল কন্ট্রোল আপনাকে দিবে কিনা।

২/ডোমেইন লক অপশন আছে কিনা।

৩/ডোমেনটি ব্লাকলিস্টেড কিনা।

৪/দাম যাচাই করুন।

৫/চুরি-কৃত ডোমেইন কিনা থেকে বিরত থাকুন।

ডোমেইন কেনার পর পরই আপনি আপনার ওয়েবসাইট রান করতে পারবেন না।এর জন্য
অবশ্যই আপনাকে একটি হোস্টিং কিনতে হবে।

১/ আপনার ওয়েবসাইট করতে কত পরিমাণ
জায়গা লাগবে, প্রাথমিক অবস্থায় আপনার ভিজিটর কেমন আসতে পারে সে অনুযায়ী হোস্টিং প্যাকেজ ক্রয় করুন।

২/হোস্টিং কেনার আগে তাদের কোম্পানি সম্পর্কে জানুন।ফিডব্যাক দেখুন।সবকিছু ভালো হলে অর্ডার করুন।

৩/আপনার কোন ধরনের হোস্টিং প্রয়োজন সে অনুযায়ী হোস্টিং প্যাকেজ ক্রয় করুন।

৪/সার্ভার আপটাইম কত এবং সাপোর্ট কি সার্বক্ষণিক কিনা।
৫/সিপ্যানেল বা হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল
আপনাকে দিবে কিনা, যা আপনার হাতেই থাকতে হবে।

৬/ব্যান্ডউইথ কত জিবি এইসব দেখে নিবেন কারন কম ব্যান্ডউইথ এর কারনে আপনার ওয়েবসাইট ব্যাহত হতে পারে।তাই আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটর এর উপর নির্ভর করে যত জিবি ব্যান্ডউইথ লাগে তত জিবি নিবেন।

একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং আপনার আজীবন এর সম্পদ। তাই সেটি যেখান সেখান থেকে রেজিস্ট্রেশন না করে ডোমেইন হোস্টিং কেনার আগে উপরের বিষয়গুলির দিকে খেয়াল রাখুন।

ডোমেইন ও হোস্টিং কি

Credit -> Projukti71.Com.

Leave a Reply